পাপনের কথায় ক্লাবপাড়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৩, ২১:১৬
কয়েকটি ক্লাব সোজাসুজি বলে দিচ্ছে, অনুদানের টাকা না পেলে এই বর্ষার মৌসুমে লিগই খেলবে না তারা। আবার শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি ক্লাব একটু নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। তারা বোর্ড সভাপতির ওপর ভরসা রাখতে চায়। ফলে সবকিছু মিলিয়ে বোর্ড সভাপতির সঙ্গে বৈঠকেই সমাধান খুঁজছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেট ক্লাব সমিতি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছ থেকে অনুদান না পেলে যে আসন্ন প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের দলবদল শুরু হচ্ছে না এটা এখন মোটামুটি পরিষ্কার। যদিও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন লিগ চালুর জন্য এ ধরনের কোন অনুদান দেয়ার প্রতিশ্রুতির কথা অস্বীকার করেছেন। তবে ক্লাব কর্মকর্তাদের কথাতে এটা পরিষ্কার যে অনুদান ছাড়া তারা লিগে অংশ নিতে আগ্রহী নন। গত বুধবার ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিশের (সিসিডিএম) বৈঠকটা স্থগিত হয়ে যায় মূলত কয়েকটি ক্লাবের আগেই অনুদান চাওয়ার প্রেক্ষিতে। এসব ক্লাবের দাবি ছিল, বিসিবি সভাপতি তাদের অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন; সেই অনুদান না পাওয়া পর্যন্ত দলবদলে অংশ নেবেন না তারা। কিন্তু বিসিবি সভাপতি বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, তিনি এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। গতকাল শুক্রবার একাধিক ক্লাব কর্মকর্তার সাথে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে বিসিবির কাছ থেকে বড় অংকের অনুদান প্রত্যাশা করেন। কয়েকটি ক্লাব সোজাসুজি বলে দিচ্ছে, অনুদানের টাকা না পেলে এই বর্ষার মৌসুমে লিগই খেলবে না তারা। আবার শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি ক্লাব একটু নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। তারা বোর্ড সভাপতির ওপর ভরসা রাখতে চায়। ফলে সবকিছু মিলিয়ে বোর্ড সভাপতির সঙ্গে বৈঠকেই সমাধান খুঁজছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেট ক্লাব সমিতি। সম্ভাব্য এ বৈঠকে সমাধান মিলতে পারে বলে আশাবাদী ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেট ক্লাব সমিতির সভাপতি মনজুর কাদের। তিনি বলছেন, ‘ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ও বিসিবি সভাপতির সঙ্গে আলোচনায় সমাধান হবে পরিস্থিতির। তবে তিনি জোর দিয়েই বললেন, ক্লাবগুলোর এই টাকার দাবি অত্যন্ত ন্যায্য, ‘বিসিবির এখন কোটি কোটি টাকা পড়ে আছে। এই টাকা কিসের জন্য? ক্রিকেট উন্নয়নের জন্য নিশ্চয়ই? বাংলাদেশের ক্রিকেটার তৈরি বলুন, ক্রিকেটের উন্নতি বলুন; এই ক্লাবগুলোই করে। ক্লাবগুলো পকেট থেকে, ডোনেশন নিয়ে এই বিপুল খরচ কত আর চালাতে পারে? তাই আমরা টাকা চেয়েছি।’ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কারো কারো মতে এডহক কমিটির এই বিপুল টাকা অনুদান দেয়ার এখতিয়ার নেই। তাই হয়তো অনুদান প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি পিছু হটেছেন। এই যুক্তিকেও নস্যাত্ করে দিলেন মনজুর কাদের, ‘এডহক কমিটি সব অপারেশনই তো করছে। এডহক কমিটি বলে কিছুই তো আটকে নেই। তাহলে ক্লাবগুলোর এই ন্যায্য দাবিটা পূরণ করতে সমস্যা কোথায়।’ কয়েকটি ক্লাব আবার নিজেদের দাবিতে এতোটাই অনড় যে, দাবিপূরণ না হলে লিগ না খেলার কথাও বলে দিল তারা। এর মধ্যে ক্রিকেট কোচিং স্কুল (সিসিএস) এর সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল ইউসুফ চৌধুরী নিকু বললেন, ‘আমরা এক কোটি টাকা করে দাবি করেছিলাম। উনি (বিসিবি সভাপতি) মিটিংয়ে বলেছিলেন, আগের বারের চেয়ে বেশি দেয়ার চেষ্টা করবেন। আগের বার ৩৫ লাখ টাকা করে পেয়েছিল ক্লাবগুলো; তখন উনি আবাহনীর কর্মকর্তা ছিলেন। এবার তাহলে ৪০ লাখ টাকা অন্তত পাবো আমরা? কিন্তু উনি তার অবস্থান বদলে ফেলেছেন। এটা বিসিবি সভাপতির মতো পদে থেকে কেউ করবেন, তা একেবারেই কাম্য নয়। আমি পরিষ্কার বলছি, এই টাকা না পেলে আমরা বর্ষার সময় লিগ খেলবো না।’ মোহামেডানের ডিরেক্টর ইন চার্জ লোকমান হোসেন ভুঁইয়া মনজুর কাদেরের কথার সঙ্গে একমত। তিনিও মনে করেন, ক্লাবগুলোর টাকা পাওয়া উচিত। তবে সেটা নিয়ে ‘আগে টাকা, পরে দলবদল’ জাতীয় কথা বলার পক্ষে তিনি নন, ‘আমরা লিগ খেলতে চাই। আমাদের টাকারও দরকার আছে। কিন্তু দলবদলের আগেই টাকা দিতে হবে, এরকম দাবির অর্থ নেই। আমার মনে হয়, সভাপতির সঙ্গে ক্লাবগুলোর বৈঠক হলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’ বিসিবি সভাপতি পাপন অবশ্য আরেকটা যুক্তি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, খেলোয়াড়দের নিয়ে করা গ্রেডিং পদ্ধতিতে ক্লাবগুলোর খরচ অনেক কমে যাওয়ায় তাদের অনুদান নিয়ে এতো দর কষাকষি করার আর অর্থ হয় না। তার সঙ্গে একমত পোষণ করলেন আবাহনীর কর্মকর্তা ও এডহক কমিটিরই সদস্য ইসমাইল হায়দার মল্লিক, ‘হ্যা, এই কথায় আসলেই যুক্তি আছে। আমাদের বড় একটা দাবি ছিল, দল গঠন করতে অনেক খরচ হয়ে যায়। সেই খরচটা তো কমে এসেছে। ফলে উনি এটা বলতে পারেন। তবে আমি বলছি না যে, আমাদের আর টাকার দরকার নেই। কিন্তু টাকা না পেলে দলবদল করবো না, আবাহনী এমন কথা কখনো বলেনি।’ আবাহনী না বললেও সিসিএস বলছে। আর খুব কড়া সুরেই বিসিবি সভাপতির এই খরচ কমার যুক্তিরও সমালোচনা করলেন সিসিএসের কমকর্তা নিকু, ‘এই পদ্ধতি তো বোর্ড আমাদের বলে দেয়নি। এটা ক্লাবগুলোই ঠিক করেছে। খরচ কমলেও কত আর কমবে। সবচেয়ে বড় কথা, এই বর্ষার সময় আমরা লিগ খেলবো কেন? আমরা এই অফ সিজনে লিগ খেলতে রাজি হয়েছিলাম বোর্ড সভাপতি আগের বারের চেয়ে বেশি অনুদান দিতে রাজি হওয়ায়। সেটা না পেলে আমরা লিগ কেন খেলবো?’