অনুষ্ঠানটা ছিল আম্পায়ার ও স্কোরারদের ওয়েবসাইট উদ্বোধনের। কিন্তু সেখানেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি সাংবাদিকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ করলেন নির্বাচন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু ও জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব প্রসঙ্গে। ভেন্যু ও অধিনায়কত্ব প্রসঙ্গে তার আলোচনার নির্বাচিত অংশ—
সিলেট ভেন্যুর সর্বশেষ অবস্থা
সিলেটে এই অল্প সময়ের মধ্যে যে কাজ হয়েছে, সেটা প্রশংসার দাবি রাখে। এতো অল্প সময়ের মধ্যে এতো কাজ যে হতে পারে, সেটা আমার ধারণায় ছিল না। এখন কিছু কাজ বাকী আছে। একটা হল গিয়ে মিডিয়া সেন্টার; এটা এক মাসের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে বলেই আমার ধারণা। আইসিসির দল আগস্টে যখন আসবে, এটাকে প্রায় শেষ অবস্থায় পাবে বলে আমার ধারণা। কিন্তু ওখানে একটা গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের কাজ এখনও বাকী; যেটার ওপরে আইসিসির জন্য ৫০০ আসনের হসপিটালিটি বক্স থাকবে। এটা চারতলা করার প্লান আছে। আমি কথা বলে যেটা বুঝেছি, দোতলা পর্যন্ত আগস্টের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এই গতিতে যদি চলে, তাহলে আমার ধারণা সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখের মধ্যে হ্যান্ডওভার করার মতো অবস্থায় চলে যাবো। এর বাইরে আছে ফ্লাড লাইটের সমস্যা। নতুন ফ্লাড লাইট এনে বসাতে নাকি ছয় মাসের মতো সময় লাগবে। ওখানে বসেই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, আমাদের যে খুলনা-রাজশাহী-বগুড়া; ওখান থেকে খুলে এনে এখানে লাগিয়ে ফেলা যাবে। আজকে আমাকে নিশ্চিত করা হয়েছে, এটা দেড় মাসের মধ্যে এনে লাগানো সম্ভব।
সিলেটে বসে আপনি বলেছেন, চার মাসের আগে কাজ শুরু হলে সমস্যা হত না। তাহলে চার মাস আগে কেন শুরু হল না?
আমি এটা কালও বলেছি, সরকারি যে কোনো কাজে এই ধরনের সমস্যা হয়। তাদের যে ফাইল প্রসেসিং, বিভিন্ন প্রক্রিয়া, এটা খুব সময়সাপেক্ষ। এ ক্ষেত্রে আসলে কিছু করার নেই। নভেম্বরে তাদের কাজ শুরু করার কথা ছিল। সেটা টেন্ডার হতে হতে এই জুন মাস চলে আসলো। এখন অবশ্য আমার চিন্তা অন্য জায়গায়। ৭ আগস্ট আইসিসির পরিদর্শক দল ইতিবাচক রিপোর্ট দেবে বলেই মনে হয়। আমার ভয় এটাই, আমাদের সমস্যা হল আমরা পজেটিভ নিউজ পেলে, সার্টিফিকেট পেলে সন্তুষ্ট হয়ে যাই। সে জন্য কাজ হালকাভাবে নেয়া চলবে। পাশাপাশি বিকল্প ভেন্যুর জন্য যা যা করা দরকার, সেটাও করছি। কালকেই একটা মিটিংয়ে বসবো। বিকল্প ভেন্যু দুটোও যেন ৭ তারিখের মধ্যে কমপ্লিট করে ফেলতে পারি, সে জন্য যা যা করা দরকার করতে হবে।
কক্সবাজারের কী অবস্থা?
আমরা কক্সবাজার নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নই। ওখানে কাজ কম, ফ্লাডলাইট দরকার নেই। আইসিসি রিকোয়োরমেন্ট অনেক কম। ফলে ওখানে কাজ শেষ হয়ে যাবে। এরপরও যদি কাজ শেষ না হয়, বিকল্প হিসেবে বিকেএসপি রেডি থাকবে।
বিকল্প ভেন্যু লাগছেই কেন?
দেখুন, এ ধরনের টুর্নামেন্টে অলটারনেট ভেন্যু আপনাকে রাখতেই হবে। আমি তৈরি না করলে, বিদেশে হলেও তৈরি থাকবে। হয়তো সেখানে খেলা হবে না। যদি কোনো কারণে খেলা না হয় এখানে, ওখানে চলে যাবে। সেই সুযোগটা দিতে চাই না। আমরা অলটারনেট নিয়ে চিন্তিত কারণ, বাংলাদেশের বাইরে খেলা যাওয়ার আলোচনাও যেন না আসে।
বিশ্বকাপ ভারতে চলে যাওয়ার গুঞ্জন...
আমাদের নির্মাণ ও সংস্কার কাজ নিয়ে কিছু সংশয় যখন ছিল, আর বিকল্প ভেন্যু রাখতেই হত; তখন বিকল্প ভেন্যু হিসেবে অনেক প্রস্তাব ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার নাম পত্রপত্রিকাতেই দেখেছি, ভারত পাশের দেশ, তারাও বিবেচনায় থাকতে পারে। তিনি (জগমোহন ডালমিয়া) যেটা বলতে চেয়েছেন, আমি যা বুঝেছি, আমাদের কোনো সমস্যা হলে তারা সহায়তা করতে চান। এর মানে এই না যে, বিশ্বকাপ এখন থেকে চলে গেছে।
