বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে জাতীয় দলের অনুশীলন তখন মাত্রই শুরু হয়েছে। সকাল বেলায় কোচরা কেবলই খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ শুরু করছেন। এমন সময় খেলার পোশাকের বদলে সাধারণ পোশাকে স্টেডিয়ামে এলেন দুইদিন আগে জাতীয় দলের ট্রায়াল দিতে আসা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফারহান খান। না গতকাল আর অনুশীলন করতে এলেন না; জানাতে এলেন যে তার পক্ষে ক্যাম্পে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। তিন প্রবাসী খেলোয়াড়ের দ্বিতীয় জন হিসেবে নিজেকে প্রমাণের আগেই দেশে ফিরে যেতে হল ফারহানকে।
ফারহান কাল নিজে চলে গেলেন। আর পারফরম্যান্সজনিত কারণে কোচই ক্যাম্প থেকে ‘ছুটি’ দিয়ে দিলেন আমরান আজীজ, শাহেদুল আলম শাহেদ এবং উত্তম বনিককে। পারফরম্যান্স সন্তোষজনক না হওয়ায় ক্যাম্প থেকে বাদ দেয়া হয়েছে তাদের। ফলে দল ঘোষণার আগেই ছোট হতে শুরু করল জাতীয় দল।
ডাচ কোচ ক্রুইফ আগের দিন রাতে বিজেএমসির বিরুদ্ধে অনুশীলন ম্যাচ শেষে ফারহান সম্পর্কে সন্তোষই প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু পরদিন সকালেই ক্যাম্প থেকে স্বেচ্ছায় বিদায় নিলেন তিনি। দলীয় সূত্রে জানা গেল, ফারহানের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাকি ফোন এসেছে। ফলে তাকে চলে যেতে হচ্ছে। গুঞ্জন রয়েছে ফারহান খান জাতীয় দলের অনুশীলনের সাথে মানিয়ে নিতে পারেননি।
ফারহানের ব্যাপারটা একরকম আর বাকিদের ব্যাপারটা আরেক রকম। কাল ফারহান ছাড়াও ক্যাম্প ছেড়ে যেতে হয়েছে আবাহনীর মিডফিল্ডার আমরান আজিজ, একই দলের আরেক মিডফিল্ডার শাহেদুল আলম শাহেদ এবং শেখ রাসেলের ডিফেন্ডার উত্তম বনিককে। কোচ চাইছেন দলটাকে কমিয়ে আনতে। কারণ চূড়ান্ত দলটাকে ঘষে মেজে তৈরি করতে চান তিনি। দলে যাদের দরকার নেই তাদের পেছনে সময় নষ্ট করতে চান না কোচ। গতকাল সকালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছেন আরমান আজীজ, উত্তম বনিক এবং শাহেদুল আল আহমেদ। তখনও জানতেন না ক্রুইফের পাঠশালায় এটাই তাদের শেষ অনুশীলন। অনুশীলনের পরই জাতীয় দলের ম্যানেজার ইকবাল হোসেনকে ওই তিন ফুটবলারের ব্যাপারে মতামত জানিয়ে চলে যান ক্রুইফ। ইকবাল বাফুফে ভবনের তৃতীয় তলায় ক্যাম্পে এসে বসেন বাদ পড়াদের সাথে।
দুপুরে খেয়ে ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ির পথে রওনা দেন অনেক দিন পর জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাওয়া আরমান আজীজ, সাথে উত্তম বনিক এবং শাহেদুল। বাদ পড়ে যত না কষ্ট পেয়েছেন; কোচের কাছ থেকে সিদ্ধান্তটা সরাসরি না শুনে বেশি কষ্ট পেয়েছেন আরমান, ‘কোচ আমাকে বললেই হত যে, তার পরিকল্পনায় আমাদের রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আমি তো এইটুকু সৌজন্য আশা করতে পারি।’
অবশ্য নিজের ব্যর্থতাও স্বীকার করে নিয়েছেন মাঝমাঠের এই ফুটবলার, ‘লিগে আমি দুই ম্যাচ খেলে জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলাম। ফিটনেসের ঘাটতি ছিল আমার। ভেবে ছিলাম সাফ এখনও দূরে। এই সময়টায় আমি পরিশ্রম দিয়ে ফিটনেস ঘাটতিটা পূরণ করে ফেলব। সে সুযোগটা হলো না। তবে আমি আবার ফিরবো নিজেকে তৈরি করে।’
খাটি ফুটবলারের মতোই চ্যালেঞ্জ নিলেন আরমান।
