আবারো শেষ হাসি ভারতের

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৩, ২০:২০
গত ২০১১ সালের শ্বিকাপের ফাইনাল থেকে শুরু। বড় কোন টুর্নামেন্টের ফাইনাল মানেই ভারতের জয়। বিশ্বকাপের পর এই ক’দিন আগে শেষ হওয়া আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালেও সেই একই অবস্থা। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ক্যারিবীয় ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপাও জিতে নিলো ভারত। শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ইনজুরি থেকে ফিরেই অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি দলকে জয়ের আনন্দে ভাসালেন। এ যেন এক যাদুর কাঠির নামই মহেন্দ্র সিং ধোনি। ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের দায়িত্ব পাওয়ার পর একের পর এক সাফল্য এনে দিচ্ছেন যেন অলৌকিক কোনো যাদুর কাঠির ছোঁয়ায়। ত্রিদেশীয় সিরিজের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনাল ম্যাচে শ্রীলংকাকে এক উইকেটে হারিয়ে সেই ধারাবাহিকতাই ধরে রাখলো মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারত। বৃহস্পতিবার কুইন্স পার্কে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ পায় শ্রীলংকা। শ্রীলংকার ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন দুই ওপেনার উপুল থারাঙ্গা এবং মাহেলা জয়বর্ধনে। শ্রীলংকার ইনিংসে কুমার সাঙ্গাকারা ১০০ বলে ৭১ এবং লাহেরু ত্রিমেনির ৭২ বলে ৪৬ ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যানই উল্লেখযোগ্য স্কোর করতে পারেননি। ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারের সাত বল বাকি থাকতেই ২০১ রানে গুটিয়ে যায় লংকানদের ইনিংস। ভারতের পক্ষে রবিন্দ্র জাদেজা ২৩ রান খরচায় সর্বোচ্চ চার উইকেট নেন। এছাড়া ভুবেনশ্বর কুমার, ভিনয় কুমার এবং রবিচন্দন অশ্বিন প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। ২০২ রানের মামুলি স্কোর তাড়া করতে রীতিমত নাকানী চুবানী খেতে হয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে একেবারে খাদের কিনারে গিয়ে পড়ে ভারত। ৪৯ তম ওভার। দলীয় স্কোরবোর্ড তখন ৯ উইকেটে ১৮৭। অর্থাত্ জয়ের জন্য প্রয়োজন ছয় বলে ১৫ রান। তাতে কি ? ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে ভারতীয় ক্রিকেটের সেই যাদুর কাঠি ধোনি। ইনিংসের ৫০ তম ওভারটি করতে বল হাতে সামিন্দা এরাঙ্গা। প্রথম বল ডট গেলেও দ্বিতীয় বলেই ছক্কা। তৃতীয় বলে পয়েন্ট অঞ্চল দিয়ে গড়াতে গড়াতে বল সীমানার বাইরে। পরের বলেই আবার লংঅফ দিয়ে বলকে শূন্যে ভাসিয়ে দিলেন ভারতীয় দলের কান্ডারি। দলের পরাজয়কে মাঠের বাইরে আছড়ে পড়তে দেখে দু’হাত উঁচু করে জয়ের উল্লাসে মেতে উঠলেন মাহেন্দ্র সিং ধোনি। ফলে ৫০ ওভার ইনিংসের দুই বল হাতে রেখেই এক উইকেটের জয় তুলে নেয় ভারত। দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৫ রান করে অপরাজিত থাকেন ধোনি। ৫২ বল মোকাবিলা করে পাঁচ চার ও দুই ছয়ে এ রান করেন তিনি। এছাড়া ওপেনার রোহিত শর্মা দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৮ রান করেন। লংকানদের পক্ষে রঙ্গনা হেরাথ ২০ রানে সর্বোচ্চ চারটি এবং সামিন্দা ইরেঙ্গা দুই উইকেট নেন। এছাড়া লাকমাল, মেথুস এবং মালিঙ্গা প্রত্যেকে নেন একটি করে উইকেট। অপরাজিত ৪৫ রান করে দলের জয়ের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ফাইনালে ম্যান অব দি ম্যাচের পুরস্কারটি জিতে নেন অধিনায়ক মাহেন্দ্র সিং ধোনি এবং পুরো সিরিজে দারুণ বল করার সুবাদে ম্যান অব দি সিরিজের খেতাবটি অর্জন করেন ভারতের ডানহাতি ফাস্ট বোলার ভুবেনেশ্বর কুমার। এমন এক জয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই উল্লসিত গোটা ভারতীয় দল। আর জয়ের জন্য সবাই ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে ফেরা অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকেই কৃতীত্ব দিচ্ছেন। ভারতীয় ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা বলেন, ‘ সে (ধোনি) এমনটা আমাদের জন্য সব সময়ই করে। তার মতো একজন খেলোয়াড় দলের অধিনায়ক হওয়ায় আমরা সত্যিই ভাগ্যবান। তাকে অনেক বছর ধরেই আমরা এমনটা করতে দেখে আসছি। তাই এটা আমাদের জন্য বড় কোন বিস্ময় ছিল না।’ অন্যদিকে অধিনায়ক ধোনি বলেন, ‘আমার মতে, ক্রিকেটীয় জ্ঞানের দিক থেকে আমি বেশ এগিয়ে। আমার ধারণা ছিল শেষ ওভারে ১৫ রান তুলতে আমাদের খুব একটা সমস্যা হবে না। কারণ, যে বোলারের বল করার কথা ছিল সে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নয়।’