বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৩, ২১:৪৩
উত্তরাঞ্চলের কয়েক জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। খবর দৈনিক ইত্তেফাক জেলা প্রতিনিধি ও থানা সংবাদদাতাদের। সিরাজগঞ্জ যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে প্রতিনিয়ত ভাঙ্গনে পানিবন্দী হয়েছে জেলার হাজার হাজার পরিবার। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। ইতিমধ্যে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার প্রায় ৩৫টি ইউনিয়নসহ জেলার নিম্নাঞ্চলখ্যাত কাজিপুর, শাহজাদপুর, চৌহালী, বেলকুচির লক্ষাধিক মানুষ। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধ পয়েন্টে বিপদসীমার ৫২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সাথে চৌহালী উপজেলার বোয়ালকান্দি থেকে পাথরাইল পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে ভাঙ্গন। চৌহালী উপজেলা পরিষদ ভাঙ্গন থেকে মাত্র ৫ হতে ১০ মিটার দূরে থাকায় জরুরি কাগজপত্র ও আসবাবপত্র নিরাপদে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. বিল্লাল হোসেন জানান, বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করছি। বন্যাকবলিত এলাকায় বানভাসি মানুষের সহযোগিতায় সরকারের পক্ষ থেকে সকল ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দিনাজপুর অফিস গতকাল শনিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এমপি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ৯ নং ভিয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ৮৫০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতারণ করেন। অতিবর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উত্তরাঞ্চলের ৭টি জেলায় সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নগদ ৩৪ লাখ টাকা, ১২শ’ টন জিআর চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ঠাকুরগাঁও ঠাকুরগাঁও বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ঘরে ফিরতে পারছেন না দুর্গতরা। পানিতে তলিয়ে গেছে তাদের সব কিছু। কিন্তু পুনর্বাসনের জন্য আর্থিক সহায়তা না পাওয়ায় হতাশায় রয়েছেন তারা। এদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণসামগ্রী লুটপাট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জনপ্রতিনিধিরা। টানা সাতদিনের বিরামহীন ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে জেলার টাঙ্গন, শুক, সেনুয়া, কুলিক ও নাগর নদীর পানি বেড়ে তলিয়ে যায় জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩০টি গ্রাম। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জেলা শহরের টাঙ্গন নদীর তীরবর্তী ডিসিবস্তি, হঠাত্পাড়া, মুন্সিপাড়াসহ আশপাশের ২০ গ্রামের মানুষ। বাড়িঘরে পানি উঠায় তাদের অনেকে আশ্রয় নেন ১৮টি আশ্রয় কেন্দ্রে। সব কিছু হারিয়ে এখন দিশেহারা তারা। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও আর্থিক সংকটে ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না তারা। এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান আশরাফুল হক চৌধুরী সরকারি কর্মকর্তাদের দিকে আঙুল তুলে বলেন, পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণসামগ্রী ও অর্থ লুটপাট করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মুকেশ চন্দ্র বিশ্বাস নদীর বিপদসীমার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে জানিয়ে বলেন, জেলায় সরকারিভাবে এ পর্যন্ত ৭২ টন চাল ও নগদ আড়াই লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সহায়তা করা হবে। সারিয়াকান্দি (বগুড়া) বগুড়ার সারিয়াকান্দি যমুনা নদীর পানি কমতে থাকায় তীব্র স্রোতে চন্দনবাইশা স্পারের অবশিষ্ট অংশ বিলীন হয়ে যাচ্ছে । গত বছর বন্যার সময় যমুনার ভাঙ্গনে চন্দনবাইশা এলাকায় ৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজ, শত বছরের জমিদার প্রমদানাথ রায় বাহাদুরের নামে প্রতিষ্ঠিত নওখিলা পি এন উচ্চ বিদ্যালয় , নির্মাণাধীন ইউনিয়ন পরিষদ ভবন , চন্দনবাইশা বাজার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় । নদী ভাঙ্গনের ফলে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে শত শত হেক্টর জমির আমন, বীজতলা বন্যার পানিতে বিনষ্ট হয়। পাকা রাস্তা, ব্রিজ-কালভার্ট পানির স্রোতে বিধ্বস্ত হয়। গতকাল শনিবার প্রচণ্ড স্রোতের তোড়ে ভাঙ্গন রোধে নির্মিত চন্দনবাইশা স্পারের ১৫ মিটার বিলীন হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম সরকার বলেন, বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে স্পারটি রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে । ধুনট (বগুড়া) বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বন্যানিয়ন্ত্র বাঁধের পূর্ব পাশের ১৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যাকবলিত গ্রামগুলো হলো শহরাবাড়ী, শিমুলবাড়ী, কৈয়াগাড়ী, বানিয়াজান, আটাচর, নিউ সারিয়াকান্দি, বথুয়ারভিটা, বৈশাখী, রাধানগর, পুকুরিয়া, ভূতমারী, রঘুনাথপুর, বড়ইতলী ও কচুগাড়ী । গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ৭ সে.মি. কমলেও এখনও বিপদসীমার ১০ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানি প্রবেশ করায় প্রায় দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে বাঁধে আশ্রয় নিচ্ছে।