যশোরে এবার দুই লাখ কেজি পোনার রেকর্ড উত্পাদন

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৩, ২৩:২১
যশোরের চাঁচড়ার মত্স্যপল্লীতে ১৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেণু উত্পাদন হয়েছে। উত্পাদনকারীদের মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক। অনুকূল আবহাওয়া বিশেষত আগাম বৃষ্টি রেণুচাষিদের জন্য আশীর্বাদ বয়ে এনেছে। এ মৌসুমে প্রায় ৪০ কোটি টাকার প্রায় দুই লাখ কেজি রেণুপোনা উত্পাদন হয়েছে। এই রেণুপোনায় মাছ চাষ করে যশোর জেলার বার্ষিক ৪৫ হাজার টন মাছের চাহিদা পূরণ হয়েও অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ টন মাছ থাকবে। এ থেকে আয় হবে আরো প্রায় তিন হাজার ৫০০ কোটি টাকা। যশোর জেলা মত্স্যচাষি সমিতি সূত্র জানায়, যশোরের মত্স্যপল্লী চাঁচড়া দেশের মোট চাহিদার ৬০ ভাগ রেণুপোনা সরবরাহ করে। এখানকার ৮২টি হ্যাচারি বছরে প্রায় দুই লাখ ৬০ হাজার কেজি রেণু উত্পাদন করে আসছিল। কিন্তু গত কয়েক বছর লোকসানের কারণে ৪০টি হ্যাচারি বন্ধ হয়ে যায়। এ বছরের আগাম বৃষ্টিপাত পোনা উত্পাদনের জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনে। এ বছর ৪২টি হ্যাচারি রেণু পোনার উত্পাদনে যায়। চৈত্র থেকে মধ্য আষাঢ় রেণুপোনা উত্পাদনের ভরা মৌসুম। এ সময় সবচেয়ে বেশি রেণুপোনা উত্পাদন হয়ে থাকে। যশোরের হ্যাচারিগুলো রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, গ্রাসকার্প, বিগহেড, থাই সরপুঁটি, মিরর কার্প, চিতল, আইড়, তেলাপিয়া, মনোসেক্স তেলাপিয়া, শিং, কৈ, থাই কৈ, পাঙ্গাস প্রভৃতি মাছের পোনা উত্পাদন করে থাকে। এখানে বর্তমানে কেজিপ্রতি গড়ে দুই হাজার টাকা করে রেণু বিক্রি হচ্ছে। হ্যাচারির পাশাপাশি যশোরে মাছ চাষের নার্সারি রয়েছে ৫ থেকে ৬ হাজার। যশোর জেলা মত্স্যচাষি সমিতি কর্মকর্তারা জানান, বিগত বছরগুলোতে রেণুপোনা উত্পাদন করে লোকসান গুণতে হচ্ছিল। এবার যে রেণুপোনা উত্পাদন হয়েছে তা ১৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এতে উত্পাদনকারীরা লাভের মুখ দেখতে পেয়েছেন। যশোর জেলা মত্স্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, যশোর জেলায় এবার মাছ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ ধরা হয়েছে। এর পরিমাণ এক লাখ ৪২ হাজার টন। জুন মাসের মধ্যে এক লাখ ১৯ হাজার টন উত্পাদন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার বাকি ২৩ টন উত্পাদন হলে এখাতে এবার আয় হবে তিন হাজার ৫০০ কোটি টাকা। গত বছর এ জেলায় মাছ উত্পাদন হয়েছিল ৭২ হাজার টন। জেলা মত্স্য অফিস দেশি মাছ রক্ষা ও প্রাকৃতিক উত্স থেকে পর্যাপ্ত মাছ প্রাপ্তির লক্ষ্যে জেলায় ১৩টি অভয়াশ্রম তৈরি করেছে। সূত্র জানায়, যশোর জেলায় বার্ষিক মাছের চাহিদা ৪৫ হাজার টন। এ হিসেবে এ জেলায় এবার যে মাছ উত্পাদন হবে তা থেকে ৯৭ হাজার টন মাছ জেলার বাইরে বিক্রি করা যাবে। জেলার অর্ধলক্ষাধিক মানুষ মাছ চাষ সংক্রান্ত কাজের সাথে যুক্ত রয়েছে।