একটা সময় ছিল যখন ঢাকা শহরে বার্গার বলতে গুলিস্তানের পূর্ণিমা হোটেলের চিকেন ফ্রাই আর কাটা বনরুটিকেই বোঝাত। হাড়সহ মুরগির মাংস বেসনে ডুবিয়ে ভাজা, এই বস্তু রুটির মধ্যে গুঁজে খেতে মোটামুটি সবারই কিঞ্চিত বেগ পেতে হতো। এ তো গেল পুরান ঢাকার কথা। নতুন ঢাকায় বার্গার বোঝাতে ক্যান্ডিফ্লস আর উইম্পি ছিল সেরা। এগুলোও অবশ্য খুব যে ১০০ ভাগ বার্গারের মান রাখতে পেরেছিল তাও বলা যায় না। একটা সময় গুলশানের মল্লিকার চিকেন বার্গার তো সবার মুখে মুখে ছিল। এই কাহিনী শুনে হয়তো মনে হচ্ছে, ঢাকায় বার্গারের ইতিহাসটা মোগল খাবারের মতো না হলেও তার কাছাকাছি কিছু একটা। কিন্তু আসলেই কী তাই? এর সবচেয়ে ভলো উত্তর দিতে পারবেন বার্গার-প্রেমীরা। বিএফসি’র ক্রিসপি চিকেন বার্গার আর আমেরিকান বার্গারের স্বাদ বাদ দিলে ঢাকার বার্গার বাজারটা এখনও গুলিস্তানের পূর্ণিমা কালচারেই আটকে আছে। নেহায়েত কিছু মানুষ হয়তো নিউমার্কেটের টেরিন বার্গার আর ওয়েস্টার্নগ্রিলের গ্রিল বার্গার চেখে দেখেছেন, বাকি সবারই বার্গার ভোজ সারতে হয় বিএফসি, কেএফসির মোড়ে। না, আপনাদের জন্য এখানেই বার্গারের ইতিহাস শেষ নয়। এ সপ্তাহের ফুডজোনে আমরা শুধুই বার্গারের কথা বলব। এমন এক বার্গার যেটা খাওয়ার পরে আপনি নিজেই বিশ্বাস করতে শুরু করবেন, বাংলাদেশেও হয় বার্গার।
প্রথমেই সাদা তিল ছড়ানো নরম রুটি। ভুসভুসে মাখনে ভাজা মাংসের গন্ধটা ইতোমধ্যে পুরো ঘ্রাণশক্তিকে আবিষ্ট করে তুলবে। রুটির ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে মনোযোগ আটকে যাবে ঠাণ্ডা, কচকচে সবুজ ভেষজ স্বাদে। এটা নিঃসন্দেহে ফ্রেস একফালি ক্যাপসিকাম। তারপরের অংশটা নোনা। চিজ বলে কথা। এখান থেকেই গরম ভাপ টের পাওয়া যাবে। আর একটু সামনে বাড়তেই মাংসের স্বাদ। মাখনে ভাজা তুলতুলে নরম মাংসের প্যাটি। টাটকা গন্ধ, আর তাজা মাংসের স্বাদের গলি-ঘুপচিতে হারিয়ে যাবেন কিছুক্ষণ। এটা হলো লাইভ কিচেনের নতুন সংযোজন বিফ ডাবলডেকার বার্গার। এতে এক জোড়া মাংসের প্যাটি আর উপর্যুপরি চিজ ঢালা আছে। বিপদ হলো, এই বার্গার একবার খাওয়ার পরে আবার খেতে মন চাইবে। এতক্ষণ যে বার্গার কেন্দ্রিক আলোচনা হচ্ছিল সেটি লাইফ কিচেন-এর। লাইভ কিচেন, যেখানে খাবার রান্না হয় আপনার চোখের সামনেই। এই থিউরি পুরোনো। এখানে নতুন হলো, একেবারেই লাইভ স্টাইলে বার্গার তৈরি করা। কিমা তৈরি করে আপনার সামনেই মাংসের বড়া ভাজা হবে। আর ধোঁয়া উড়তে উড়তে আপনাকে নাকাল করে ছাড়বে লাইভ কিচেনের বার্গার। এখানে বার্গার শুরু হয় ১৮০ টাকা থেকে। শেষ হয় ৩০০-তে। বিফ ডাবলডেকার বার্গার খাওয়া যাবে ৩০০ টাকায় আর ২৫০ টাকার চিজ লাভার্স। এই দুইটার যেকোনো একটা বার্গার খেলে আপনি আটকা পড়ে যাবেন লাইভ কিচেনের বার্গার জালে।
বার্গার ছাড়াও এখানে খেতে পারবেন ফ্রাইড রাইস, বিফ/চিকেন কারি, নুডলস, এমন অনেককিছু। মাত্র ১৮০ টাকায় লাঞ্চ করতে পারবে যে কেউ, বললেন উদ্যোক্তাদের একজন সাদিকুল আরেফিন। ৪০০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে তৈরি এই লাইভ কিচেনে খেতে পারবেন একসাথে ২৫ জন। জুন থেকে চালু হওয়া এই বার্গার শপে ইতোমধ্যে গাড়ি পার্কিং করতে লাইন দিতে হয়। আর বার্গার খেতে অপেক্ষা করতে হয় পাক্কা ২০ মিনিট। ছাতা ঝুলিয়ে তৈরি ছাদ, সামনে খোলা জায়গা। পথের পাশেই খাবার ঘর। আর সেখানেই তৈরি হচ্ছে মন ভালো করে দেওয়া বার্গার।
একদল দুর্দমনীয় তরুণের উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট—এমনটা অনেকে শুরুতে মনে করলেও এখন তারাই লাইনে দাঁড়িয়ে বার্গার খাচ্ছেন লাইভ কিচেনের। বনানী ১১ নম্বরে অবস্থতি এই লাইভ কিচেন এখনও যাদের বাড়ির কাছ থেকে একটু দূরে তাদের জন্য বলছি, খুব শীঘ্রই লাইভ কিচেন সারা ঢাকার বিভিন্ন জায়গাতে বার্গার বুথ বসাতে যাচ্ছে।
