‘ক্যাপ্টেন কুল’ হিসেবেই সবচেয়ে বেশি পরিচিত ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। আর সেই যোগ্যতার প্রমাণ আরো একবার দিলেন তিনি। সদ্য শেষ হওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ম্যাচে ঠাণ্ডা মাথায় দুর্দান্ত ব্যাটিং করে একাই ভারতকে চ্যাম্পিয়ন করলেন ধোনি। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছাড়ার আগে ভারতীয় এক সাংবাদিককে ধোনী বলে গেলেন, ‘হয়তো এটাই আমার শেষ ক্যারিবীয় সফর।’
ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে বেশ কয়েকবারই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করেছেন ধোনি। এরমধ্যে তারজন্য সবচেয়ে কষ্টদায়ক সফর ছিল ২০০৭ সালেরটি। ২০০৭ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল ভারত। আর উইকেটরক্ষক হিসেবেই ঐ দলে ছিলেন ধোনি।
তবে প্রায় ছয় বছর পর অন্যরকম স্বাদ নিয়ে দেশে ফিরছেন ধোনি। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের সাথে ত্রিদেশীয় শিরোপাও নিয়ে দেশে যাচ্ছেন তিনি। তাই হয়তো অতীতের সেইসব কষ্ট নিশ্চিতভাবেই রিসাইকেল বিনে ফেলে দিয়েছেন ধোনি। দুটি শিরোপা যখন ধোনির হাতের মুঠোয় তখন স্বাভাবিকভাবেই তার উচ্ছ্বাসটা অনেক বেশিই থাকার কথা। ঠিকই তাই। কিন্তু তারপরও মনের মধ্যে কেমন যেন একটা কষ্ট লুকিয়ে আছে ধোনির। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছাড়ার আগ মুহূর্তে সেই কষ্টটাই প্রকাশ পেল ধোনির কণ্ঠে। কি সেই কষ্ট?
ক্যারিবীয় সফরের শুরুতে কিছু জ্যামাইকান ডলার সাথে রেখেছিলেন ধোনি। আর সফর শেষে সেই পরিমাণটা ছিল ১২শ জ্যামাইকান ডলার। তাই পরিচিত এক সাংবাদিককে ডেকে ধোনি বললেন, ‘এই ডলারগুলো আপনি রেখে দিন। আপনার কাজে লাগবে। আমার আর কোন কাজে আসবে না এগুলো।’
তখন ঐ সাংবাদিকটি উল্টো ধোনিকে বলেন, ‘না। আমার চাইতে আপনার বেশি কাজে লাগবে এই ডলারগুলো। আবার তো এদেশে আপনি খেলতে আসবেন। তখন তা কাজে লাগাবেন।’ সাংবাদিকের ঐ কথা শুনে ধোনি এবার বললেন, ‘আমার মনে হয় না আবার এদেশে আমার আসা হবে।’ কিন্তু কেন আর ওয়েস্ট ইন্ডিজে আসা হবে না ধোনির, তা কিন্তু স্পষ্ট করেননি তিনি। কারণ ঐ কথাটি বলেই তাড়াহুড়া করে ঐ স্থান ত্যাগ করেন ধোনি।
এদিকে দারুণ অধিনায়কত্বের জন্য ভারতজুড়েই এখন প্রশংসায় ভাসছেন ধোনি। সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি বলেন, ‘ধোনি পূর্ণাঙ্গ এক প্যাকেজ। আমি ক্যারিয়ারে অনেক খেলোয়াড়ের সাথেই খেলেছি। কিন্তু ধোনির মতো কাউকে পাইনি, ব্যাটিং আর অধিনায়কত্ব সব মিলিয়ে সেই এই মুহূর্তে সেরা।’ —বাসস
