সত্তরের দশকের মাঝামাঝি শুরু হয়েছে ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট নামে ঢাকার সর্বোচ্চ ক্রিকেট লিগ। এরপর নব্বইয়ের দশকে এসে নাম বদলে সেটা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ হয়েছে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে এরকম একটার পর একটা কারণে চলতি মৌসুমের মতো লিগ নিয়ে পিছানোর খেলা কখনো হয়েছে বলে কেউ মনে করতে পারেন না। পিছাতে পেছাতে ২০১২-১৩ মৌসুমের ক্রিকেট লিগ অনেক আগেই পুরোপুরি অনিশ্চিয়তার দিকে চলে গেছে। সর্বশেষ ক্লাবগুলো অক্টোবরে লিগ খেলার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা শুনে আয়োজক সংস্থা সিসিডিএমের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস পরিষ্কার বললেন, ‘সেপ্টেম্বরে হলে লিগ হবে। কিন্তু অক্টোবরে নিয়ে গেলে এ মৌসুমের লিগ আর আয়োজন সম্ভব হবে না।’
মার্চ মাস থেকে নানান যুক্তিতে একেক সময় লিগ পিছানো হয়েছে। কখনো খেলোয়াড়দের আন্দোলন, কখনো ক্লাবগুলোর খেলোয়াড়-সংকট, কখনো আকসু রিপোর্ট, কখনো আন্তর্জাতিক সূচি; একটার পর একটা অজুহাত এসে পিছিয়ে দিয়েছে লিগকে। সর্বশেষ ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিশ (সিসিডিএম) সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ২৫ জুলাই দলবদল হবে এবং ২৯ আগস্ট থেকে শুরু হবে লিগ।
কিন্তু ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা ঈদের পর, মানে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দলবদল করতে চায়। আর অক্টোবর থেকে লিগ খেলতে চায়। কিন্তু অক্টোবরে লিগ আয়োজনের কোনো সুযোগ নেই বলেই মনে করছেন সিসিডিএম চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালক জালাল ইউনুস। যুক্তি দিয়েই তিনি বোঝালেন,‘অক্টোবরে নিউজিল্যান্ড চলে আসবে বাংলাদেশে। তখন কী করে লিগ আয়োজন সম্ভব। লিগ খেলতে হলে সেপ্টেম্বরেই খেলতে হবে। অক্টোবরে লিগের কোনো সুযোগ নেই।’অক্টোবরে লিগ আয়োজনের সুযোগ দেখছেন না বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পালও। তিনিও মনে করেন, লিগ করতে চাইলে এর আগেই করে ফেলতে হবে, ‘অক্টোবরে গেলেই তো আর এ লিগ হবে না। শুধু নিউজিল্যান্ডের খেলা আছে, সেটাই না। অক্টোবরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য আইসিসির কাছে ভেন্যুগুলো হস্তান্তর করে দিতে হবে। এতোগুলো ভেন্যু হস্তান্তর করে দিয়ে আপনি ম্যাচ খেলাবেন কোথায়?’
তবে ক্লাব সমিতির মূল দাবি মেনেও এখনও লিগ আয়োজন সম্ভব বলেই মনে করছেন জালাল ইউনুস। তার কথা পরিষ্কার, ‘ঈদের পর দলবদল করুন। তারপর ১ সেপ্টেম্বর থেকেই খেলা শুরু করে দিন। তাহলেই লিগ শেষ করা সম্ভব। এটুকু করতে না পারলে আমরা কিভাবে লিগ আয়োজন করব?’
তবে জালাল ইউনুস যতোই আশাবাদী হোন না কেন, আর আশার তেমন কোনো সুযোগ দেখছেন না দেবব্রত। তিনি মনে করছেন, এ মৌসুমে তো বটেই, আগামী মৌসুমেও লিগ আয়োজন করতে হিমসিম খাবে সিসিডিএম, ‘আমরা খুবই হতাশ। অক্টোবরে প্রস্তাব করা হয়েছে লিগ। তা যে হবে না, যে কেউ বুঝতে পারে। এরপর আগামী বছরের লিগ। আপনি দুটো লিগের কথা বাদ দিন। পরের বছরের লিগটা কিভাবে ঠিকমতো আয়োজন করবেন? টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আছে, জাতীয় লিগ খেলতে হবে, বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ আছে। এর মাঝে নিশ্চয়ই বিপিএলের জন্য সুযোগ খুঁজবে। আবার দেশেই এশিয়া কাপ আছে। কখন কোন্টা করবেন? কিছুই তো বোঝা যাচ্ছে না।’
এতোদিন এই লিগ সংকটের জন্য খেলোয়াড়রা বিসিবি ও ক্লাবগুলোকে দায় দিতেন। কিন্তু দেবব্রত গতকাল অভিমান ভরেই দায়টা নিজেদের কাঁধে নিয়ে নিলেন, ‘এর জন্য আমরা খেলোয়াড়রাই দায়ী। খেলোয়াড়রা যতোদিন সচেতন না হবে, ভোকাল না হবে; খেলা নিয়ে এ রকম চলতে থাকবে। খেলা নিয়ে খেলোয়াড়রা না ভাবলে কেউ ভেবে দেবে না।’
