সিদ্ধিরগঞ্জে ভুয়া ডাক্তারের দৌরাত্ম্য

আপডেট : ১৩ মে ২০১৯, ০০:১৯

নারায়ণগঞ্জ মহানগরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ডেন্টাল ক্লিনিকগুলোতে ভুয়া ডাক্তারের ছড়াছড়ি। দিন দিন ভুয়া চিকিত্সকদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলছে। চিকিত্সক হওয়ার সনদ না থাকলেও অনেকেই নিজেকে চিকিত্সক পরিচয় দিয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। ভুয়া চিকিত্সকদের খপ্পরে পড়ে অনেক রোগীর জীবন হয়ে উঠছে শঙ্কটাপন্ন। গত কয়েক মাসেই সিদ্ধিরগঞ্জে ৩ জন ভুয়া চিকিত্সককে আটক করে সাজা প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত ৮ মে রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় রহিম মার্কেট (মৌচাক মোড়) এলাকায় অনুমোদনহীন হেলথ কেয়ার আধুনিক হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার সময় ভুয়া ডাক্তার মো. তানভীর আহমেদ সরকার (৩৪) ও উক্ত ক্লিনিকের ম্যানেজার আবুল বাশারকে (৩২) গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১ এর একটি টিম। পরে ভুয়া ডাক্তার মো. তানভীর আহমেদ সরকারকে ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং  হাসপাতালের ম্যানেজার আবুল বাশারকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ২০০৯ সালে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে বাণিজ্য বিভাগ হতে এইচএসসি পাস করেছিল মো. তানভীর আহমেদ সরকার। তবে তার প্রেসক্রিপশনে সে দীর্ঘদিন নিজেকে একজন বড় মাপের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরিচয় দিয়ে আসছিল। পরে অনুমোদনহীন হেলথ কেয়ার আধুনিক হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। এর আগে ২ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ‘ফ্যামিলি ল্যাব হসপিটাল’ নামের একটি ক্লিনিকে র্যাবের অভিযানে ভুয়া ডাক্তার মো. নজরুল ইসলাম শেখকে এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই ভুয়া ডাক্তারের নামের পাশে পদবীর ডিগ্রি হিসেবে লেখা ‘এমবিবিএস, সনোলজিস্ট’। নিজেকে অভিজ্ঞ ডাক্তার পরিচয় দিয়ে দুই বছর যাবত্ প্রতারণা করে আসছিল রোগীদের সঙ্গে। ৫ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী এলাকার ‘এম হোসেন জেনারেল হাসপাতালে র্যাবের অভিযানে আটক ভুয়া ডাক্তার ফাহমিদা আলমকে ৬ মাসের জেল ও হাসপাতালটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। নিজেকে অভিজ্ঞ ডাক্তার পরিচয় দিয়ে ফাহমিদা আলম দিনের পর দিন প্রতারণা করে আসছিলেন রোগীদের সঙ্গে। প্রেসক্রিপশনে তার নামের পাশে পদবীর ডিগ্রি হিসেবে লেখা থাকতো ‘এমবিবিএস, এফসিপিএস’।  এর আগেও ২০১৬ সালের ৮ জুন সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল চৌধুরীবাড়ী বাসস্ট্যান্ডের জনস্বাস্থ্য জেনারেল হাসপাতালে মোবারক ইসলাম নামের এক ভুয়া ডাক্তারকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ভুয়া ডাক্তার মোবারক ইসলামের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণের বাংলাদেশ, ভারত ও চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাল সার্টিফিকেট ও সার্টিফিকেট তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ওই সময় জনস্বাস্থ্য জেনারেল হাসপাতালটিকে সিলগালা করে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া স্কুলের গণ্ডি না পেরুলেও দিব্যি সাইনবোর্ডে চিকিত্সক উপাধি লিখে ৩ বছর ধরে রোগীদের চিকিত্সার নামে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল মাহফুজ চৌধুরী। কয়েক বছর আগে হাতেনাতে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল চৌধুরী বাড়ির সুলতান সুপার মার্কেটে ‘চৌধুরী ডেন্টাল কেয়ার’ নামের একটি ভুয়া দন্ত চিকিত্সালয় থেকে ৮ম শ্রেণি পাস করা মাহফুজকে আটক করে ২ মাসের কারাদণ্ড দেয় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুমানা ইয়াসমিনের নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালত।