বহুল আলোচিত ব্যাংক কোম্পানি বিলসহ তিনটি বিল পাস

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৩, ২১:৩১
বিরোধী দলের আপত্তির মুখে গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদে তিনটি বিল পাস হয়েছে। বিল তিনটি হচ্ছে বহুল আলোচিত ‘ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) বিল-২০১৩’, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল বোর্ড বিল-২০১৩ এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন বিল-২০১৩। গতকাল বিকালে জাতীয় সংসদে বিল তিনটি নিয়ে প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা ধরে আলোচনা চলে। প্রতিটি বিল নিয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন। বিল পাস না করার জন্য বিরোধী দল আপত্তি করলেও সরকার দলীয় সদস্যদের কণ্ঠভোটে আপত্তি নাকচ হয়ে যায় এবং তিনটি বিল পাস হয়। ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) বিলের ১৫ ধারার ১০ উপ-ধারায় বলা হয়েছে, অন্য কোন আইনে অথবা ব্যাংক কোম্পানির সংঘ স্মারক ও সংঘ বিধিতে অন্য যা কিছুই থাকুক না কেন, এ আইন কার্যকর হওয়ার পর কোন ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক পদের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে তিন বছর। তবে শর্ত থাকে যে, কোন ব্যাংক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা যে নামেই অভিহিত থাকুক না কেন অন্য কোন পরিচালক একাদিক্রমে দুই মেয়াদের বেশি ঐ পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবে না। বিলে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, একক, বা অন্যের সাথে যৌথভাবে, কোন ব্যাংক কোম্পানির উল্লেখযোগ্য শেয়ার ধারক হতে পারবে না। যদি কোন ব্যাংক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা ম্যানেজার কোন কোম্পানির পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট থাকেন বা তাতে তার কোন স্বার্থ থাকে, তাহলে এ আইন প্রবর্তনের তারিখ থেকে এক বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা ম্যানেজার ঐ কোম্পানিতে কোন শেয়ার ধারণ করতে পারবে না। বিলের ২৬ ক ধারায় বলা হয়েছে, কোন ব্যাংক কোম্পানি অন্য কোন শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে শেয়ার বাজার মূল্যে ওই ব্যাংক-কোম্পানির আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম, সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও রিটেইন্ড আর্নিংস-এর মোট পরিমাণের পাঁচ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করবে না ও ঐ কোম্পানির আদায়কৃত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিচালকের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ সীমা নির্ধারণে আনা বিলে শেয়ার সংক্রান্ত বিধান লংঘন করলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। লংঘন অব্যাহত থাকলে প্রথম দিনের পর প্রতিদিনের জন্য ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যক্তি বা কোম্পানিকে জরিমানা করতে পারবে। একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদে বিলটি উত্থাপন করে পাসের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল বোর্ড বিল যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলেন, সামপ্রতিক বছরগুলোতে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ খাতে চাহিদার ১৩ থেকে ১৬ ভাগের বেশি অর্থের যোগান দেয়া সম্ভব হয়নি। ফলে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে পুঞ্জিভূত দায় ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। জাতীয় স্থল পরিবহন নীতিমালা, ২০০৪-এ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল গঠনের বিষয়ে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের আওতাধীন সড়কসমূহের সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও সংস্কারের জন্য একটি সড়ক তহবিল গঠনের লক্ষ্যে এ বিলটি পাস হয়েছে। বিল সম্পর্কে বিরোধী দলের সদস্যদের দেয়া বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিরোধী দলের কথা শুনে মনে হচ্ছে পাঁচ সিটি করপোরেশনে বিজয়ী হয়ে তাদের মরাগাঙ্গে জোয়ার এসেছে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে, জোয়ারের পরও ভাটা আসে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন বিল জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, বিলটি পাস হলে এর মাধ্যমে দেশের নদ-নদীগুলো অবৈধ দখলমুক্ত এবং নদীর দূষণ রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। সে সাথে নদ-নদীগুলোতে প্রাণের সঞ্চার হবে। নদীমাতৃক দেশে নদীর নাব্যতা রক্ষায় নদীরক্ষা কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।