মুশফিকুর রহিম তার দায়িত্ব বাড়ানোর প্রতিক্রিয়ায় কথাটা বলেছিলেন—তিনি এই স্বল্প মেয়াদে অধিনায়কত্বের পক্ষে নন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এই পদ্ধতিকে সরাসরি ‘ভুল’ বলেও চিহ্নিত করেছিলেন তিনি। গত পরশু, মঙ্গলবার বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন অনেকটাই একমত প্রকাশ করেছেন মুশফিকের এই কথার সঙ্গে। তিনিও দীর্ঘ মেয়াদে অধিনায়ক করারই পক্ষে। প্রশ্ন হলো, বিসিবি সভাপতি দীর্ঘমেয়াদে অধিনায়ক চাইলেও এখনই কেন সেটা হল না? অনুমান করা হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদে মুশফিককে রাখা, না রাখার ব্যাপারে একমত হতে না পেরেই আপাতত স্বল্প মেয়াদের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।
হাবিবুল বাশার ছাড়া বাংলাদেশের কোনো অধিনায়কই দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্ব পাননি। পরে সাকিব আল হাসান অধিনায়ক থাকা অবস্থায় এই ‘সিরিজ-বাই-সিরিজ’ পদ্ধতির সমালোচনাও করেছিলেন। এরপর মুশফিককে দায়িত্ব দেয়া হয় সেই সিরিজ-বাই-সিরিজ পদ্ধতিতেই। সর্বশেষ তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। মানে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজটা পাচ্ছেন তিনি।
এই আরেকটা সিরিজের জন্য দায়িত্ব পেয়ে মুশফিক বলেছিলেন, বোর্ডের সিদ্ধান্ত তাই তিনি পালন করবেন। কিন্তু এভাবে দায়িত্ব দেয়াটা ভুল সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেছিলেন তিনি। মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে বিসিবি সভাপতি এ কথায় দ্বিমত করেননি, ‘দীর্ঘ মেয়াদে অধিনায়কত্ব না দেয়ার কোনো কারণ তো নেই। তবে সেটা বোর্ড সভায় বসে ঠিক করতে হবে। সিরিজ বাই সিরিজ ক্যাপ্টেনসি আসলেই খুব ভালো ব্যাপার নয়। যতো বেশি সময়ের জন্য দায়িত্ব দেয়া যায়, ততোই খেলোয়াড় ও অধিনায়কের জন্য ভালো; এতে কোনো সন্দেহ নাই। এটা আমরা ভেবেছিলাম। তবে কিছু কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, নেক্সট একটা সিরিজ দেখে আমরা ফাইনাল ডিসিশন নেব। বিশ্বকাপের (টি-টোয়েন্টি) আগেই দীর্ঘ মেয়াদে কাউকে ক্যাপ্টেন করবো আমরা।’
এখন ক্রিকেট মহলে প্রশ্ন হলো, বোর্ড সভাপতি একমত হলেও মুশফিককে কেন এখনই দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্ব দেয়া হল না। সেক্ষেত্রে মুশফিকের জিম্বাবুয়ে ক্লাব একটা ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। জিম্বাবুয়েতে দলের খারাপ ফলাফলের পর কারো সঙ্গে আলোচনা না করে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন মুশফিক। পরে সে সিদ্ধান্ত বলেও ফেলেছেন। এই ঘটনাটা বোর্ডকে দুবার ভাবতে বাধ্য করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, সভাপতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে যে দীর্ঘ মেয়াদের অধিনায়ক নির্বাচনের কথা বলছেন, সেটা মুশফিকই হন কিনা!
