মামলার অভিযোগপত্র প্রস্তুত, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন শেষে দাখিল

আপডেট : ১৩ মে ২০১৯, ০০:৪৯

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আলোচিত জুলহাস মান্নান ও মাহবুব রাব্বী তন্ময় হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে ৮ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। গতকাল রবিবার অভিযোগপত্র অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

অভিযুক্তদের মধ্যে গ্রেফতার আছে চারজন। তারা হলেন- আনসার আল ইসলামের মিডিয়া শাখার প্রধান এবং ইন্টেলিজেন্স সদস্য মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন (২৫), সামরিক শাখার সদস্য ও সমন্বয়ক আরাফাত রহমান (২৪), ইন্টেলিজেন্স শাখার প্রধান শেখ আব্দুল্লাহ (২৭) ও সামরিক শাখার সদস্য আসাদুল্লাহ (২৫)।

পলাতক আসামি চারজন। তারা হলেন- চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে মেজর জিয়া (৪২), আকরাম হোসেন (৩০), সাব্বিরুল হক চৌধুরী (২৬) ও জুনাইদ আহমদ ওরফে মাওলানা জুনেদ আহম্মদ ওরফে জুনায়েদ (২৬)।

মামলার তদন্ত সূত্র জানায়, মামলাটি তদন্তকালে হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত ১৩ জনের সম্পৃক্ততা পায় সিটিটিসি। ঘটনায় সম্পৃক্ত অপর পাঁচজন আসামির শুধু সাংগঠনিক নাম জানা যায়, পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় ৮ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের অদূর ভবিষ্যতে গ্রেফতার করা সম্ভব হলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। অভিযুক্তদের মধ্যে গ্রেফতারকৃত চারজন আদালতে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসামিদের জবানবন্দি এবং অন্যান্য সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে জানা যায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন আনসার আল ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের সক্রিয় সদস্য। সংগঠনের নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে মেজর জিয়া (চাকরিচ্যুত মেজর) এর নির্দেশে সংগঠনের সামরিক শাখার সদস্যরা হত্যাকাণ্ডটি ঘটায়।

২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল রাজধানীর ৩৫ নং উত্তর ধানমন্ডিতে ইউ এস এইড, ঢাকায় কর্মরত জুলহাস মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব রাব্বী তন্ময়কে সন্ত্রাসীরা নৃসংসভাবে হত্যা করে। এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় হত্যা মামলা করা হয়। প্রাথমিকভাবে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে। পরবর্তীতে ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ, সিটিটিসি তদন্তভার গ্রহণ করে এবং ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট চার আসামিকে গ্রেফতার করে।