সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ প্রস্তুতি

আগস্টে ঢাকায় পাকিস্তানের সাথে খেলবে জাতীয় দল

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৩, ২২:১৬
জাতীয় ফুটবল দল নেপালে সাফ চ্যাম্পিয়নশীপে খেলতে যাওয়ার আগে অনুশীলন ম্যাচ খেলতে উদগ্রীব। সেটা মনে রেখেই থাইল্যান্ডের সাথে ম্যাচ খেলার কথা হয়েছিল। কিন্তু স্বল্প প্রস্তুতি নিয়ে থাইল্যান্ডে গেলে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ভালো হবে না মনে করে সেটা আপাতত স্থগিত রেখেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এরকম পরিস্থিতিতেই আগামি মাসে বাংলাদেশ দলের সাথে অনুশীলন ম্যাচ খেলতে ঢাকায় আসছে পাকিস্তান ফুটবল দল। পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশন (পিএফএফ) বাফুফেকে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে। পিএফএফ ঢাকায় দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে চায় বাংলাদেশের সাথে। বাংলাদেশও পাকিস্তানের সাথে আলোচনা করে ১৩ আগস্ট এবং ১৫ আগস্ট দুটি ম্যাচ খেলার কথা জানিয়ে দিয়েছে। জানা গেছে, পাকিস্তান নিজেদের অর্থ ব্যয় করে ঢাকায় আসছে খেলতে। বাফুফেকে স্থানীয় সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন দুটি ম্যাচই খেলাতে চান। কিন্তু এতে আপত্তি আছে ডাচ কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফের। তিনি গতকাল দুপুরে বাফুফে সভাপতিকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটা ম্যাচ খেলাতে চান বলে জানিয়েছেন। এর কারণটা অবশ্য উল্লেখ করেননি সালাহউদ্দিন। তবে আলোচনা করে দুই ম্যাচই খেলানো হতে পারে। ক্রুইফ কাল বাফুফে সভাপতিকে জানিয়েছেন সাফ চ্যাম্পিয়নশীপে যাওয়ার আগে তিন-চারটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলাতে চান তিনি। পাকিস্তান ছাড়াও জাতীয় ফুটবল দল থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধেও ম্যাচ খেলবে। তবে সেটা কবে হবে সে ব্যাপারে থাই ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাথে নতুন করে কথা চলছে। এ মাসেই থাইল্যান্ড যাওয়া হতে পারে ফুটবল দলের। এদিকে ক্রুইফের সহকারী স্বদেশি রেনে কেস্তার বাফুফের সভাপতির কাছে খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে হতাশার কথা জানিয়েছেন। তারা দেশে ফেরার আগে খেলোয়াড়দের ফিটনেস লেভেল যেখানে রেখে গিয়েছিলেন, ঢাকায় ফিরে তা পাননি। আলোচনা চলাকালে উপস্থিত থাকা ক্রুইফ জানিয়েছেন, সুপার কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টটি সফল কিন্তু খেলোয়াড়দের ফিটনেস চোখে পড়েনি। ফিটনেস ঘাটতি কমাতে খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রম করাচ্ছেন কোচিং স্টাফরা। গতকাল ভর দুপুরে মাঠে নামানো হয় খেলোয়াড়দের। রোদের উত্তাপ তখন মাথার উপরে। রোদে তাকালে চোখ ঝলসে যায়। এয়ারকন্ডিশনড রুম থেকে বেরিয়ে সেই রোদেই মাঠে নামতে হলো খেলোয়াড়দের। ক্রুইফ খেলোয়াড়দের নিয়ে বেলা দুইটায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আসেন। উদ্দেশ্য ফুটবলারদের আরো শক্তভাবে গড়ে তোলা। দুই কোচ দুই ভাগে খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করলেন প্রায় দেড় ঘণ্টা। ক্রুইফ নিজে ফুটবল পায়ে মামুনুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, মিঠুন, নাসির, সোহেলদের দেখাচ্ছিলেন কিভাবে ছোট জায়গার মধ্যে দ্রুতগতির ফুটবল খেলতে হবে। তাতে হাঁপিয়ে উঠছেন সিনিয়ররা। কাজী সালাহউদ্দিন পরে বাফুফে কার্যালয়ে বলেন, ‘সিনিয়রদের কষ্ট হবে। কিন্তু অনুশীলনের এটাই নিয়ম। মাঠে স্পেশাল ফুটবলটা খেলতে হলে এধরনের প্রস্তুতি দরকার।’ কোচ কিংবা বাফুফে সভাপতি যাই বলুন না কেন, কষ্ট হচ্ছে ক্যাম্পের কিছু কিছু খেলোয়াড়ের। তবে ক্রুইফের হাড়ভাঙ্গা খাটুনিতে দলের জুনিয়র ফুটবলাররা খুশি সেটা তাদের কথায় আভাস পাওয়া যায়। স্ট্রাইকার ওয়াহেদ বলছেন, ‘কষ্ট হলেও আমাদের জন্য ভালো হচ্ছে।’ আরেক তরুণ ফরোয়ার্ড তকলিস আহমেদ বলেন, ‘ভাই এতো কষ্ট করাচ্ছে যেন মেরে ফেলতে চাইছে। তবুও ভালো। আমরা যদি ভালো একটা কিছু করতে পারি।’ একই কথা ডিফেন্ডার কেষ্ট কুমারের। ডাচ ক্রুইফ এবং তার সহকারী রেনে কেস্তারকে প্রতি মাসে ৩০ লাখ টাকার বেশি পারিশ্রমিক দিতে হচ্ছে। খেলোয়াড়দের জন্য আনা হয়েছে ফিটনেস কোচ কাচ মোহামায়েত ইয়ামালীকে। অক্টোবর পর্যন্ত চুক্তি হচ্ছে তার সাথে। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন বললেন, ‘ফিটনেস কোচকে প্রতি মাসে সাত থেকে আট লাখ টাকা দিতে হবে। খেলোয়াড়ের জন্য সবই করতে হচ্ছে। এখন খেলোয়াড়দের ব্যাপার। মাঠে তারা কি করে। আমি তো আর খেলে দিতে পারব না।’