আইনের বিধান যত কঠোর হোক সংসার রক্ষার চেয়ে বড় নয়

আপডেট : ১২ মে ২০১৯, ২২:৩৮

হাইকোর্ট বলেছে, আইনের বিধান যত কঠোরই হোক না কেন তা একটি সংসার রক্ষার চাইতে বড় হতে পারে না। একটি সংসার ভেঙে গেলে তার পারিবারিক ও সামাজিক নেতিবাচক দিক সুদূর প্রসারী। এতে শুধু সামাজিক, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ই ঘটে না তাদের সন্তান এমনকি নিকট আত্মীয়-স্বজনের উপরেও এর গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আদালত বলে, আইনের প্রয়োগ এবং এর ব্যাখ্যা যান্ত্রিক হতে পারে না। আইনের শাসনের মূল লক্ষ্যই হলো অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা সুনিশ্চিত করা। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ১১(গ) ধারা সংশোধনের নির্দেশ দিয়ে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া এক রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

রায়ে হাইকোর্ট বলেছে, এটা বাস্তবতা ও সত্য যে আইনের ১১(গ) ধারার আওতায় সংঘটিত অপরাধ আপোসযোগ্য নয় এবং তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু যৌতুক নিরোধ আইনে ৩ ও ৪ ধারার অপরাধ সংঘটনের জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছরের শাস্তির বিধান থাকলেও তা আপোসযোগ্য করা হয়েছে। এছাড়া দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৪ ও ৩২৫ ধারায় সংঘটিত অপরাধের জন্য যথাক্রমে এক বছর, তিন বছর ও সাত বছরের শাস্তির বিধান রয়েছে। এই তিনটি ধারাই আপোসযোগ্য। এজন্য এসব ধারার অপরাধসমূহের প্রকৃতি ও গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে পারিবারিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা ও শান্তি সুনিশ্চিতের পাশাপাশি মামলা জট নিরসনের স্বার্থে ১১(২) ধারার অপরাধটি অনতিবিলম্বে আপোসযোগ্য করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইনটি সংশোধন করা প্রয়োজন। রায়ে বলা হয়, পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও মনোমালিন্য অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। যৌতুকের দাবিসহ যে কোনো অজুহাতে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর উপর শারীরিক নির্যাতন নিঃসন্দেহে নিন্দনীয় ও গর্হিত অপরাধ। এ অপরাধের পরেও যদি স্বামী-স্ত্রী নিজেদের ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে দাম্পত্যজীবন অব্যাহত রাখার সংকল্প করে  সেক্ষেত্রে আইনের বিধান যত কঠোর হোক তা বাধা হতে পারে না।

প্রসঙ্গত চার লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী লাভলী আক্তার স্বামী মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে মামলা করে। ওই মামলায় ২০১৪ সালের ১০ জুলাই শফিকুলকে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। ওই সাজা বাতিল চেয়ে সিআরপিসির ৫৬১(ক) ধারায় হাইকোর্টে আবেদন করে। ওই আবেদন নিষ্পত্তি করে গত ১০ এপ্রিল হাইকোর্ট সাজা বাতিলের রায় ঘোষণা করে। গতকাল হাইকোর্ট পূর্ণাঙ্গ এ রায় প্রকাশ করে। রায়ে ওই আইন সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশনার আলোকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারার অপরাধ আপোসমূলে নিষ্পত্তিতে ট্রাইব্যুনাল সম্পূর্ণরূপে এখতিয়ারবান হবে বলে হাইকোর্ট উল্লেখ করেছে।