ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গতকাল রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশে গতকালই জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা।
এর আগে শনিবার অভিযুক্ত এসআই ইউসুফকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে এবং এসআই ইকবাল আহাম্মদকে খাগড়াছড়িতে সংযুক্ত করা হয়েছে। গত ৮ মে সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে পুলিশ সদর দপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী অভিযুক্ত সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এসপিসহ অভিযুক্ত চার পুলিশ সদস্যকেই অন্যত্র সংযুক্ত করা হয়েছে। এআইজি সোহেল রানা বলেন, সাময়িক বরখাস্ত করে তাদের দূরবর্তী বিভিন্ন ইউনিটে সংযুক্ত করা হয়েছে। সংযুক্তি কোনো বদলি নয়। এটি শাস্তি প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। সংযুক্তিকালে তাদের কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয় না।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এমপির যে সকল বিচ্যুতি উঠে এসেছে তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ব্যাখায় জবাব সন্তোষজনক না হলে, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মানি লন্ডারিং হয়নি: সিআইডি
নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় কিছু টাকা লেনদেন হলেও মানি লন্ডারিংয়ের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সিআইডি। গতকাল রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (অর্গানাইজড ক্রাইম) মোল্লা নজরুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, নুসরাত হত্যাকাণ্ডে মানি লন্ডারিং হয়নি। অল্প কিছু টাকা লেনদেন হয়েছে, তবে তা মানি লন্ডারিংয়ের পর্যায়ে পড়ে না।
