ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিহত ৩৭ বাংলাদেশির মধ্যে ৬ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ৪ জন, গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১ জন এবং মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ১ জনের নাম-ঠিকানা জানা গেছে। এছাড়া সিলেট বিভাগের আরো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিহত ও নিখোঁজদের বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম। অনেকের মা-বাবা, স্বজনরা মাথা চাপড়ে বিলাপ করে কাঁদছেন। তাদের আহাজারিতে বাতাসও যেন ভারী হয়ে উঠেছে।
নিহতরা হলেন: সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সেনেরবাজার কটালপুর এলাকার মুহিদপুর গ্রামের মন্টু মিয়ার ছেলে আহমদ হোসেন (২৪), একই গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে আব্দুল আজিজ (২৫), সিরাজ মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া (২৪), মানিকোনা গ্রামের মৃত রফিক উদ্দিনের ছেলে আফজাল মোহাম্মদ (২৫), সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদের ছোট ভাই মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ভুকশিমাইলের মৃত আব্দুল খালিকের পুত্র আহসান হাবিব শামীম (২০) এবং তাঁর শ্যালক সিলেটের গোলাপগঞ্জের শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের কদুপুর গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছোট ছেলে কামরান আহমদ মারুফ। মারুফের বড় ভাই মাছুম আহমদও (২৫) ওই নৌকায় ছিলেন। তিনি ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। এ ঘটনায় ফেঞ্চুগঞ্জের দিনপুর গ্রামের আয়াজ নামের আরেকজন নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে।
ফেঞ্চুগঞ্জের নিহত লিটন মিয়ার পিতা সিরাজ মিয়া জানান, ৮ লাখ টাকার চুক্তিতে ইটালি যাওয়ার কথা ছিল লিটন মিয়ার। সিলেটের রাজা ম্যানশনের ইয়াহইয়া ওভারসীজ নামের এক এজেন্সির সঙ্গে এমন চুক্তি হয় তাদের। এই এজেন্সির মালিক এনাম আহমদের বাড়ি একই উপজেলায়। এলাকার পরিচয়ের সুবাদেই চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন তারা। ফেঞ্চুগঞ্জের আরো কয়েকজন এই এজেন্সির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
গতকাল সরেজমিনে কুলাউড়ার ভুকশিমাইল গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া। নিহত শামীমের পরিবারের সদস্যরা জানান, সাত ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। ইতালিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ৩ মাস আগে বাড়ি থেকে বের হয়। বিভিন্ন দেশ হয়ে সে লিবিয়া পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছায়। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর থেকেই মা রাজনা বেগম বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। প্রতিবেশীরাও শান্ত্বনা দিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।
