২০১৩ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৩, ১৭:১২
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় হিমন এডওয়ার্ড গমেজ, সহকারি শিক্ষক সেন্ট গ্রেগরীজ হাই স্কুল, ঢাকা প্রিয় শিক্ষার্থীরা শুভেচ্ছা জানবে, আশা করি তোমরা ভাল আছ। তোমাদের প্রতি অধ্যায়ের সর্বোচ্চ প্রস্তুতির জন্য আজ বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ের রচনামূলক প্রশ্নসমূহ দেওয়া হলো। প্রস্তুতিকে সমৃদ্ধ করার জন্য অবশ্যই পাঠ্যবইটি ভালোভাবে পড়তে হবে। পাঠ্যবই থেকে তোমাদের জন্য ৮টি প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান- ৫। অধ্যায়-২ আমাদের বাংলাদেশ ( ইংরেজ শাসন) ক. পলাশীর যুদ্ধ কেন হয়েছিল? এ যুদ্ধের ফলাফল কী ছিল? নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব। নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পর ১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলা মাত্র ২২ বছর বয়সে বাংলার নবাব হতে হয়। কিন্তু সিংহাসনে আরোহণ করেই তরুণ নবাব নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হন। এই ষড়যন্ত্রের চূড়ান্তরূপ হচ্ছে পলাশীর যুদ্ধ। পলাশীর যুদ্ধের কারণ: পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন নবাবী শাসনের অবসান হয়। এই যুদ্ধের কারণসমূহ নিন্মরূপ: নবাব সিরাজউদ্দৌলার বড় খালা ঘসেটি বেগম ও পরিবারের কতিপয় সদস্যদের বিরোধীতা। প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলী খানের মতো ঘনিষ্ঠজনদের ষড়যন্ত্র। ইংরেজ বণিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান শক্তি বৃদ্ধি। নবাবের নিজের দেশের প্রভাবশালী বণিক গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রে যোগদান। নবাবের সাথে ইংরেজ বাহিনীর বিরোধীতা। উপরোক্ত কারণগুলোর জন্য ১৭৫৭ সালে ২৩ জুন ইংরেজ শক্তির সাথে নবাবের সৈন্যদের পলাশীর প্রান্তরে যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজয় বরণ করে এবং বাংলায় ইংরেজ শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয়। পলাশী যুদ্ধের ফলাফল: পলাশীল যুদ্ধে নবাব সিরাজ উদ্দৌলার পরাজয়ের ফলাফল নিচে উপস্থাপন করা হলো:- এ যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলাফল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। এ যুুদ্ধে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য প্রায় দুশ বছরের জন্য অস্তমিত হয়। মীর জাফর নামমাত্র নবাবী লাভ করেন কিন্তু বাংলা শাসন ক্ষমতা ইংরেজদের হাতে চলে যায়। বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা জয়ের মধ্যে দিয়ে ইংরেজ শাসনের সূত্রপাত হয়। ইংরেজদের শাসনের নামে শোষণের সূচনা হয়। উপমহাদেশ সাধারণ মানুষ, দুঃখ ও দুর্দশার মাঝে নিপতিত হয়। ব্যবসায় বাণিজ্যে ইংরেজদের একচেটিয়া অধিকার লাভ ও দেশীয় ব্যবসায়ীরা সর্বস্বান্ত হয়। নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে শুধু নবাবে পরাজয় হয়নি বরং পরাজিত হয়েছিল বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সর্বস্তরের জনগণ। তাই বাংলা যেন আর কোন দিন এই ভাবে মীরজাফরদের মত বিশ্বাসঘাতক ও ইংরেজ বাহিনীর মত আর কোন বাহিনীর হাতে স্বাধীনতা না হারায় সেদিকে আমাদের দৃষ্টি রাখতে হবে। বাংলা স্মৃতিশ সানা, সহকারি শিক্ষক এস ও এস হারম্যান মেইনার কলেজ, ঢাকা প্রিয় শিক্ষার্থীরা বাংলা বিষয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ মডেল প্রশ্ন দেয়া হলো আশা করি বাসায় চর্চা করবে। এই দেশ এই মানুষ প্রদত্ত অনুচ্ছেদ পড়ে ১,২,৩ এবং ৪ ক্রমিক প্রশ্নের উত্তর দাও। আমাদের এই দেশ নানা জাতির, নানা ধর্মের, নানা পেশার মানুষের বাসস্থান। বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ বাংলায় কথা বলে। এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বাঙালি। বাংলাদেশের বাইরে ও বাঙালি রয়েছে। আবার বাংলাদেশে এমন লোকজনও আছে যারা বাঙালি নয়। যেমন চাকমা জনগোষ্ঠী। তাদের নিজস্ব মাতৃভাষা আছে। তাদের জীবন যাপন ও উত্সবের ধরনও আলাদা। এরকম আরও কয়েকটি জনগোষ্ঠী হলো - সাঁওতাল, মুরং, মারমা, লুসাই, গারো, তংচঙ্গা প্রভৃতি। অনেকরকম নিজস্বতা আছে তাদের। এসব বৈচিত্র্য নিয়েই আমাদের দেশ। ১। সঠিক উত্তরটি উত্তরপত্রে লেখো: ৫ i. বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ— ক. বাঙালি খ. চাকমা গ. গারো ঘ. মুরং ii. বাংলাদেশ অনেকটা কার মতো ? ক. জনক খ. জননী গ. খালা ঘ. ফুফু iii. সীমান্তের ওপারে ভারতের কোন রাজ্য ক. বিহার খ. উড়িষ্যা গ. ত্রিপুরা ঘ. উত্তর প্রদেশ iv. আমরা যারা বাংলাদেশে জন্মেছি তারা- ক. বাঙালি খ.বাংলাদেশের চাকমা গ. চাকমা ঘ. বাংলাদেশের বাঙালি v. ‘একই দেশ অথচ কত বৈচিত্র্য’। এখানে দেশ বলতে কোন দেশ বুঝানো হয়েছে ? ক. বাংলাদেশ খ. ভারত গ. মায়ানমার ঘ. চীন ২। নিচে কয়েকটি শব্দ ও শব্দার্থ দেয়া হলো। উপযুক্ত শব্দটি দিয়ে নিচের বাক্যগুলোর শূন্যস্থান পূরণ করো। ৫ শব্দ শব্দার্থ জনপদ লোকজনের বসতি রয়েছে এমন জায়গা বৈচিত্র্য বিভিন্নতা সৌভাগ্য ভালো ভাগ্য উত্সব আনন্দের অনুষ্ঠান সুখ্যাতি সুনাম, প্রশংসা সংখ্যাগরিষ্ঠ সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ক.বাংলাদেশের — মানুষ কথা বলে বাংলা ভাষায়। খ.আমরা ঈদ,পূজা, বড়দিন ইত্যাদি —উদযাপন করি। গ.বিভিন্ন মানুষের পেশার মধ্যে — রয়েছে। ঘ.এদেশের নদীর তীরে তীরে অনেক — গড়ে উঠেছে। ঙ.বাংলাদেশে জন্মেছি, এটা আমাদের —। ৩। নিচের শব্দগুলোর যুক্তবর্ণ বিভাজন করে লেখো: ৫ পরীক্ষা, স্বজন, বৌদ্ধ, সংখ্যাগরিষ্ঠ, যুক্তবর্ণ। ৪। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তরদাও: ১০ ক. বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বাঙালি - কথাটি বুঝিয়ে লেখো। খ.বাংলাদেশের জনজীবন ভারি বৈচিত্র্যময়। প্রদত্ত অনুচ্ছেদ পড়ে ৫,৬,৭ এবং ৮ ক্রমিক প্রশ্নের উত্তর দাও। গাছের গানে মুগ্ধ পাতা মুগ্ধ স্বর্ণলতা ছন্দ- সুরে ফুলের সাথে প্রজাপতির কথা ফুল পাখি নই, নইকো পাহাড় ঝরণা সাগর নই মায়ের মুখের মধুর ভাষায় মনের কথা কই। ৫। সঠিক উত্তরটি উত্তরপত্রে লেখো: ৫ i.ফুলের সাথে কে কথা বলে ? ক. স্বর্ণলতা খ.পাহাড় গ. ঝরণা ঘ. প্রজাপতি ii. ফুল পাখি নয় কে ? ক. মা খ. কবি গ.স্বর্ণলতা ঘ. প্রজাপতি iii. বাংলা ভাষা কী রকম ভাষা ? ক. বাহারী খ. রক্তিম গ. মধুর গ. তিক্ত iv. নদী কোথায় পতিত হয় ? ক. সাগরে খ. পাহাড়ে গ. পর্বতে ঘ. জলপ্রপাতে v. একুশে ফেব্রুয়ারি কী ? ক. স্বাধীনতা দিবস খ. বিজয় দিবস খ. বুদ্ধিজীবী দিবস ঘ. ভাষা শহিদ দিবস মডেলের পরবর্তী অংশ আগামীকাল বিজ্ঞান মহসিন হোসেন সহকারি শিক্ষক, শহীদ বীরউত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ, ঢাকা প্রিয় শিক্ষার্থীরা গত বুধবারের পর মডেলের পরবর্তী অংশ আজ ছাপা হলো ২। নিচের বাক্যগুলো উত্তরপত্রে লিখে উপযুক্ত শব্দ দ্বারা শূন্যস্থান পূরণ করঃ ১–১০=১০ ক) ........ ফুড স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। খ) পৃথিবীর সকল প্রাণী খাদ্যের জন্য ...... ওপর নির্ভরশীল। গ) টলটলে পুকুরের পানিও ............ হতে পারে। ঘ) পানি ফুটতে শুরু করলে আরও ............ তাপ দিলে পানিতে থাকা জীবাণু মারা যায়। ঙ) এনোফিলিস স্ত্রী মশার কামড়ে ................রোগ হয়। চ) আমাদের ঘিরে আছে............। ছ) জলস্রোতকে ব্যবহার করে............. তৈরি হয়। জ) শক্তি................ করা বা ............... করা যায় না। ঝ) বায়ুতে কার্বন ডাই অক্সাইড বেড়ে গেলে বায়ু .......... হয়। ঞ) সকল উেসর পানি ................... নয়। ৩। সংক্ষেপে উত্তর দাওঃ ১–১০=১০ ক) পরিবেশ কী? খ) মাটির কণার ফাঁকে ফাঁকে কী থাকে? গ) সুষম খাদ্য কাকে বলে? ঘ) পদার্থ কাকে বলে? ঙ) পানি চক্র কাকে বলে? চ) বায়ু দূষণের কারণে কী কী রোগ হতে পারে? ছ) সৌর বিদ্যুত্ কী? জ) খাদ্য সংরক্ষণ কাকে বলে? ঝ) জাঙ্ক ফুড কী? ঞ) সংক্রামক রোগ কাকে বলে? ৪। ক ও খ নং প্রশ্নসহ যেকোনো আটটি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ (বর্ণনামূলক) ৫–৮=৪০ ক) কীভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণী পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে বর্ণনা কর। খ) কোন পদার্থ কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় দশায় থাকে কেন? ব্যাখ্যা কর। গ) বায়ু কীভাবে দূষিত হয় তা আলোচনা কর। ঘ) বায়ুতে যে সব সময়ই কিছু জলীয় বাষ্প থাকে তা কীভাবে প্রমাণ করবে? ঙ) পরিবেশ সংরক্ষণের উপায় বর্ণনা কর। চ) শক্তির অপচয় ঘটে এমন ঘটনার কয়েকটি উদাহরণ দাও। ছ) বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খাদ্য সংরক্ষণ বর্ণনা কর। জ) পরিমিত খাদ্য কী? পরিমিত খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর। ঝ) শব্দ দূষণ রোধে তুমি কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পার লিখ। ঞ) কোনোদিন ভ্যাপসা গরম পড়লে বা গরমে ঘাম হলে দেখা যায় সেদিন বৃষ্টি হয়। কেন হয় তা ব্যাখ্যা কর।