নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যয়ের হিসাব না দেওয়ায় বিএনপিসহ ৩৭টি রাজনৈতিক দলকে আরো এক মাস সময় দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব বিবরণী জমা দেওয়ার জন্য পুরো মে মাস সময় পাবে দলগুলো। বর্ধিত এই সময়ের মধ্যে বিবরণী জমা দিতে গতকাল রবিবার দলগুলোর সাধারণ সম্পাদক/মহাসচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। এরপরও যদি এসব দল হিসাব জমা না দেয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কমিশন আইনগত ব্যবস্থা নিবে বলে গত সপ্তাহে জানান ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
ইসির উপ-সচিব আব্দুল হালিম বলেন, নির্ধারিত সময়ে হিসাব দিতে ব্যর্থ দলগুলোকে পরবর্তী এক মাসের মধ্যে বিবরণী জমা দেওয়ার তাগাদা দিতে চিঠি দেওয়া হলো। এরপরও ব্যর্থ হলে জরিমানাসহ ১৫ দিনের মধ্যে হিসাব জমা দেওয়ার সুযোগ পাবে। এরপরও হিসাব না দিলে নিবন্ধন বাতিলের সুযোগ রয়েছে ইসির।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশের পর পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয় ১ জানুয়ারি। সে অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর ২ এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব বিবরণী জমা দেওয়ার কথা ছিল; কিন্তু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৩৯টি দলের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও ন্যাপ ছাড়া আর কোনো দলই ওই সময়ে হিসাব বিবরণী দাখিল করেনি। আওয়ামী লীগ গত ২১ এপ্রিল নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়। গত বুধবার ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার জন্য সময় বাড়াতে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেয় বিএনপি।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ৪৪ সিসিসি ধারায় বলা আছে, কোনো দল ৯০ দিনের মধ্যে ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে না পারলে ইসি তাদের সতর্ক নোটিস দিয়ে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে। এই সময়ের মধ্য কোনো দল হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলে ইসি তাদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে। কোনো দল এই ধাপেও ব্যর্থ হলে ইসি সেই দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে।
ইসির সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা জানান, বিএনপিসহ ৩৭টি দল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি। আরপিও অনুযায়ী, যে দল থেকে সর্বোচ্চ ৫০ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, সে দল সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারে। সর্বোচ্চ ১০০ প্রার্থীর জন্য দেড় কোটি টাকা ব্যয় করা যায়। সর্বোচ্চ ২০০ প্রার্থীর জন্য তিন কোটি টাকা এবং ২শর বেশি প্রার্থী দিলে সংশ্লিষ্ট দল সর্বোচ্চ সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয় করতে পারে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয় সীমা ছিল। কেননা, এই তিনটি দলের প্রার্থী রয়েছে দুইশর বেশি। আর জাপার ব্যয়সীমা ছিল তিন কোটি টাকা। এরশাদের নেতৃত্বাধীন দলটির প্রার্থী ছিলো ১শর বেশি।
উল্লেখ্য, সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ২৫৮ জন, বিএনপির ২৪২ জন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৯৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আর জাপার প্রার্থী ছিল ১৭৪ আসনে। দলগুলো চাঁদা ও অনুদানসহ অন্যান্য খাত থেকে আয় করতে পারে। তবে নির্বাচনে ব্যয় করতে হয় নির্ধারিত খাতে। এগুলো হলো দলীয় প্রধানের ভ্রমণ, পোস্টার, প্রচার কাজের জন্য ব্যয়।
ইসির নিবন্ধন পেল বাংলাদেশ কংগ্রেস
বাংলাদেশ কংগ্রেসকে এবার নিবন্ধন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এখন ডাব প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে দলটি। কংগ্রেসকে নিবন্ধন দেওয়ার বিষয়ে আদালতের আদেশকে কারণ দেখিয়েছে ইসি। বাংলাদেশ কংগ্রেস নামের দলটিকে ‘ডাব’ প্রতীকে ৪৪ নম্বর দল হিসেবে নিবন্ধন দিলো ইসি। আদালতের আদেশ মেনে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন করা হয়েছে। বর্তমানে ইসিতে ৪১টি দল নিবন্ধিত রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী, ফ্রিডম পার্টিসহ তিনটি দল শুরুতে নিবন্ধিত হলেও পরে তা বাতিল হয়।
গত ৩০ ডিসেম্বরের ভোটের আগে নতুন দল হিসেবে নিবন্ধন পেতে ৭৬টি দল আবেদন করে। সংক্ষিপ্ত বাছাইয়ে ঠিকে থাকা কংগ্রেসহ দুইটি দলের মাঠ পর্যায়ের অফিস তদন্তে নেমে নেতিবাচক প্রতিবেদন থাকায় নিবন্ধন দেয়নি ইসি। বাংলাদেশ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান কাজী রেজাউল হোসেন ও মহাসচিব ইয়ারুল ইসলাম তখন ইসির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করেও সাড়া পাননি। পরে আদালতের শরণাপন্ন হলে সম্প্রতি দলটিকে নিবন্ধন দিতে আদেশ দেয় আদালত। এর আগে একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএমকেও আদালতের আদেশে নিবন্ধন দেওয়া হয়।
