উইম্বলডনের ফাইনালে ঐতিহাসিক জয়ের পর অ্যান্ডি মারে বন্দনায় ভাসছে সমগ্র ব্রিটেন। ব্রিটিশ গনমাধ্যম এরই মধ্যে তাকে নাইটহুড দেয়ার দাবী তুলেছে। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনও জানিয়ে দিয়েছেন, মারেকে ‘স্যার অ্যান্ডি’ ডাকতে মোটেই আপত্তি নেই তার। অথচ মারের আগে সর্বশেষ যে ব্রিটিশ খেলোয়াড় উইম্বলডন জিতেছিলেন, সেই ফ্রেড পেরি ১৯৩৪ সালে অল ইংল্যান্ড ক্লাবে তার প্রথম শিরোপার পর পেয়েছিলেন পুরোপুরি ভিন্ন এক অভ্যর্থনা। একজন চ্যাম্পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও জীবদ্দশায় অল ইংল্যান্ড ক্লাবের নিদারুন বঞ্চনার শিকার পেরি বলে গেছেন, নিজ দেশে তার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথাও।
তিনবারের উইম্বলডন শিরোপাজয়ী এবং চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যামই জিতে গোল্ডেন স্ল্যাম পূর্ন করা পেরির বিশ্বাস ছিল, অল ইংল্যান্ড ক্লাবে ১৯৩৪ সালের সেই ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার জ্যাক ক্রফোর্ডকে হারানোর পর নিজের প্রাপ্য সম্মানটুকু কখনোই পাননি তিনি। শ্রমিক নেতা এবং সুতা কারখানার শ্রমিকের সন্তান পেরি জীবনীলেখক রোনাল্ড অ্যাটকিনকে বলেছিলে, ‘অল ইংল্যান্ড ক্লাবের এক কর্মকর্তা এই জয়ের পর এমন কথাও বলেছিলেন যে, সেরা খেলোয়াড়টি সেই ফাইনালে জিততে পারেনি।’
ক্ষুদ্ধ্, হতাশ পেরি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না নিজের দেশেই এভাবে লাঞ্ছনা-বঞ্চনার শিকার হতে হবে তাকে, ‘আমি এটা বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। কারন, এর আগেই অস্ট্রেলিয়ান এবং ইউএস ওপেন ফাইনালে আমি ক্রফোর্ডকে হারিয়েছি।’ ঘটনার এখানেই শেষ নয়। অসম্মানের আরও বর্ণনা রেখে গেছেন পেরি, ‘চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আমাকে অল ইংল্যান্ড ক্লাবের একটা টাই দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেউ সেটা আমার হাতে তুলে দিল না। কেউ আমার সাথে করমর্দন করে আমাকে অভিনন্দিতও করলো না। তারা এটা (টাই) লকার রুমে আমার চেয়ারের সাথে ঝুলিয়ে দেয়।’
নিজের দেশের মানুষের কাছ থেকে এরকম বিদ্বেষপূর্ন আচরনের পর নিজের ক্ষোভ আর লুকিয়ে রাখেননি পেরি, ‘নিজের দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হতে না পারাটা আমার মনে তাদের প্রতি গভীর ক্ষোভের জন্ম দেয়। আমার সব সময়ই মনে হতো, আমি আকাঙ্খিত কেউ নই। আমাকে কোনরকমে সহ্য করা হচ্ছে।’
নিজের দেশের প্রতি ত্যক্ত বিরক্ত পেরি এরপরে পাড়ি জমান মার্কিন মুল্লুকে। সেখানে মার্কিন বিমানবাহিনীর হয়ে দায়িত্ব পালন করেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও। এর আগেই ১৯৩৮ এবং ’৪১ সালে জেতেন ইউএস প্রোফেশনাল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপও। ১৯৯৫ সালে ৮৫ বছর বয়সে মারা যাওয়ার আগে অবশ্য ব্রিটিশরা তাকে নিজেদের একজন বলেই ভাবতে শুরু করেছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে দু:খ প্রকাশ না করলেও, অল ইংল্যান্ড ক্লাবের সাবেক সভাপতি জন কারি নিজেদের দোষ স্বীকার করে পেরির কৃতিত্ব মেনে নেন। কারি বলেন, ‘ফ্রেড পেরি আমাদের ক্রীড়াক্ষেত্রের দারুন একজন প্রতিনিধি। সে ছিল দুর্দান্ত একটা চরিত্র। যে কোন বিচারেই সে মহত্ হূদয় এবং সত্যিকারের এক চ্যাম্পিয়ন। টেনিসের সাথে জড়িত সবার ভালবাসা এবং শ্রদ্ধা সে অর্জন করে নিয়েছিল।’ সেই সময়টা অনেক বদলেছে। এখন সেই ফেড পেরির মূর্তির সামনে দাড়িয়ে ছবি তোলেন অ্যান্ডি মারে। কিন্তু তাতে ফেড পেরি যে কষ্ট নিয়ে চলে গেছেন, তা কী নিরাময় হয়?
