বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়
হিমন এডওয়ার্ড গমেজ, সহকারি শিক্ষক
সেন্ট গ্রেগরীজ হাই স্কুল,ঢাকা
প্রিয় শিক্ষার্থীরা শুভেচ্ছা জানবে, আশা করি তোমরা সুস্থ আছ। তোমাদের প্রতি অধ্যায়ের সর্বোচ্চ প্রস্তুতির জন্য আজ বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের প্রথম অধ্যায়ের রচনামূলক প্রশ্নসমূহ দেয়া হলো। তোমাদের প্রস্তুতি সর্বোচ্চ করার জন্য অবশ্যই পাঠ্যবইটি ভালো ভাবে পড়তে হবে।
গ. কাদের নিয়ে মুক্তিবাহিনী গঠিত হয়েছিল?
১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় প্রথম বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার যা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা (বর্তমান উপজেলা মুজিবনগর) গ্রামের আমবাগানে এই সরকার শপথ গ্রহণ করে। এর পর দলে দলে মানুষ মুক্তিবাহিনীতে যোগ দান করে।
যাঁদের নিয়ে মুক্তিবাহিনী গঠন করা হয়:
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য মুজিবনগর সরকারের উদ্যোগে ১৯৭১ সালে ১১ই জুলাই মুক্তিবাহিনী গঠন করা হয়। কর্ণেল মুহম্মদ আতাউল গনি ওসমানিকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকারকে মু্ক্তিবাহিনীর উপপ্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়। লে. কর্ণেল আব্দুর রবকে সেনাবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধকে সফল করার জন্য বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টকের ভাগ করা হয়।
মুক্তিবাহিনী গঠন করা হলে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইপিআর এর বাঙালি সদস্য, পুলিশ, আনসার, ছাত্র, যুবক, নারী, কৃষক, শ্রমিক, বুদ্ধিজীবী সর্বস্তরের জনগণকে নিয়ে মুক্তি যুদ্ধে যোগ দান করে। বাঙালি সামরিক ও বেসামরিক জনগণের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল মুক্তিবাহিনী। বাঙালি সামরিক অফিসার ও সৈন্যদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের নিয়মিত বাহিনী। তাঁরা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিল। বেসাময়িক জনগণকে নিয়ে গড়ে উঠেছিল অনিয়মিত বাহিনী।
মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশ গ্রহণ করে আমাদের উপহার দিয়েছেন এই সোনা বাংলা, আমরা তাঁদের ভুলব না। তাদের মত আমরা ও দেশকে সর্বশক্তি ও মন প্রাণ দিয়ে ভালবাসবো।
ঘ. মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষ কীভাবে অংশ নিয়েছিলেন?
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনে একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২৫মার্চ, ১৯৭১ সালের বাঙালির জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গ্রেপ্তার করলে সমগ্র জাতি দিশাহার হয়ে পরে। তার পরে বাঙালি কয়েকজন নেতার সাহসী সিদ্ধান্তের মুজিব নগর সরকার গঠন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য মুজিবনগর সরকারের উদ্যোগে ১৯৭১ সালে ১১ই জুলাই মুক্তিবাহিনী গঠন করা হয়। কর্ণেল মুহম্মদ আতাউল গনি ওসমানিকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকারকে মু্ক্তিবাহিনীর উপপ্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়। মাত্র নয় মাসে কোন দেশের স্বাধীনতা পৃথিবীতে বিরল। আমাদের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হয়েছিল সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে। মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশের অগণিত সাধারণ মানুষ নিজেদের জীবন বিপন্ন করে মুক্তিবাহিনীর পাশে এসে দাঁড়িছিলেন। থাকা, খাওয়া, তথ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সাহায্য করে মুক্তিবাহিনীকে লড়াই চালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলেন তারা। এসব কাজে নারীদের বিশেষ ভূমিকা ছিল। এদেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীরাও সক্রিয়ভাবে এ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। এভাবে সব বিপদ তুচ্ছ করে মুক্তিবাহিনীকে ও বাংলার অগণিত
মুক্তিকামী জনতা শহরে, গ্রামে যে যেভাবে পেরেছিল রুখে দাঁড়িয়ে ছিল। সবার মিলিত অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ব্যাপক রূপলাভ করে। মুক্তিকামী সর্বস্তরে জনগণের যে দেশ প্রেম আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ্য করতে পারি, তা আমাদের জীবনের সকল অবস্থায় প্রকাশ করতে হবে। আমাদের মধ্যেও যেন তাঁদের মত দেশপ্রেশ থাকে।
ঙ. মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী কী ধরনের নির্যাতন -তান্ডব চালিয়েছিলেন?
২৫শে মার্চ রাতের অন্ধকারের নিরীহ বাঙালিদের ওপর অতর্কিত হামলার মধ্য দিয়ে পাকিস্তান বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের শুরু হয়। এ অপারেশনের নাম দেয়া হয়েছিল অপারেশন সার্চলাইট। সেদিন এক রাতেই ঢাকায় প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার লোক নিহত হয়। পাকিস্তানিহানাদার বাহিনী ও আমাদের দেশের রাজাকার বাহিনী যুদ্ধচলাকালানী পুরো নয় মাস এই হত্যাকান্ড অব্যাহত রাখে। পাশাপাশি সারা বাংলাদেশে লুটতরাজ ও ধর-পাকড় চালায়। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ কাউকেই তারা রেহাই দেয়নি। তারা লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করে। সারা বাংলাদেশকে তারা বধ্যভূমিতে পরিণত করে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হত্যার, লুণ্ঠন ও অত্যাচারে এদেশের মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেয় প্রায় এক কোটি মানুষ। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এই নরকীয় হত্যাকাণ্ডে সমগ্র পৃথিবীর মানুষ তীর্ব নিন্দা জানায়। তাঁদের নির্যাতনের আজও এই দেশের মানুষ ভুলতে পারেনি, পারবেও না। যারা এই হত্যা পরিচালনায় পাকিস্তানি বাহিনীদের সাহায্য করে ছিল তাদের আমরা ঘৃণা করি।
বিজ্ঞান
মহসিন হোসেন
সহকারি শিক্ষক, শহীদ বীরউত্তম
লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ, ঢাকা
সময়: ২ ঘণ্টা পূর্ণমান :১০০ বিষয় কোড ১২৭
১। সঠিক উত্তরটি উত্তরপত্রে লেখঃ
১। উদ্ভিদের পাতায় যে সবুজ কণিকা রয়েছে তার নাম কী?
ক) গ্লাস্টিড খ) নিউক্লিয়াস
গ) শিরা ঘ) ক্লোরোফিল
২। মানুষসহ পরিবেশের সকল উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করে কোনটি?
ক) পাথর খ) পানি গ) চুন ঘ) টিন
৩। সবুজ উদ্ভিদ সারোক সংশ্লেষণের সময় কোনটি বায়ুতে ছাড়ে?
ক) অক্সিজেন খ) কার্বন ডাই অক্সাইড
গ) কার্বন কণা ঘ) নাইট্রোজেন
৪। কীট পতঙ্গ, পাখি ইত্যাদির মাধ্যমে উদ্ভিদের কোনটি ঘটে?
ক) শ্বসন খ) প্রস্বেদন
গ) অভিস্রবণ ঘ) পরাগায়ন
৫। খাদ্য শৃঙ্খলের প্রাথমিক উত্পাদক কোনটি?
ক) ফড়িং খ) সবুজ উদ্ভিদ
গ) ব্যাঙাচি ঘ) কেঁচো
৬। পরিবেশকে সুন্দর করে নিচের কোনটি?
ক) জলোচ্ছ্বাস খ) ঘূর্ণিঝড়
গ) নির্মল বায়ু ঘ) বন্যা
৭। নিচের কোন কারণে বায়ু দূষিত হয়?
ক) কীটনাশকের ব্যবহার
খ) ইটের ভাটায় ইট পোড়ানো
গ) বৃষ্টির পানি জমে যাওয়া
ঘ) রাসায়নিক সার ব্যবহার
৮। মানুষের শ্রবণ শক্তি হ্রাস পায় কোনটির কারণে?
ক) বায়ু দূষণ খ) মাটি দূষণ
গ) পানি দূষণ ঘ) শব্দ দূষণ
৯। আর্সেনিকোসিস রোগের কারণ কোনটি?
ক) পানিতে দস্তার মিশ্রণ
খ) পানিতে জিঙ্কের মিশ্রণ
গ) আর্সেনিকযুক্ত পানি পান
ঘ) আয়রণযুক্ত পানি পান
১০। উদ্ভিদ মাটি থেকে কীসের সাহায্যে পুষ্টি উপাদান শোষণ করে?
ক) মূল খ) কান্ড গ) মূলশাখা ঘ) পাতা
১১। দূষিত পানিতে গোসল করলে কোন রোগ হতে পারে?
ক) গলগন্ড খ) মাথা ব্যথা
গ) চর্মরোগ ঘ) কলেরা
১২। বায়ুর কোন উপাদান সবচেয়ে বেশি?
ক) অক্সিজেন খ) নাইট্রোজেন
গ) কার্বন ডাই অক্সাইড ঘ) জলীয় বাষ্প
১৩। পানির বায়ু থেকে মাছ কোনটি গ্রহণ করে বেঁচে থাকে?
ক) অক্সিজেন খ) জলীয় বাষ্প
গ) ওজোন ঘ) কার্বন ডাই অক্সাইড
১৪। টিন বা প্যাকেটজাত খাবারের কোনটি সংরক্ষণে নাইট্রোজেন ব্যবহার করা হয়?
ক) দুধ খ) চিনি গ) মাছ ঘ) তেল
১৫। দূষিত বায়ুর কারণে মানবদেহে নিচের কোন রোগটি হয়।
ক) জন্ডিস খ) হাঁপানি
গ) আমাশয় ঘ) ডায়রিয়া
১৬। এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী কোনটি?
ক) কার্বনের অক্সাইড খ) কার্ব কণা
গ) সালফারের অক্সাইড
ঘ) নাইট্রোজেনের অক্সাইড
১৭। নিচের কোনটি জাঙ্ক ফুডের উপাদান নয়?
ক) চর্বি খ) লবণ
গ) কার্বনেট ঘ) ভিটামিন
১৮। কয়লার সাথে কোনটি মিশে থাকে?
ক) সালফার খ) অক্সিজেন
গ) নাইট্রোজেন গ) জলীয় বাষ্প
১৯। যার ওজন আছে, জায়গা দখল করে তাকে কী বলে?
ক) শক্তি খ) কাজ গ) পদার্থ ঘ) তাপ
২০। কোন জায়গার পানির স্বাদ লবণাক্ত?
ক) পুকুরের খ) নদীর
গ) নলকূপের ঘ) সমুদ্রের
২১। কোন ভাইরাসের কারণে সোয়াইন ফ্লু হয়?
ক) HIVখ) H1N1গ) IHVঘ)N1H1
২২। যে নলকূপের পানিতে আর্সনিক থাকে তাকে কোন রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়?
ক) নীল খ) লাল গ) সবুজ ঘ) আকাশী
২৩। ধূমপানের ফলে নিচের কোন রোগটি হতে পারে?
ক) টাইফয়েড খ) কলেরা
গ) ফুসফুস ক্যান্সার ঘ) ম্যালেরিয়া
২৪। জ্বালানি পোড়ালে বায়ুতে কোনটি বাড়ে?
ক) অক্সিজেন খ) কার্বন ডাই অক্সাইড
গ) নাইট্রোজেন ঘ) নিয়ন
২৫। কোন বস্তুর কাজ করার সামর্থ্যকে কী বলে?
ক) শক্তি খ) বল গ) ক্ষমতা ঘ) তাপ
২৬। সূর্যের শক্তি কোনটি?
ক) বায়ু শক্তি খ) আণবিক শক্তি
গ) নিউক্লিয়ার শক্তি ঘ) রাসায়নিক শক্তি
২৭। সূর্য থেকে তাপ ও আলো পৃথিবীতে আসে কোন পদ্ধতিতে?
ক) পরিবহন খ) পরিচলন গ) বিকিরণ ঘ) গমন
২৮। কয়লা ও হীরা কী দিয়ে তৈরি?
ক) খনিজ আকরিক খ) কার্বন
গ) গ্রাফাইট ঘ) জিঙ্ক
২৯। তাপ সঞ্চারণের পদ্ধতি কয়টি?
ক) ৪টি খ) ৩টি গ) ৫টি ঘ) ৬টি
৩০। এটম শব্দের অর্থ কী?
ক) কঠিন খ) বিভাজ্য
গ) অবিভাজ্য ঘ) তরল
৩১। পদার্থ ক্ষুদ্র বস্তু কণিকা দ্বারা গঠিত। এ ধারণা উত্থাপন করেন কারা?
ক) আমেরিকার জিজ্ঞানীরা
খ) স্পেনের বিজনীরা
গ) গ্রীক দার্শনিকরা
ঘ) মিসরীয় দার্শনিকরা
৩২। সুষম খাদ্যের উপাদান কয়টি?
ক) তিনটি খ) চারটিগ) পাঁচটি ঘ) ছয়টি
৩৩। সুষম খাদ্য বলা যাবে কোনটিকে?
ক) দামি খাবার
খ) পরিমাণমত সব খাদ্য উপাদান সমৃদ্ধ খাবার
গ) আমিষ জাতীয় খাবার
ঘ) ভিটামিন ও খনিজ লবণ সমৃদ্ধ খাবার
৩৪। ধান, গম, ডাল ইত্যাদি কিভাবে সংরক্ষণ করা হয়?
ক) রোদে শুকিয়ে খ) ফ্রিজে গ) কোল্ডস্টোরে ঘ) ফরমালিন দিয়ে
৩৫। নিচের কোনটি জাঙ্কফুড?
ক) বার্গার খ) দই
গ) ডিমের কুসুম ঘ) মিষ্টি
৩৬। কোনটি ছাড়া আগুন জ্বলে না?
ক) সালফার খ) মিথেন
গ) অক্সিজেন ঘ) নাইট্রোজেন
৩৭। কিউলেক্স মশার কামড়ে কোন রোগ হয়?
ক) গোঁদ রোগ খ) ম্যালেরিয়া
গ) ডেংগু জ্বর ঘ) আমাশয়
৩৮। এডিস মশা কামড়ায় সাধারণত-
ক) সকাল ও সন্ধ্যার পূর্বে খ) দুপুরে
গ) রাত ১০টার পর ঘ) বিকেলে
৩৯। পানিবাহিত রোগ কোনটি?
ক) ডেংগু খ) যক্ষ্মা
গ) জলবসন্ত ঘ) কলেরা
৪০। মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকাল শুরুর বয়স কখন?
ক) ৮-১০ বছর খ) ১০-১৪ বছর গ) ৮-১৩ বছর ঘ) ১০-১৯ বছর
মডেল প্রশ্নের পরবর্তী অংশ আগামী শনিবার
