আলমারির দরজা সামান্য ফাঁক করলেই একরাশ পোশাক ঝাঁপিয়ে পড়ছে আপনার ঘাড়ে? সদ্য কেনা লেহেঙ্গা চালান করতে হয়েছে জুতোর বাক্সের আড়ালে? অবস্থা সঙ্গিন। মাঝে মাঝেই মনে হচ্ছে পুরো ঘরটা জিনিসপত্রের স্তূপ। এ ক্ষেত্রে আপনার ওয়ার্ডরোবটি হতে পারে এই সমস্যা সমাধানে সময়ের সবচেয়ে বড় উপায়। এ নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন তাহের মানিক
হয়তো ঈদের কেনাকাটা শুরু করেছেন বা প্রায় সেরে ফেলেছেন। কিন্তু নতুন কেনা জিনিসগুলো ঢোকালেন কোথায়? ঈদের জন্য তো আর রাতারাতি আপনার ওয়ার্ডরোবের খানকয়েক তাক গজাবে না! উপায়? ভাবছেন, দেওয়ালজোড়া স্টোরেজ থাকতে জায়গা নিয়ে চিন্তা কী? কিংবা, আলমারিতে না ধরুক, বাড়ির সুটকেসগুলোতেই না হয় এই ক’টা দিনের জন্য নতুন জিনিসের ঠাঁই হবে। কিন্তু এভাবে ঠেসেঠুসে রাখতে গিয়ে যে নতুন কেনা শাড়িটার ভাঁজ গিয়েছে খুলে আর নতুন-পুরোনো অ্যাকসেসরিস মিলেমিশে বেশ একখানা খিচুড়ি অবস্থা হয়ে আছে, তার কী হবে! এর জন্যই দরকার ওয়ার্ডরোব ম্যানেজমেন্ট।
কাকে ফেলবেন কাকে রাখবেন
ওয়ার্ডরোব গোছাতে বসে প্রত্যেকটা তাক খালি করে প্রথমেই দেখে নিন কী কী একেবারে ফেলে দেওয়া যায়। ফেলে দিতে গিয়ে আবার অনেক সময় কোনটা ফেলা উচিত, আর কোনটা রাখা উচিত বোঝা যায় না।
তা হলে বাতিল করবেন কী দেখে?
++ স্কুল বা কলেজজীবনের পরীক্ষায় পরে যাওয়ার জন্য জামা যত্ন করে তোলা আছে। অথচ এ জীবনে আর স্কুল-কলেজের পরীক্ষা দিতে হবে না। ফেলে দিন।
++ এক যুগ আগে আপনার যখন ছিপছিপে শরীর ছিল, তখন এই পোশাক ভালো লাগত। কবে ফের রোগা হবেন, তার জন্য রাখা আছে। গুডবাই বলুন।
++ আউট অব ফ্যাশন হয়ে গিয়েছে। রাখবেন না।
++ ছোট্টবেলার অ্যাকসেসরি, এখন মোটেই মানাচ্ছে না। বাড়ির ক্ষুদে সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দিন।
এ বার একটা বড় বক্স নিয়ে বাতিল জিনিসগুলো পুরে ফেলুন। তবে পুরনো সুতির শাড়ি, সুতির দোপাট্টা ফেলে দেবেন না। এগুলো দিয়ে দামি জিনিস জড়িয়ে রাখতে পারেন। তাকের ওপর এই নরম কাপড় পেতে দামি জামাকাপড়ও রাখা যায়।
বাড়তি জিনিসপত্র
মাস্টার বেডরুম স্টোরেজেই অনেক সময় আমরা অতিরিক্ত বেডকভার, বেডশিট, পিলো বা কুশন কভার, এমনকি শীতের কম্বলও রেখে দিই। ফলে জামাকাপড় রাখার জায়গা যায় কমে। স্টোরেজের জায়গায় টান পড়লে আপাতত যে ঘর একটু কম ব্যবহার হয় (যেমন, স্টাডি রুম) সেখানকার কোনো স্টোরেজে চালান করতে পারেন। কম্বলের কেস সরিয়ে পুরোনো বেডকভার বা শাড়ি মুড়ে রাখলে বেশি জায়গা নেবে না। অথবা, একটু শক্তপোক্ত প্যাকিং কেসে অতিরিক্ত আপহোলস্ট্রি রাখুন। এক কোণে রেখে ওপরে সুতির দোপাট্টা বা পুরোনো পর্দার টুকরো পেতে তার ওপর দু-চারটে শোপিস সাজিয়ে দিতে পারেন। দেখতেও মন্দ হবে না, ধপ করে কেউ বসেও পড়বে না।
ভাগ করে নিন
আপনার কেনা পোশাকগুলো কয়েকটি ভাগে ভাগ করে ফেলুন। যেমন, শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ এবং অন্যান্য (স্কার্ট, লহেঙ্গা, ওয়েস্টার্ন ড্রেস ইত্যাদি)। এবার ঝপ ঝপ করে বিভাগ অনুযায়ী সাজিয়ে ফেলুন। শাড়ির সঙ্গেই থাকবে ম্যাচিং ব্লাউজ আর সায়া। সালোয়ার-কামিজের পুরো সেট, ফতুয়া, জিন্স সুন্দর করে সেট অনুযায়ী সাজিয়ে রাখুন একইভাবে ছেলেদের ওয়ার্ডরোবও ক্যাজুয়াল, ফর্মালে ভাগ করে নিতে পারেন।
অ্যাকসেসরি’র রকমভেদ
গয়নাগাটি যা কিনেছেন, তাকেও দু’ভাগ করে নিন। এথনিক সাজের সঙ্গে এক রকম আর পশ্চিমী সাজের জন্য অন্য রকম। শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে যা পরা যেতে পারে, তাদের একটা বক্স-এ পুরে সেই তাকের এক পাশে রেখে দিন। একইভাবে ওয়েস্টার্ন-এর সঙ্গে পরার অ্যাকসেসরি অন্য বক্স-এ পুরে সেই তাকে রাখুন। এতে খুঁজতে সময় অনেক কম খরচ হবে।
ঠিকঠাক সাজিয়ে নিন
টপ বা শার্ট ঝোলানোর সময় স্লিভ এবং দৈর্ঘ্য অনুযায়ী রাখবেন। অর্থাত্, পুরো হাতা লম্বা ঝুলের জামা এক ধারে, তার পর কম ঝুল এবং শর্ট স্লিভড। স্লিভলেস থাকবে সারির শেষে। ভালো হয় যদি রং অনুযায়ী সাজাতে পারেন। হালকা রঙের পোশাক থেকে শুরু করে গাঢ় পোশাক বা মাঝে হালকা আর দু’দিকে গাঢ়, এভাবে একটা প্যাটার্ন মেনে সাজালে দেখতে পরিচ্ছন্ন লাগে। যদি পারেন হ্যাঙারগুলোও একই রকম রাখার চেষ্টা করুন। হয় কাঠের, নয়তো স্টিলের বা প্লাস্টিকের। এক সঙ্গে মেশালে দেখতে ভালো লাগে না। তাকে রাখার সময় ভারী পোশাক সবসময় নিচে রাখবেন, হালকা ওপরে। ঢাকাইয়ের ওপর ভারী কাঞ্জিভরম সাজিয়ে রাখলে ঢাকাইটির নাভিশ্বাস উঠতে সময় তো লাগবেই না, ভাঁজে ভাঁজে ছিঁড়েও যেতে পারে।
মডেল কারিশমা
অনুষঙ্গ গ্রিটিন্স
