দক্ষিণাঞ্চলের মাটি লবণাক্ত হওয়ায় বোরোর তুলনায় সূর্যমুখীর আবাদের দিকে ঝুঁকছে কৃষকরা। তারা বলছেন, খুলনায় রবি মওসুমে লবণাক্ততার কারণে জমি অনাবাদি থাকতো। লোকসানের ভয়ে ধান আবাদ করা হতো না। এখন সূর্যমুখী আবাদ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তারা।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বোরো ধান আবাদে সেচ লাগে ১৫ থেকে ১৬ বার। সূর্যমুখীতে সেচ লাগে মাত্র ২ থেকে ৩ বার। নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর জমি লবণাক্ত থাকায় এ এলাকায় বোরোর ভালো ফলন হয় না। এ সময়ে প্রতি একরে সূর্যমুখী আবাদ করে ৩০ থেকে ৪০ মণ বীজ পাওয়া যায়। এই বীজ প্রতি মণ ১৬শ’ থেকে ১৮শ’ টাকায় বিক্রি হয়। অন্যদিকে একরে ৫০ থেকে ৬০ মণ ধান পাওয়া যায়। যা প্রতি মণ ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকায় বিক্রি করেও সূর্যমুখীর সমান হয় না।
ব্র্যাকের কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, তারা কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে বীজ, কীটনাশক ও সার অনুদান হিসাবে দিচ্ছে। বীজ কেনার জন্য অফেরতযোগ্য ১ হাজার ৫শ’ টাকা এবং কীটনাশক ও সারের জন্য একর প্রতি ৫ হাজার টাকা দিচ্ছেন। তারা কৃষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন। খুলনার ৩৩২ একরে এবার সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। ফলন হয়েছে একর প্রতি ৩০ থেকে ৪০ মণ।
কৃষকরা আরো বলেছেন, এ বছর খুলনায় তিলের উত্পাদন জলাবদ্ধতার কারণে একরে ২ মণও হয়নি। তাই যারা আবাদ করেছেন তারা লোকসান গুনেছেন। কিন্তু জলাবদ্ধতায় সূর্যমুখীর ক্ষতি হয়নি। খুলনার বটিয়াঘাটার তেঁতুলতলা গ্রামের কৃষক জগদীস চন্দ্র জানান, ব্র্যাকের সহযোগিতায় এক একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে ৩৮ মণ বীজ পেয়েছেন।
ব্র্যাকের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচি বিভাগের প্রধান ড. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সূর্যমুখী লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে ও পানি কম লাগে। গত মওসুমে ২ হাজার এবং আগামী মওসুমে ৮ হাজার একরে সূর্যমুখী আবাদের পরিকল্পনা রয়েছে। ব্র্যাকের এই কর্মকর্তা বলেন, সূর্যমুখীর বীজ থেকে তেল আহরণের জন্য তেলের মিল করার পরিকল্পনা রয়েছে ব্র্যাকের।
