আগের ব্যবস্থায় দলবদলের চেয়ে এখন বেশিরভাগ ক্লাবের খরচ তিন ভাগের এক ভাগ হয়ে যাবে। এরপরও টাকা নিয়ে এই নেগোসিয়েশন করার তো অর্থ হয় না।
গত পাঁচ-ছয় বছর ধরেই প্রিমিয়ার লিগের ক্লাকগুলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছ থেকে অল্প-বিস্তর অর্থ পেয়ে আসছে। কিন্তু গত বছর এই ‘অনুদান’টা লাফ দিয়ে ৩০ লাখের কোটা ছাড়িয়ে যায়। সেটা অনুদান না বলে ‘ক্ষতিপূরণ’ বলা ভালো। কারণ টাকাটা দেয়া হয়েছিল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) কারণে ক্লাবগুলোর যে ‘ক্ষতি’ হয়েছে সেটা পুষিয়ে দিতে। এবারও ক্লাবগুলো সেই দাবি করছে। তারা বলছে, বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন নাকি তাদের অনুদানের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। এমনকি বুধবার সিসিডিএমের নির্ধারিত সভা স্থগিত হয়ে যাওয়ার আগে ছয়টি ক্লাবের প্রতিনিধিরা দাবি তুলেছে আগে অনুদানের টাকা; তারপর দলবদল নিয়ে কথা!
কিন্তু বিসিবি সভাপতি পাপন গতকাল স্পষ্ট বললেন, তিনি এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। তার কাছে ক্লাবগুলো অনুদানের দাবি করায় তিনি বিবেচনা করতে চেয়েছেন মাত্র। আর দলবদলের সঙ্গে এই অনুদানের প্রসঙ্গ এক করে ফেলায় পাপন পরিষ্কার বলেছেন, ‘আমি টাকা দেব বলি নাই তো, ওনারা টাকা চেয়েছেন। ... আগের ব্যবস্থায় দলবদলের চেয়ে এখন বেশিরভাগ ক্লাবের খরচ তিন ভাগের এক ভাগ হয়ে যাবে। এরপরও টাকা নিয়ে এই নেগোসিয়েশন করার তো অর্থ হয় না। উল্টে তাদেরই বরং বিসিবিকে টাকা দেয়া উচিত।’
বোর্ড সভাপতিই ক্লাব কর্মকর্তা থাকা অবস্থায় প্রথম বিপিএলের জন্য ‘ক্ষতিপূরণ’ আদায়ে ক্লাবগুলোর আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এবারও ক্লাবগুলো তার কাছ থেকে আরো বড় অংকে অনুদান আশা করছিল। সেই দাবি নিয়েই একরকম তারা বুধবারের সভা ভেস্তে দিয়েছে বলেও অভিযোগ আছে।
বাইলজ নিয়ে আলোচনার জন্যই বুধবার রাতে সিসিডিএমের সভা ডাকা হয়েছিল। সে সভায় ছয়টি দলেরই কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত হননি। শারীরিক অসুস্থতার জন্য উপস্থিত হতে পারেননি সিসিডিএম চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসও। তার বদলে সভায় সভাপতিত্ব করতে গিয়ে বিরূপ পরিস্থিতি দেখতে পান সিসিডিএমের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান সহ-সভাপতি হানিফ ভুঁইয়া। সেখানে উপস্থিত ক্লাবগুলো দাবি করতে থাকেন যে, সভাপতি যে অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন; সেটা দলবদলের আগেই দিতে হবে।
সভাপতি কত টাকা অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কবে সেটা দেয়া হবে; এসব জানা না থাকায় ক্লাবগুলোর এই দাবির কোনো জবাব দিতে পারেননি হানিফ ভুঁইয়া। বরং তিনি চেয়েছিলেন, বাইলজ নিয়ে আলোচনাটা হোক; খুঁটিনাটি সমস্যা থাকলে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হোক। তা হওয়ার উপায় নেই দেখে তিনি সভা স্থগিত করে দিয়েছেন। হানিফ ভুঁইয়া নিজেই এই অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করে বলেছেন, ‘আমি তো না আছি ক্রিকেট বোর্ডে না সিসিডিএমের চেয়ারম্যান; ফলে ক্লাবগুলোর অনুদান বিষয়ক এসব দাবির ব্যাপারে আমার কিছু বলার ছিল না। আমি দেখলাম, বাইলজ নিয়ে আলোচনার বদলে টাকার আলোচনাটাই বড় হয়ে উঠেছে। সেক্ষেত্রে সভা শুরু করার আর কোনো অর্থই ছিল না। আমি সিসিডিএম চেয়ারম্যান জালাল ভাইকে জানাবো এটা। উনি বোর্ড সভাপতির সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেবেন আবার কবে মিটিং হবে।’
এই কথা যখন হানিফ ভুঁইয়া বলছেন, তার পনের দিনের মধ্যে দলবদল। এখন প্রশ্ন হল এখনো বাইলজ নিয়ে ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়নি, এ অবস্থায় ২৫ তারিখ দলবদল করা সম্ভব হবে কি না। একটি বড় ক্লাবের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা এক্ষেত্রে আগেই আপত্তিটা জানিয়ে রাখলেন, ‘আমরা এখনো রোটেশন না লটারি না গ্রেডিং এসব বিষয়ে কোনো কিছু আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে পারিনি। তাহলে দলবদলের প্রস্তুতিটা কখন নেব আমরা?’
অবশ্য বোর্ড সভাপতি নিশ্চিত যে, এসব আলোচনা দলবদল বা লিগে কোনো প্রভাব ফেলবে না। আসলে এই অনুদানের ব্যাপারটা লিগের সঙ্গে মেশানোয় তিনি বিরক্তও বটে। তারপরও পাপন বললেন, ‘এটা আসলে বোর্ডে আলোচনা করেই ঠিক করা হবে; এ বছরও অনুদান দেওয়া হবে কি না, হলে কতো টাকা অনুদান দেওয়া হবে।’
