ভোট চলাকালে পশ্চিমবঙ্গ রণক্ষেত্র, নিহত ১

আপডেট : ১২ মে ২০১৯, ২২:২৭

সহিংসতা, প্রাণহানির মধ্য দিয়ে শেষ হলো ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ষষ্ঠ ধাপের ভোট গ্রহণ। গতকাল রবিবার সাত রাজ্যের ৫৯ আসনে ভোট হয়। অন্য রাজ্যের ভোট অনেকটা শান্তিপূর্ণ হলেও রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জায়গা। ভোটের আগেই ঝাড়গ্রামে একজন নিহত হয়েছেন। ঝাড়গ্রামেরই কেশপুরে বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষের দেহরক্ষীর গুলিতে আহত হয়েছেন এক তৃণমূল কর্মী। এছাড়া দিল্লির বেশকিছু কেন্দ্রে ইভিএমে ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে।  গতকাল উত্তর প্রদেশের ১৪, হরিয়ানার ১০, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও মধ্যপ্রদেশের ৮টি করে, দিল্লির ৭টি ও ঝাড়খণ্ডের ৪ আসনে ভোট গ্রহণ হয়। এই ধাপের ভোটে ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা রাধা মোহন সিং, হর্ষ বর্ধন, নরেন্দ্র সিং তমার, কৃষাণ পল গুরজার ও রাও ইন্দ্রজিত্ সিংয়ের। এ ধাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বিজেপির প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর এবং সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদবও।

গতকাল দিল্লির সব কয়টি আসনেই ভোট গ্রহণ হয়। এবার দিল্লিতে কংগ্রেস,                বিজেপি ও আম আদমি পার্টির ত্রিমুখী লড়াই হচ্ছে। গতকাল দিল্লিতে ভোট দিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। ভোট দেওয়ার পর রাহুল গান্ধী বলেন, খুব ভালো লড়াই হচ্ছে। তারা বিদ্বেষ ছড়ালেও আমি ভালোবাসা দেখাব। জনগণই দেশের মালিক। আমি জনতার রায় মেনে নেব। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, জনগণের ভোটে বিজেপির পরাজয় স্পষ্ট। বিজেপি সরকার বিদায় নিচ্ছে।

গতকাল সকাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গের আট আসনের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বেশি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ঝাড়গ্রাম। বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষ সেখানে যেতেই তৃণমূল কর্মী-সমর্থক ও স্থানীয়রা বিক্ষোভ শুরু করে। ভারতী এক সময় এই এলাকারই পুলিশ সুপার ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, ভারতী পুলিশ সুপার থাকার সময় তাদের ওপর অত্যাচার করেছেন। স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, বিক্ষোভকালে ভারতী ঘোষের নিরাপত্তরক্ষী গুলি চালিয়েছে। বখতিয়ার খান নামে এক তৃণমূল কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এরপরই স্থানীয়রা ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠি চার্জ করে। একপর্যায়ে ভারতী ঘোষ একটি মন্দিরে অবস্থান নেন। পরে থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। ভোট শুরুর আগে শনিবার গভীর রাতে ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরের বিজেপির বুথ সভাপতি রামিন সিং খুন হন। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের সন্ত্রাসীরা তাকে খুন করেছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়েছে।

বিরোধী ঐক্যে ফাটল!

বিজেপিকে হটাতে একটি জোট সরকার গড়ার জন্য দিল্লিতে বিরোধী নেতাদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছে কংগ্রেস। তবে সেই বৈঠকে না থাকার সম্ভাবনা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবের। সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ২৩ মে ফলের আগে বৈঠকের কোনো প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন মমতা। মায়াবতীর মতও একই রকম। সূত্র বলছে, বিজেপি হারলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়েই রয়েছে বড় প্রশ্ন। মমতা ব্যানার্জি এবং মায়াবতী প্রধানমন্ত্রী হতে চান। যদিও তামিল নাড়ুর ডিএমকে প্রধান স্ট্যালিনসহ বিরোধীদের অনেক নেতাই প্রধানমন্ত্রী পদে রাহুল গান্ধীকে সমর্থন করেছেন।