ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ২ লাখ ৩৪ হাজার ৯২৫ জন কৃষককে সার, বীজ ও নগদ অর্থ দেবে সরকার। কৃষি পুনর্বাসনের অংশ হিসেবেই এ বিশেষ প্রণোদনা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। কৃষি মন্ত্রী বলেন, বিশেষ প্রণোদনার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪ জেলার পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা ও বরিশাল জেলার ২৮ উপজেলার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৯২৫ জন কৃষক সহায়তা পাবেন। এতে একজন কৃষক এক বিঘা জমির জন্য উচ্চ ফলনশীল আমন বীজ ৫ কেজি (বিআর-১১, বিআর-২৩, ব্রি ধান-৪৪, ব্রি ধান-৫১, ব্রি ধান-৫২ ও বিনা-৭), ২০ কেজি ড্যাই এনুমিনিয়াম ফসফেট (ডিএপি), ১০ কেজি মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) এবং ফসল পরিচর্চার জন্য ২০০ টাকা করে নগদ পাবেন। এরইমধ্যে বীজ বিতরণ শুরু হয়েছে। সার বিতরণ শুরু হবে এক সপ্তাহের মধ্যে। আর কৃষি কার্ডধারী কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে সহায়তার অর্থ দেয়া হবে। এজন্য প্রায় ২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, কৃষিখাতে এ পুনর্বাসন কর্মসূচি নেয়ার ফলে দক্ষিলাঞ্চলের অন্তত ৩১ হাজার ৭০৩ হেক্টর জমি আমন চাষের আওতায় আসবে। এতে অতিরিক্ত ৭৯ হাজার ৬৩৮ মেট্রিক টন চাল উত্পাদিত হবে। তিনি বলেন, বীজ বিতরণ কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সার বিতরণ শুরু হবে। শুধু ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের এ সহায়তা দেয়া হবে জানিয়ে মতিয়া চৌধুরী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ২৮টি উপজেলার কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি কৃষক নির্বাচনসহ পুরো কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।
গত ১৬ মে ঘূর্ণিঝড় মহাসেন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে। ঝড়ো বাতাস ও এর প্রভাবে সৃষ্ট অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে মাঠ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সংবাদ সম্মেলনে কৃষি মন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
