হকির জন্য এগিয়ে এলো আরো একটি স্পন্সর। গতকাল এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে হকি ফেডারেশন জানায় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক জাতীয় স্কুল হকির জন্য দুই কোটি টাকা দেবে। স্পন্সর ঘোষণা উপলক্ষে গতকাল বিওএ’র সম্মেলন কক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
এক বছরের জন্য ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক জাতীয় স্কুল হকির জন্য দুই কোটি টাকা দিচ্ছে। এর মধ্যে আগামী এক মাসের মধ্যে চুক্তির অর্ধেক প্রায় এক কোটি টাকা দেবে বলে জানানো হয়। দেশব্যাপী জাতীয় স্কুল হকি শুরু হবে আগামী বছর, ফেব্রুয়ারিতে। ১২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক পর্বে অংশগ্রহণ করবে। এরপর ঢাকায় চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। ফেডারেশনের অন্তর্বর্তীকালীন সাধারণ সম্পাদক শাফায়াত হোসেন ডালিম এসব তথ্য জানান।
জাতীয় স্কুল হকি অনুষ্ঠিত হবে ফেব্রুয়ারিতে। কিন্তু এতো আগে চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে কথা উঠলে ফেডারেশনের অন্তর্বর্তীকালিন সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘টাকাটা আমরা যদি আগেই পাই, তাহলে লাভ হবে ফেডারেশনের। কারণ ব্যাংকে থাকলে মুনাফা বাড়বে। সেটা হকি খেলার কাজেই লাগবে।’
স্পন্সর ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএএম জাকারিয়া বলেন, ‘স্কুল হকি থেকে আগামী দিনের খেলোয়াড় খুঁজে বের করতেই আমরা এগিয়ে এসেছি।’ তিনি প্রত্যান্ত অঞ্চলের স্কুলগুলোতেও হকি খেলাটা ছড়িয়ে দেয়ার উপর গুরুত্ব দেন।
এটিএন বাংলা জাতীয় স্কুল হকির মিডিয়া পার্টনার। স্কুল হকির স্পন্সর হচ্ছে ব্যাংকটি। চুক্তি হওয়ার কথা হকি ফেডারেশন এবং স্পন্সরের মধ্যে। কিন্তু চুক্তি হয়েছে ফেডারেশন, ব্যাংক এবং টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলার মধ্যে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা উঠলে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান জানান স্কুল হকি কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে তিনি এই স্পন্সর আনার ব্যাপারে অবদান রেখেছেন।
তিনি বলেন, ‘বাফুফেতে স্কুল ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান থাকাকালীন আমি পাঁচ কোটি টাকার স্পন্সর এনেছিলাম। সাড়ে তিন কোটি টাকা খেলা আয়োজন করতে গেছে। এক কোটি টাকা রেখে এসেছি বাফুফেতে।’
এটিএন বাংলা স্কুল ফুটবল সমপ্রচার করেছে। তাদের দাবী বিনা খরচে সমপ্রচার করা হয়েছিল। কিন্তু কথা উঠেছে, এটিএন বাংলা মিডিয়া খরচ দেখিয়ে খেলা সমপ্রচার করতে ফুটবল থেকে প্রায় কোটি টাকা নিয়েছিল। কাল সে প্রসঙ্গ উঠেছিল সংবাদ সম্মেলনে। এ ব্যাপারে মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমরা খেলা বিনা টাকায় সমপ্রচার করেছি। ফুটবল থেকে আমরা টাকা নেইনি। এই টাকাটা কোনো একজনকে দেয়া হয়েছে। সেটা হতে পারে ব্যাংকেরই কোনো একজন কিংবা অন্য কেউ অথবা কমিশন এজেন্ট।’
কিন্তু কাকে টাকা দেয়া হয়েছে তার নাম বলা যাবে না বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নাম বলা নিষেধ আছে।’
উল্লেখ্য, হকি ফেডারেশন এর আগে জাতীয় দলের কোচের জন্য জনতা ব্যাংকের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা পেয়েছিল।
