বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকতা অনেক মজার আবার দুঃখেরও। বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকরা অন্যদের চেয়ে একটু ব্যতিক্রম হয়ে থাকেন। এখানকার তরুণ শিক্ষার্থী-সাংবাদিকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক-নেতিবাচক নানা ঘটনা তুলে ধরেন দেশ ও বিশ্বের সামনে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশের ৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ জন সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে গত ৪ থেকে ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়ে গেল টিআইবি-রাবিসাস প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সম্মেলন-২০১৩।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্সে আয়োজিত ‘ঢাকার বাইরের ও ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সাংবাদিক আলমগীর হোসেন। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ও রাবি’র গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকেন সাংবাদিক সোহরাব হাসান।
উপস্থিত ছিলেন রাবিসাসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সাবেক ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হামিদুজ্জামান রবি, রাজশাহীর স্থানীয় দৈনিক সোনালী সংবাদের সম্পাদক লিয়াকত আলী, দৈনিক সানশাইনের সম্পাদক তসিকুল ইসলাম বকুল। একই দিন বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও মুক্ত আলোচনা। এতে অংশগ্রহণ করেন- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি শরীফুজ্জামান, সুপ্রভাত প্রতিনিধি হুমায়ুন মাসুদ, সাঙ্গু প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি আব্দুস সালাম সাগর, জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইলী স্টারের প্রতিনিধি এসএম নাজমুজ সাকিব আফসান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনকিলাবের প্রতিনিধি মাসুদ মুন্সী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক মানবজমিন প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকাল প্রতিনিধি বায়েজিদুর রহমান খান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক যুগান্তরের প্রতিনিধি গাজী সাদেক, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি মসিউর রহমান রিয়াজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকালের খবরের প্রতিনিধি সুজন নাজিরসহ আরো অনেকে। অভিজ্ঞতায় ওঠে আসে নানা কথা ও স্মৃতি।
বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকরা একটি স্থানে মিলিত হতে পেরে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা একে একে বর্ণনা করেন-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি সাংবাদিকতা, লেখালেখি, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ফিচার লেখার নানা দু:খ-কষ্ট ও সুখের অভিজ্ঞতা। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদকর্মী নিউজ করার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভাগীয় শিক্ষক ও দলীয় ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের হুমকি-ধামকির তিক্ত অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদকর্মী আতিক মাহবুব মনে করেন-বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকতা অনেক মজার আবার দু:খেরও। বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকরা অন্যদের চেয়ে একটু ব্যতিক্রম হয়ে থাকেন। তিনি মনে করেন-বিশ্ববিদ্যালয় হল একটি মিনি স্ট্যাট। বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকতা করতে হলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, স্টাটিটিউটস জানতে হয়। এখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবার সাথে সম্পর্ক রাখতে হয়। জানা যায় তাদের নানা প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির কথা। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদকর্মী জহুরুল ইসলাম মনে করেন-বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকতা একটি মহত্ কাজ। এখানকার তরুণ শিক্ষার্থী-সাংবাদিকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক -নেতিবাচক নানা ঘটনা তুলে ধরেন দেশ ও বিশ্বের সামনে। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি বাড়ে। এক সংবাদকর্মী অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে গিয়ে বলেন-ক্লাস-পরীক্ষা ও ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা করার কারণে খুব ব্যস্ত থাকতে হয়। দুপুরের খাবারের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায় না। সবসময় ক্যাম্পাসে সার্বিক খোঁজ খবর রাখতে হয়। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা করে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা যায় বলে মনে করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের যায়যায়দিনের সংবাদকর্মী আয়াজ আজাদ। তিনি বলেন-ছাত্রাবস্থায় লেখালেখি-সাংবাদিকতা শিক্ষার্থীদেরকে অনেক বিষয়ে সচেতন ও জানার সুযোগ তৈরি করে দেয়। তারা সময়ের সুষ্ঠু ব্যবহার করতে জানে। এতে করে পরীক্ষায় তারা অন্যদের চেয়ে সঠিক ও ব্যাপক তথ্য ব্যবহার করতে পারেন।
