দুই অধিনায়কের মধ্যে অন্যরকম মিল। দু’জনেই খেলেছেন ৯২টি করে টেস্ট; আর শুরুটা হয়েছে সেঞ্চুরি দিয়ে। দুটোই আবার ভারতের বিপক্ষে। আর সবচেয়ে বড় মিল হল ৯৩তম টেস্টে দুই অধিনায়কই দলের অধিনায়ক হয়ে মাঠে নামছেন। ট্রেন্টব্রিজে আগামীকাল লড়াইয়ে মাঠে নামছেন ইংলিশ অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক ও অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। কিন্তু লড়াইটার নাম যখন অ্যাশেজ তখন আর সেটা ব্যক্তিগত লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না।
অ্যাশেজ শুরুর আগে দুই অধিনায়কই নিজেদের পারফরম্যান্স ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন। আর, টেস্ট ক্রিকেটের প্রাচীনতম লড়াইটির মধ্য দিয়েই হয়তো শেষ পর্যন্ত তাদের মধ্যে ব্যবধানটি বেরিয়ে আসবে। আগামীকাল বুধবার নটিংহ্যামে শুরু হচ্ছে সিরিজের প্রথম টেস্ট।
ব্যাট হাতেই এই দুই অধিনায়ক নিজেদের সেরার আসনে তুলে আনলেও কুক এখন একজন জনপ্রিয় নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। কেভিন পিটারসেনের মত তারও রয়েছে যে কোন ধরনের ‘বাজে’ পরিস্থিতি সামাল দেয়ার সক্ষমতা। তবে ময়দানী লড়াইয়ে ক্লার্কের মত কৌশলী, দূরদর্শী এবং সাবধানী অধিনায়কের বিপক্ষে তিনি তার সদস্যদের কিভাবে পরিচালনা করবেন সেটিই একটি বড় প্রশ্ন। ২৮ বছর বয়সী কুক ইতোমধ্যে ২৫টি টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক বনে গেছেন, যা কোন ইংলিশ ব্যাটসম্যান হিসেবে সর্বোচ্চ। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হোম সিরিজ হারের পর ওপেনিং পার্টনার এন্ড্রু স্ট্রস অবসর গ্রহণ করলে ইংল্যান্ড দলের পূর্ণাঙ্গ অধিনায়কের দায়িত্ব লাভ করেন কুক। দায়িত্ব গ্রহণের পর বাঁহাতি ওই ব্যাটসম্যান তিনটি সেঞ্চুরি হাঁকানোর পাশাপাশি ভারতের মাটিতে তাদেরই বিপক্ষে সিরিজ জয়ের বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তবে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে স্বাগতিকদের সঙ্গে সিরিজ ড্র করার পর কিছুটা খোলসবন্দি হয়ে যান কুক। যদিও ফিরতি সফরে কিউইদের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজটি ২-০ ব্যবধানেই জিতে নিয়েছে তার নেতৃত্বাধীন ইংলিশ দল।
কুক বলেন, ‘ নেপথ্যে থেকে এটি বলা সহজ যে, ‘আমি দলকে ৩৫০ রানে পৌঁছে দিয়েছি।’ তবে অধিনায়ক হিসেবে আপনার মূল্যায়ন হবে দলের ফলাফলে। আমার মনে হয় ফলাফলের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয় মূল্যায়ন।’ কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের অধীনে ইংল্যান্ড দলটিকে মাঠে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে থাকতে হয়।
এদিকে গত বছর ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন ক্লার্ক। এই সময়টিতে তিনি ভারতের বিপক্ষেই হাঁকিয়েছেন তিনটি সেঞ্চুরি। সেই সঙ্গে আরো তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি। যার মধ্যে দুটি হচ্ছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় টেস্ট দল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।
যদিও তার ব্যাটিং ও আগ্রাসী অধিনায়কত্ব দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হোম সিরিজ এবং ভারত সফরে ৪-০ ব্যবধানের লজ্জাজনক হার প্রতিহত করতে পারেনি। যে ঘটনার বলি হতে হয়েছে কোচ মিকি আর্থারকে। অ্যাশেজ সিরিজ শুরুর মাত্র ১৬ দিন আগে বরখাস্ত করা হয় আর্থারকে। এর ধারাবাহিকতায় ‘হোম ওয়ার্ক’ ইস্যুতে বাদ পড়েছেন আরো চার খেলোয়াড়। যাদের মধ্যে রয়েছেন সহ-অধিনায়ক শেন ওয়াটসন। লিখিত একটি অ্যাসানইনমেন্ট সম্পন্ন না করায় তাকে বাদ দেয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ভুগতে থাকা ব্যাক ইনজুরির চিকিত্সা করতে গিয়ে ইংল্যান্ড সফরের আগে দলের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারায় ক্লার্ক নিজেও সমালোচনার শিকার হয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে বার্মিংহ্যামের একটি বারে ইংলিশ ক্রিকেটার জো রুটকে আক্রমণ করার অভিযোগে অসি ব্যাটসম্যান ডেভিড ওয়ার্নারকে প্রথম টেস্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।
অবশ্য এখন আর্থারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ডেরেন ল্যাহম্যান। অ্যাশেজের শিরোপাটি এই মুহূর্তে ইংল্যান্ডের দখলে থাকলেও এসব ছোটখাট ঘটনা ক্লার্কের শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশনকে কোনভাবেই প্রভাবিত করতে পারবে না। অধিনায়ককে মানসিক সমর্থন যোগাতে ব্যাটসম্যানরা এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাদেল লক্ষ্য বড় স্কোরের মাধ্যমে ক্লার্কের ওপর থেকে চাপ কমিয়ে আনা। ওপেনার ক্রিস রজার্স বলেন,‘ আমরা সব দায় মাইকেলের (ক্লার্ক) ওপর চাপিয়ে দিতে চাই না। আমাদের সবারই ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ করে শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের।’ -এএফপি
