গত বেশ কিছুদিন ধরে বাতাসে উড়ছে কথাটা—সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি পদে নির্বাচন করার সবুজ সংকেত পেয়েছেন সাবের হোসেন চৌধুরী। গতকাল মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে আম্পায়ার ও স্কোরারদের সংগঠনের ওয়েবসাইট উদ্বোধন অনুষ্ঠানেও উঠল কথাটা। এই কথা এই অনুষ্ঠানে উঠল প্রধান অতিথি বিসিবি নাজমুল হাসান পাপনের উপস্থিতির কারণেই। আর সাবের হোসেন চৌধুরীর নাম শুনে এবার একেবারেই বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখালেন বিসিবির এডহক কমিটির সভাপতি পাপন। তিনি পরিষ্কার করে এই খবরে নিজের খুশির কথা জানিয়ে দিলেন। সেই সঙ্গে বলে দিলেন, সাবের হোসেন চৌধুরী বিসিবি সভাপতি পদে নির্বাচন করলে বা নির্বাচিত হয়ে এলে ক্রিকেটের অনেক সমস্যারই সমাধান হয়ে যাবে!
বিসিবির সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এবং বর্তমান সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন; দু’জনই সরকার দলীয় সংসদ সদস্য। তারপরও দু’জন এই ক্রিকেট বোর্ড নিয়ে ইদানীং সংবাদ মাধ্যমে অন্তত মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। বর্তমান এডহক কমিটির বেশ কিছু কাজের সমালোচনা করছিলেন নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের ক্রান্তিকালের বিসিবি সভাপতি সাবের হোসেন। আবার লন্ডন থেকে ফিরে তার সেই সব সমালোচনাকে ‘ফালতু’ বলে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছিলেন পাপন। ফলে ধারণা ছিল যে, দু’জনের সম্পর্ক শীতলতর হচ্ছে।
আসলে সম্পর্ক শীতল হচ্ছে কি না; সেটা ভেতরের কথা। কিন্তু পাপন কাল সাবের হোসেন চৌধুরীর নাম শুনে অন্তত ক্ষুব্ধ কিছু বললেন না। উল্টো বললেন, ‘পত্র-পত্রিকায় আমি নিজে পড়িনি; তবে আমি শুনেছি, সাবের ভাই ইলেকশন করবেন। এটা তো খুবই ভালো কথা; আমি খবরটা শুনে খুশি হয়েছি। সাবের ভাই আসছেন... যদি তিনি ইলেকশন করেন, তাহলে আমি খুব খুশি হবো।’
এ ধরনের প্রতিক্রিয়া অন্তত ক্রিকেট অঙ্গনকে একটা কথার লড়াই থেকে মুক্তি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় বলে অনেকেই স্বস্তি পেতে পারেন। সেই সঙ্গে মনে হতে পারে, বিসিবি সভাপতি পদে লড়াইটা তাহলে বুঝি একমুখী হয়ে গেল।
লড়াইটা একমুখী আসলেই হচ্ছে কিনা, সেটাও ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। কারণ পাপন নিজে এই লড়াইয়ে থাকবেন কিনা, তা নিশ্চিত করতে পারলেন না, ‘আমি বিসিবির সভাপতি হব, এমন কোনো চিন্তা আমার মাথায় কখনোই ছিল না। এই দায়িত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত যে সিস্টেম, তাতে প্রধানমন্ত্রীই বিসিবি সভাপতি নিয়োগ দেন। সেভাবেই আমি এসেছি। আমি নির্বাচন করবো কিনা, সেটা এখনই বলতে পারছি না। কারণ, যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন; তাই আমি হঠাত্ করে ওনাকে না বলে সরে যেতে পারবো না। আমি না থাকতে চাইলেও ওনাকে বলতে হবে আমার।’
বোঝাই যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন পাপন। তবে সে সিদ্ধান্ত তার পক্ষে না এসে সাবের হোসেনের পক্ষে গেলে তিনি দুঃখিত হবেন না। অন্তত কথায় তাই প্রকাশ করলেন পাপন, ‘সাবের ভাই নির্বাচন করলে, আমি মনে করি ক্রিকেটের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’
তবে শেষ পর্যন্ত সভাপতি যেই আসুন না কেন, পাপন এই পদে নির্বাচন দেখতে চান। সভাপতি পদে নির্বাচন করাটাই এখন নিজের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখছেন তিনি, ‘আমি সিলেকশনে বিশ্বাসী না। অনেকে অনেক কথা বলে। বিসিবি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে আসবেন, এটা আজকের কথা নয়। দশ-বারো বছর ধরে শুনছি। বিভিন্ন প্রেসিডেন্টের মুখে শুনেছি, বিসিবি প্রেসিডেন্টের নির্বাচিত হয়ে আসার ব্যাপারে তারা প্রস্তাব এনেছেন। কিন্তু কাজটা তো করেন না। আমি কাজটা অন্তত করে দিয়ে যেতে চাই। কে প্রেসিডেন্ট হবেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কাজটা গুরুত্বপূর্ণ। এখন এটা না করলে আর কখনোই হবে না।’
