প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প এবং বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, শুধু তৈরি পোশাক শিল্পেই নয়, সকল রপ্তানি খাতে সরকার সুবিধা প্রদান করবে। আসন্ন বাজেটে এর প্রতিফলন থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্ভাবনা নিয়ে পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। পিআরআইর চেয়ারম্যান ড. জায়িদি সাত্তারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী পর্বে আরো বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যানডান চ্যান, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সমন্বয়ক ও অর্থনীতিবিদ ড. সঞ্চয় কাঠুরিয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমান এফ রহমান আরো বলেন, প্রবৃদ্ধির জন্য বাণিজ্য বাড়ানো খুবই জরুরি। এজন্য সরকার আঞ্চলিক যোগাযোগে গুরুত্ব দিয়েছে, বিশেষ করে স্থল পথে এবং নৌপথে যোগাযোগ উন্নত করার কাজ চলছে। তিনি বলেন, ভারত-পাকিস্তানের বৈরিতায় দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক জোট সার্ক বেশিদূর এগোতে পারেনি। এজন্য বিবিআইএন গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, বেসরকারি খাত হলো উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। আমাদের অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা হচ্ছে, একক পণ্যের উপর রফতানি নির্ভরতা। তাই তৈরি পোশাকের উপর নির্ভরশীল না থেকে চামড়া, ওষুধ, আসবাব শিল্পসহ প্রতিটি রফতানি খাতে গতি বাড়াতে সরকার সুবিধা প্রদান করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যানডান চ্যান উল্লেখ করেন, বাণিজ্য বাড়াতে শুধু অবকাঠামোর উন্নয়ন করলেই হবে না। এর পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। অন্যদিকে, বাণিজ্য নীতি আধুনিক করে তোলার তাগিদ দিয়ে ড. জায়িদি সাত্তার বলেন, বাংলাদেশ আঞ্চলিক বাণিজ্যে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। আঞ্চলিক বাণিজ্যে যে সম্ভাবনা রয়েছে তা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের ৮ থেকে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতো। কর্মশালায় উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলের দেশগুলোতে চূড়ান্ত পণ্যে করের হার বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে চূড়ান্ত পণ্যে করের হার ছিল ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। একই সময়ে চীনে ১৩ দশমিক ৪১ শতাংশ, ভারতে ১৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ায় ৯ দশমিক ২০ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১২ দশমিক ০৬ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ, থাইল্যান্ডে ১৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ভিয়েতনামে ১৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ কর আদায় করা হয়েছে।
সঞ্চয় কাঠুরিয়া উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ থেকে পুঁজি বিদেশে পাঠানো বা দেশের বাইরে বিনিয়োগ করা অনেক কঠিন। অথচ সীমান্তবর্তী ভারতের অনেক রাজ্যে বিনিয়োগের সুবিধা রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে মাত্র ২৩ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হচ্ছে অথচ এই অঞ্চলে ৬৭ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। মাত্র এক-তৃতীয়াংশ বাণিজ্য সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে এই অঞ্চল। অন্যদিকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় ৭.৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য করছে যা ১৮.৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে এক গবেষণায় দেখা গেছে।
