ভারতের নয়াদিল্লীর ত্রিবেণী আর্ট গ্যালারিতে গত ৪ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে চিত্রশিল্পী নবপ্রীত কাউরের একক চিত্রকলা প্রদর্শনী, ‘স্পিচেলস ইলোকোয়েন্স’! বিগত ত্রিশ বছর যাবত্ নবপ্রীত কাউর শিল্পচর্চায় মগ্ন। তার ছবির বিষয় হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে নারী মনের অন্তর্কথা, স্বপ্ন, মনস্তত্ত্ব, বঞ্চনা, নিঃসঙ্গতা, স্নিগ্ধতা, সৌন্দর্য, স্বাধীনতা, পূর্ণতা অতঃপর বিজয়ের কাব্য। তিনি স্যুরিয়েলিষ্টিক ধারায় কাজ করেন এবং তাঁর কাজে ফিগারেটিভ ফর্ম প্রাধান্য পায়। নবপ্রীত কাউরের প্রদর্শনীটি উদ্বোধন করেন মুম্বাইয়ের স্বনামধন্য ‘ধুমিমাল’ আর্ট গ্যালারির কর্ণধার মিসেস উমা জৈন! একজন সংবেদনশীল মানুষ নবপ্রীত। যিনি তাঁর চারপাশের দেখা অভিজ্ঞতার আলোকে অজস্র নারীদের সংস্পর্শে এসেছেন, হূদয় দিয়ে অনুভব করেছেন তাঁদের আনন্দ, বেদনা, স্বপ্ন, দুঃস্বপ্ন, পরাধীনতাকে! নারী মনের অজস্র অনুভব, স্বপ্ন... অতঃপর ‘আশার গল্প’ হয়ে উঠেছে তাঁর ক্যানভাসের উপাত্ত। কখনো এ্যাক্রিলিক, চারকোল, মিশ্র মাধ্যমে কাজ করেছেন শিল্পী। ক্যানভাসের বিভিন্ন সাইজে করেছেন চিত্রকর্ম। নারীর গৃহগল্প, পোষা প্রাণী, উন্মুক্ত টিয়া, কাঠবিড়ালী, ব্যাঙ, কিশোরী, ফুল বিভিন্ন কিছু এসেছে শিল্পীর কাজে। নারীর অন্তরমহলের কথকতায় অনুভব করা যায় শিল্পীর সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অনুভব, স্বপ্ন ও আশার প্রত্যাশা কোন এক দখিন দুয়ারের স্বপ্নের কথা বলে। যেখানে নারী সুন্দর, সমৃদ্ধ, আশান্বিত। তাঁর রঙের ব্যবহারে আছে অদ্ভুত নাট্যময়তা, চড়া ও হাল্কা দু’ধরনের রঙের ব্যবহারই আছে তাঁর কাজে। উল্লেখ্য যে, তাঁর কাজের সবচাইতে বড়ো দিক হলো, ‘স্বকীয়তা’ এবং ধারাবাহিকতা, নিজস্বতা যা অনায়াসেই শিল্পী নবপ্রীত কাউরকে বিশেষভাবে নির্দিষ্ট করে তোলে। ৬০টি চিত্রকর্ম নিয়ে তাঁর প্রদর্শনীটি ছিল বর্ণাঢ্য! শিল্পী নবপ্রীত কাউর মনে করেন নারীরা শক্তিময়ী, সৃষ্টিশীল। নারীর নারী সুলভতার মাঝে আছে অপার সৌন্দর্য ও সম্ভাবনা। সেই সম্ভাবনার কথা বলে যায় তাঁর শিল্পকর্ম। যেখানে নারী নারী হয়েও মহীয়ান, সৃজনশীল অতঃপর বিজয়ী হতে পারে। পুরুষ নারীর শত্রু নয়, বন্ধুত্ব ও শ্রদ্ধার স্থানে পুরুষ অনায়াসেই স্থান করে নিতে পারেন। সেখানে মানবিক সম্পর্কের উপর থাকবে সমতা, উপলব্ধি, বিশ্বাস। জীবনকে প্রতি মুহূর্তে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন শিল্পী, খুঁজে নেন জীবনের সব রঙ, ঠাঁই নেন ক্যানভাসে, যেখানে নারী মনের অজস্র স্বপ্ন মালা গাঁথে তুলির আঁচড়ে।
