বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দেনা-পাওনা নিয়ে গভর্নিং কাউন্সিল ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের গেম অনের গতকালের বৈঠকও যথারীতি ‘নস্ফিলা’ এক বৈঠক হিসেবে শেষ হল। বিপিএলের দ্বিতীয় আসর শেষ হওয়ার ছয় মাস পর এখন গভর্নিং কাউন্সিল নাকি গতকাল বৈঠকে প্রথম নিজেদের পাওনার ব্যাপারে পরিষ্কার জানালো গেম অনকে। আর গেম অন কর্তৃপক্ষ আজকের মধ্যে সে পাওনা নিজেদের হিসাব বিভাগকে দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিজেদের মতামত জানাবে।
এই দীর্ঘসূত্রতার বৈঠক শেষে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান সিনহা ও গেম অন স্পোর্টসের স্বত্বাধিকারী এনায়েতুর রহমান বাপ্পী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেখানে দুপক্ষই বললেন, আরো একটু সময় লাগবে হিসাবের ব্যাপারে একমত হতে। তবে দুপক্ষই সংবাদ সম্মেলনে বারবার আশার কথা শোনালেন আর বললেন—সবকিছু একমাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।
এ বছর ফেব্রুয়ারির ১৯ তারিখে শেষ হয়েছে বিপিএলের দ্বিতীয় আসর। প্রথম আসরে গেম অনের কাছ থেকে পাওনা ঠিকমতো বুঝে পেলেও এবার এখনো পাওনার কিছুই পায়নি বিসিবি। এর মধ্যে দুই দফা ব্যাংক গ্যারান্টি তুলে নিয়েও গেছে গেম অন। অবশ্য দিন দুয়েক আগে আবার ১০ কোটি টাকার একটি ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দিয়েছে গেম অন।
এখন বিসিবির দাবি অনুযায়ী এই ১০ কোটি টাকার চেয়ে ঢের বেশি প্রায় ২৮ কোটি টাকা তারা পাবে গেম অনের কাছে। সেটা কাল সংবাদ সম্মেলনে পরিষ্কার করে বললেন আফজালুর রহমান সিনহা। গেম অন কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার করে একবারও বললো না যে, তাদের হিসেবে পাওনাটা কতো। তবে বাপ্পী বারবার বললেন, তাদের হিসাব বিভাগ আলাদা করে হিসাবটা দিলে বুঝতে পারেন কোনো গরমিল আছে কি না। এছাড়া আরেকটা দাবি বাপ্পী এই বৈঠকে তুলেছেন, ‘আমরা হিসাব পেলেই বুঝতে পারবো। কালই (আজ) আশাকরি সেটা বোঝা যাবে। আমরা এমনিতে বিসিবির কাছে কোনো ছাড় চাচ্ছি না। তবে পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা না আসায় আমরা যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি সেটা বিসিবিকে বিবেচনায় নিতে অনুরোধ করছি।’
এই অনুরোধটার ব্যাপার আফজালুর রহমান সিনহাও স্বীকার করলেন। তবে তিনি বললেন, এটা বিবেচনা করা না করা বিসিবির এখতিয়ার। তবে তিনি দফায় দফায় আশার কথা শোনালেন, এসব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
কিন্তু সেটা এতোদিন পর কেন? কেন এতোদিন পর এসে এই সমাধানের প্রথম পর্যায়ের আলোচনা হচ্ছে? কেন বিসিবির পাওনাটা বুঝে পেতে এতো দেরি হল? বিপিএল চেয়ারম্যান তার মতো করে ব্যাখ্যা দিলেন, ‘এতোদিন তো আমাদের মধ্যে পাওনাটা নিয়ে সমঝোতা হয়নি। উনি (বাপ্পী) দেশের বাইরে ছিলেন, আরো নানান কারণ ছিল।’
আর বাপ্পী এখানে তাদের পাওনা আদায়ের জটিলতার কথা তুলে ধরলেন, ‘আমাদের এখানে একটা বিজ্ঞাপনের টাকা পেতে ১২০ দিন কেটে যায়। ছয় মাসেও অনেক টাকা পাইনি আমরা। তাই একটু সময় লাগছে। তবে পাওনা আমরা আটকে রাখবো না।’
এর মধ্যে নানা প্রসঙ্গই এলো। ব্যাংক গ্যারান্টি তুলে নেয়ার প্রসঙ্গে বাপ্পী বললেন, কিছু ব্যাংকিং জটিলতার জন্য এটা করেছিলেন তারা। তবে গ্যারান্টির অর্থ যাই জমা থাক, তারা যে টাকা নির্ধারিত হবে পুরোটাই দেবেন বলে কথা দিলেন। আর শেষও করলেন ওই কথা দিয়ে, ‘সিনহা ভাই একমাসের কথা বলেছেন। আমি বলছি, তারও কম সময়ে সমাধান হয়ে যাবে। আরেকটা ব্যাপার, আমরা এক হয়েই বলছি, আমাদের সম্পর্ক নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই।’
