অ্যাশেজের কল্যাণে আলোচনায় ‘ডিআরএস’

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৩, ২১:৩৯
অ্যাশেজের প্রথম টেস্টের পুরোটাই জুড়ে ছিল ‘ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম’ (ডিআরএস) নাটক। আর টেস্ট শেষে সেই নাটক এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কারণ ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া প্রথম টেস্ট শেষে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠলো- ‘অন্তত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডিআরএস-এর প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ আর তাই অ্যাশেজের কারণেই রোমাঞ্চকর অবস্থায় এখন ‘ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস)’। বিশ্বের অনেক ক্রিকেট সিরিজেই ‘ডিআরএস’ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে দলগুলো। তবে এবারের এ্যাশেজ সিরিজে ‘ডিআরএস’ ব্যবহার করার সিদ্ধান্তে একমত ছিল ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। তাই সিরিজের প্রথম টেস্ট থেকেই ‘ডিআরএস’ ব্যবহার করেছে তারা। তবে টেস্টের প্রথম দিন থেকেই চলেছে ‘ডিআরএস’ নাটক। আর টেস্ট শেষে সেই নাটক পৌঁছে গেছে আলোচনার সর্বোত্তম কেন্দ্রবিন্দুতে। কারণ দুটি ঘটনায় ‘ডিআরএস’-এর প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি ফুটে উঠেছে। সেই সাথে স্পট-লাইটেও পৌঁছে গেছে ‘ডিআরএস’। ঘটনার প্রথমটি হলো তৃতীয় দিনের খেলা চলাকালীন। ৬৫ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে ইংল্যান্ড। একপর্যায়ে ৬ উইকেটে ২১৮ রানে পরিণতও হয় স্বাগতিকরা। এরপর ইয়ান বেলের সাথে জুটি বাঁধেন পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড। বেলের সাথে তাল মিলিয়ে স্কোর বোর্ডে ভালোই রান তুলছিলেন ব্রড। তবে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসের ১১৮তম ওভারে ঘটলো নাটক। বোলার হিসেবে ছিলেন অভিষিক্ত অ্যাস্টন আগার, আর স্ট্রাইকে ব্যাট হাতে ছিলেন ব্রড। ঐ ওভারের শেষ বলটি ব্রডের ব্যাট ছুঁয়ে অসি উইকেটরক্ষক ব্র্যাড হাডিনের গ্লাভস স্পর্শ করে প্রথম স্লিপে দাঁড়ানো অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের হাতে জমা পড়ে। আর এটি আউট ছিল, কি-ছিল না তা নিয়ে বেশ সংশয়ের মধ্যে ছিলেন আম্পায়ার দার। ফলে ব্রডকে আউট দেননি তিনি। আর সেসময় ডিআরএসও শেষ হয়ে গিয়েছিলো অস্ট্রেলিয়ার। তাই ‘ডিআরএস’-ও নিতে পারেনি তারা। পরে টিভি রিপ্লে¬তে দেখা গেছে নিশ্চিতভাবেই আউট ছিলেন ব্রড। ‘ডিআরএস’ থাকলে সঠিক সিদ্ধান্তটিই পেতো দু’দল। এরপর শেষদিনে ‘ডিআরএস’ নিয়ে আবারো ঘটলো আরো একটি নাটক। জয়ের জন্য ৩১১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ২৩১ রানের মধ্যে ৯ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ হারের পথ তৈরি করে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু শেষ উইকেটে উইকেটরক্ষক ব্র্যাড হাডিন ও জেমস প্যাটিনসন বুক উঁচিয়ে লড়াই শুরু করে দেন। ফলে জয়ের খুব কাছেও পৌঁছে যায় অসিরা। কিন্তু জয় থেকে যখন ১৪ রান দূরে অস্ট্রেলিয়া, তখনই হাডিনকে আউটের ফাঁদে ফেলেন ম্যাচের সেরা ইংল্যান্ডের জেমস এন্ডারসন। ইনিংসের ১১০তম ওভারে এন্ডারসনের পঞ্চম বলটি হাডিনের ব্যাট স্পর্শ করে জায়গা করে নেয় ইংলিশ উইকেটরক্ষক ম্যাট প্রিয়রের গ্লাভসে। আর তাতে আউটের আবেদনও করেন স্বাগতিক খেলোয়াড়রা। কিন্তু ঐ আবেদনে সাড়া দেননি ম্যাচের আম্পায়ার পাকিস্তানী আলিম দার। কারণ তিনি মনে করেছেন ‘আউটি হয়নি। তবে ‘ডিআরএস’ থাকায় তা ব্যবহার করেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালিষ্টার কুক। ফলে আবেদনের সিদ্ধান্তটি দেয়ার ভার গিয়ে বর্তায় ম্যাচের তৃতীয় আম্পায়ার দক্ষিণ আফ্রিকার মারাইস ইরামুসের কাছে। কিন্তু ‘হট-স্পট’ ব্যবহার করেও কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারছিলেন না ইরামুস। বাধ্য হয়েই টিভির ‘অডিও-এনহ্যান্স’-এর সাহায্য নেন ঐ আম্পায়ার। তা থেকে স্পষ্টভাবে ইরামুস বুঝতে পারেন ব্যাট স্পর্শ করেছিল হাডিনের। ফলে হাডিনকে আউট ঘোষণা করেন তিনি। আর তাতেই ম্যাচ জয়ের আনন্দে ভাসে ইংল্যান্ড। তাই এ দুটি ঘটনা থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে, ‘সব সিদ্ধান্তই সঠিকভাবে দিতে পারবেন না আম্পায়াররা। তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডিআরএস-এর প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটির সঠিক ব্যবহারে সঠিক সিদ্ধান্তই পাবে দলগুলো।’ ‘ডিআরএস’-এর গুরুত্ব যে অনেক বেশি তা নটিংহ্যাম টেস্ট শেষে বেশ ভালোই বুঝতে পেরেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক কুক। তাই ম্যাচ শেষে ‘ডিআরএস’ নিয়ে তিনি বলেন, ‘ডিআরএস’ ব্যবহারে সঠিক সিদ্ধান্তটিই পাওয়া যায়। অতীতে ‘ডিআরএস’ নিয়ে কিছুটা সন্দেহ ছিল। কিন্তু তা নিয়ে এখন আর কোন সমস্যা বা সন্দেহ নেই। ম্যাচটি সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ‘ডিআরএস’ প্রয়োজন। এই বিষয়টি বেশ ভালোই বুঝতে পারে ম্যাচের দু’দল।’ তবে ‘ডিআরএস’ নিয়ে কিছুটা ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক, ‘আমার মনে হয় না, একটি ‘ডিআরএস’-এর কারণে পুরো ম্যাচের চিত্রপট পাল্টে যায়। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্রডের ঐ আউটটি হল, কি-হয়নি তাতে ম্যাচে কোন প্রভাব পড়েনি। আমাদের ম্যাচ নিয়েই সবচেয়ে বেশি ভাবা উচিত এবং ম্যাচ থেকে আমরা কি পেলাম তাও বিচার-বিশ্লে¬ষণ করা উচিত। আর ‘ডিআরএস’-এর ব্যবহারটি সম্পর্কে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে আমাদের। যাতে সঠিক সময়ে ঐ পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়।’ ১৩৬ বছরের টেস্ট ইতিহাসে প্রায় বেশিরভাগ ম্যাচেই স্বাগতিক দলের একজন আম্পায়ার ২২ গজে উপস্থিত থাকতেন। কিন্তু সামপ্রতিক সময়ে সেই নীতি থেকে সরে এসেছে আইসিসি। তারপরও ‘ডিআরএস’-এর প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বেশ ভালোভাবেই বাড়ছে। অন্য দেশের আম্পায়াররাও মাঠে উপস্থিত থেকে তা বেশ ভালোই বুঝতে পারছেন। তবে আজ অ্যাশেজের কারণেই যে বেশ রোমাঞ্চকর অবস্থায় ‘ডিআরএস’ তা কিন্তু স্বীকার করতেই হবে। - বাসস