দেশে এই বছরের প্রথম চতুর্ভাগে ৪৩ লক্ষ মোবাইল বিক্রি

বাংলাদেশে স্মার্টফোনের বাজার বেড়েছে ৩গুণ

আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৩, ১৮:১০
সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও স্মার্টফোনের বাজার দ্রুত বাড়ছে। আর সাধারণ ফিচার ফোনের বাজারটা কমে যাচ্ছে সময়ের সাথে সাথে। গত বছরের শেষ চতুর্ভাগের (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০১২) তুলনায় চলতি বছরের প্রথম চতুর্ভাগে (জানুয়ারি-মার্চ) স্মার্টফোনের বিক্রি বেড়েছে প্রায় ২২২ শতাংশ। সেই হিসেবে ওই সময়ের তুলনায় এই সময়ে এসে স্মার্টফোনের বাজার বেড়ে তিনগুণ ছাড়িয়ে গেছে। এই সময়ে অবশ্য সাধারণ ফিচার ফোনের বিক্রি কমে গেছে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ। ভারতভিত্তিক বাজার গবেষণা সংস্থা সাইবারমিডিয়া রিসার্চ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশব্যাপী মোবাইল ফোনের বিক্রি ছিল প্রায় ৪৩ লক্ষ ২৬ হাজার। স্মার্টফোনের বিক্রি দ্রুত বাড়লেও মোবাইল ফোনের বাজারে এখনও বিপুল ব্যবধানে রাজত্ব করে যাচ্ছে সাধারণ ফিচার ফোন। মোবাইল ফোনের মোট বাজারের ৯৬.৯ শতাংশ বাজার এখনও দখল করে রেখেছে সাধারণ ফিচার ফোন। অর্থাত্ এই প্রথম চতুর্ভাগে ফিচার ফোনের বিক্রি ছিল প্রায় ৪১ লক্ষ ৯৩ হাজার। অন্যদিকে স্মার্টফোনের বাজার মোট মোবাইল ফোনের বাজারের মাত্র ৩.১ শতাংশ। সেই হিসেবে প্রথম চতুর্ভাগে স্মার্টফোনের বিক্রি ছিল প্রায় ১ লক্ষ ৩৩ হাজার। গত বছরের শেষ চতুর্ভাগের তুলনায় অবশ্য সার্বিক মোবাইল ফোনের বাজার কিছুটা কমে গেছে। সাইবার মিডিয়া রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শেষ তিন মাসে মোবাইল ফোনের বিক্রি ছিল ৪৬ লক্ষ ২৬ হাজারেরও বেশি। সেই হিসেবে এই বছরের প্রথম তিন মাসে মোবাইল ফোনের বিক্রি কমেছে প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ। সাধারণ ফিচার ফোনের বিক্রি গত বছরের শেষ তিন মাসে ছিল ৪৫ লক্ষ ৮৪ হাজারেরও বেশি। অর্থাত্ এই বছরের প্রথম তিন মাসে ফিচার ফোনের বিক্রি কমেছে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ। তবে এই সময়ে চমক দেখিয়েছে স্মার্টফোন। গত বছরের শেষ চতুর্ভাগে স্মার্টফোনের বিক্রি ছিল মাত্র ৪১ হাজারের কিছু বেশি। এ বছরের শুরুর চতুর্ভাগে স্মার্টফোনের বিক্রি ২২২ শতাংশ বেড়ে বিক্রির পরিমাণ হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৩৩ হাজার। ফিচার ফোন এবং স্মার্টফোনের সম্মিলিত বাজারে দেশি ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোনেরই আধিক্য রয়েছে। ফিচার ফোন এবং স্মার্টফোন উভয় ক্যাটাগরিতেই মোবাইল ব্র্যান্ড হিসেবে শীর্ষে রয়েছে সিম্ফনি। সাইবার মিডিয়া রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সাধারণ ফিচার ফোনের বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশ দখল করে রেখেছে সিম্ফনি। এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড নকিয়া। তাদের দখলে রয়েছে মাত্র ১২ শতাংশ বাজার। তৃতীয় স্থানে থাকা ম্যাক্সিমাসের বাজার ৭ শতাংশ। সাইবার মিডিয়া রিসার্চের মন্তব্য, শক্তিশালী ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক, উন্নত গ্রাহকসেবা এবং বিভিন্ন রেঞ্জের ভালো মানের ফোনের কারণেই বাজারটা দখলে রাখতে সমর্থ হয়েছে সিম্ফনি। ফিচার ফোনের মতো স্মার্টফোনেও ৪৪ শতাংশ বাজার দখল করে শীর্ষে রয়েছে সিম্ফনি। স্মার্টফোনের বাজারে দ্বিতীয় স্থানটি দখল করে নিয়েছে স্যামসাং, যাদের বাজার দখল প্রায় ২২ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা আরেক দেশি ব্র্যান্ড ওয়ালটনের দখলে রেখেছে ৯.২ শতাংশ বাজার। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও স্মার্টফোনের বাজার প্রসারমাণ। তবে এখানকার বাজারে এখনও মূল্য সংবেদনশীলতা বাজারের অন্যতম প্রধান একটি উপাদান। সে কারণেই স্যামসাংয়ের মতো বিশ্বসেরা মোবাইল ব্র্যান্ড তাদের হাই-এন্ড সব স্মার্টফোনকে এই বাজারে উন্মুক্ত করলেও সিংহভাগ ক্রেতা এখনও স্বল্পমূল্যের মোবাইল ফোনের দিকেই ঝুঁকে রয়েছে। ফলে হাই-এন্ড স্মার্টফোন অত্যন্ত সীমিতসংখ্যক মানুষের মধ্যেই জনপ্রিয়তা লাভ করবে বলে মন্তব্য করেছে সাইবার মিডিয়া রিসার্চ। তবে ভারতের মোবাইলের বাজার যেভাবে প্রসারিত হয়েছে, বাংলাদেশের বাজারেও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ করা যায়।