বহুল পরিচিত এ প্রবাদটি শৈশবে পড়েছিলাম। শৈশব , কৈশোর ও যৌবনের প্রথম অধ্যায় শেষে আজ এই প্রবাদের মমার্থ বুঝতে পারলাম। আমার ধারণা আমার মতো করে, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ গত ছয়মাস ধরে এই প্রবাদের মমার্থ বুঝেছেন এবং একধরনের নাভিশ্বাস ওঠার অবস্থায় আছেন।
বাংলাদেশের মানুষ আজ কিছু প্রশ্ন জালে বন্দি। প্রশ্নগুলো এরকম: ১। নির্বাচন কবে হবে? ২। কীভাবে নির্বাচন হবে? কে হবে ঐ সময়ে সরকারের প্রধান? ৩। তৃতীয় কোনো শক্তি আবার ক্ষমতায় আসবে না তো? আসলে সেটা কোন ঘরনার হবে— আওয়ামী, বিএনপি, না কোনো পোশাকি? ৪। ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের পতন হলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল হবে না তো? ৫। বর্তমান সরকারের সঙ্গে ড. ইউনূসের সমস্যা কী? ৬। হঠাত্ করে এত ক্ষমতা কোথায় পেলো হেফাজত? ৭। এরশাদ এবার কার?
সমগ্র বাংলাদেশ এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছে। ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়া রাতদিন এক করে ফেলছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাড়াবাড়িও করে ফেলছে। কিন্তু কাজের বেলায় কিছুই হচ্ছে না। কেননা এ প্রশ্নগুলোর উত্তর এই মূহূর্তে কারো কাছে নেই। অতএব সময়ের কাছে সব কিছু ছেড়ে দিয়ে , হাত গুটিয়ে বসে থাকা ছাড়া এই মূহূর্তে আমাদের আর কিছু করার নেই।
এক অদ্ভুত উটের পিঠে চড়ে বসেছি আমরা। গন্তব্য অজানা। কিন্তু কাকে দোষ দেবো? কার কাছে আশ্রয় খুঁজবো? দুর্নীতি, অপশাসন, হলমার্ক কিংবা পদ্মাসেতু নিয়ে ক্ষমতাসীনদের জনপ্রিয়তা তলানিতে।
কিন্তু বিকল্প কে? সামপ্রদায়িকতার র্যাপিং মোড়ানো বিএনপি— যাদের সঙ্গে আছে জামাত শিবির কিংবা হেফাজতের মোড়কে লুকানো অশুভ রাজনীতির বিষবাষ্প। তাদের বিষাক্ত ছোবল কি আমাদের লালসবুজ পতাকাকে নীল করবে না? তখন যুদ্ধাপরাধীরা কি ৭১-এর ত্রিশ লাখ শহীদকে তাচ্ছিল্যের ভি চিহ্ন দেখাবে না? হাওয়া ভবনের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হওয়ার গল্প, গ্রেনেডের গল্প কিংবা সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের গল্প না হয় নাই বললাম।
আমার এক বন্ধু একবার আমাকে বলেছিলেন, বাঙালি জাতির মধ্যে নাকি একটা ম্যাজিক আছে। এই ম্যাজিকের জোরেই নাকি বাঙালি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়। যেভাবে নিয়েছে ’৫২, ’৭১ কিংবা ’৯০-এ। আমার বন্ধুটি নিতান্তই আশাবাদী ভালো মানুষ। আমি আমার বন্ধুর মতো অতখানি আশাবাদী হতে পারছি না। আমাদের বাঙালিদের রক্তে তো মীরজাফরের রক্তও বহমান। সেই রক্ত না আমাদের নতুন কোনো সামপ্রদায়িক মোহনার দিকে নিয়ে যায়।
আমি ভয়ে আছি। ভয়ার্ত চোখ নিয়ে রাজনীতির রঙ্গমঞ্চের শেষদৃশ্য দেখার জন্য মুখিয়ে আছি। বাংলাদেশের জনগণ এবার কী করবে? তারা কি বর্তমান ক্ষমতাসীনদের ওপর বিরক্ত হয়ে মৌলবাদীদের বিজয়মাল্য পরাবে? আর তাই যদি হয় তবে কি ইতিহাস তার দায় মেটাতে পারবে? জাতি হিসাবে এতটা নিঃস্ব কি আমরা হবো?
ঢাকা
