মিরসরাই ট্র্যাজেডিতে ৪৫ জন শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর দুই বছর পরও গত মঙ্গলবার ঝুঁকি নিয়ে বাসের ছাদে চড়ে গৌরীপুরে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত উপজেলা পর্যায়ের বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবলের ফাইনালে খেলতে গেলো ক্ষুদে ফুটবলাররা।
খেলায় ট্রাইব্রেকারে গুজিখাঁ রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারিয়ে শেখ লেবু স্মৃতি পৌর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয়। বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টে জাগরণী পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বারুয়ামারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে ক্ষুদে শিক্ষার্থী ও ফুটবলাদের আসা-যাওয়ার জন্য নেই কোন বাজেট। বিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ও শিক্ষকদের পকেটই একমাত্র ভরসা। তাই বারুয়ামারী বঙ্গমাতা ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হলেও ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাধ্য হয়ে ৬/৭ কিলোমিটার রাস্তা বাসের ছাদে চড়ে আসতে হয়েছে। রাস্তার ওপরে বিদ্যুতের তার, গাছের ঢাল মরণ ফাঁদের মতো হলেও বিজয়ের উল্লাসে বাসের ছাদে চড়েছে ক্ষুদে ফুটবলাররা। পাশে নেই কোন অভিভাবক। উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এটা দায়িত্বজ্ঞানহীন অমানবিক মানুষের কাণ্ড। ৭১-এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সদস্য সচিব মো. মজিবুর রহমান ফকির বলেন, ছাদে শিক্ষার্থী ভ্রমণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আরেকটি মিরসরাই ঘটতে পারতো। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কোন বাজেট নেই স্বীকার করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জুনাইদ হাসান জানান, প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির দায়িত্ব ছিল শিক্ষার্থীদের নিরাপদে নিয়ে যাওয়া, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
