আলকানতারা বায়ার্নেই

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৩, ২১:৪০
থিয়েগো আলকানতারার প্রতিভা সম্পর্কে বায়ার্ন মিউনিখ সমর্থকরা ভালোই জানেন। বছর দুয়েক আগে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় অডি কাপের ফাইনালে পায়ের জাদুতে স্বাগতিক দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন তিনি। তবে সেটা ইউরোপ সেরা ক্লাবটির কোন উপকারে আসেনি। কারণ, আলকানতারার দুই গোলেই সেদিন বার্সেলোনার কাছে হার মানে বায়ার্ন। সেই ম্যাচের পরেই তখনকার বায়ার্ন কোচ ইয়াপ হেইঙ্কস ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, এই তরুণই ভবিষ্যতে ইউরোপের অন্যতম সেরা তারকায় পরিণত হবে। হেইঙ্কসের পূর্বানুমান কতটা সত্যি হবে সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে আগামী চার বছরের জন্য যে বায়ার্নই আলকানতারার সেবা পাচ্ছে সেটা নিশ্চিত হয়ে গেছে গত রোববারই। প্রায় দুই কোটি পঞ্চাশ লাখ ইউরোর বিনিময়ে এই স্প্যানিশ তারকা এদিনই যোগ দিয়েছেন ব্যাভারিয়ান ক্লাবটিতে। দিন কয়েকের মধ্যেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষাও সেরে ফেলবেন তিনি। এরপরই হবে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। চুক্তির মেয়াদ থাকবে ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। মাত্র দিনদুয়েক আগেই বায়ার্নের নবনিযুক্ত কোচ পেপ গার্দিওলা বলেছিলেন, এই মৌসুমে নতুন খেলোয়াড় হিসেবে শুধু নিজের ‘সাবেক শিষ্য’ আলকানতারাকে চান তিনি। তবে গার্দিওলার এই ইচ্ছা যে এত সহজে পূরণ হবে সেটা হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেননি। কারণ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডসহ বেশ কয়েকটি ক্লাবই এই তরুণ মিডফিল্ডারকে পেতে বেশ মরিয়া ছিল। তবে গুরুর পথ অনুসরণ করে শেষ পর্যন্ত বায়ার্নেই পা রাখলেন এই ২২ বছর বয়সী খেলোয়াড়। নিজের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত খেলোয়াড়টিকে দলে টানতে পেরে গার্দিওলাও ছিলেন দারুণ উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, ‘সে দুর্দান্ত, দুর্দান্ত একজন খেলোয়াড়। সে মিডফিল্ডে তিনটি, চারটি অথবা পাঁচটি ভিন্ন অবস্থানে খেলতে পারে। আমার মনে হয় সে আমাদের জন্য ভালো কিছুই নিয়ে আসবে।’ উল্লেখ্য, গার্দিওলাই প্রথম ষোল বছর বয়সী আলকানতারাকে বার্সেলোনার অতিরিক্ত একাদশে সুযোগ দিয়েছিলেন। অনূর্ধ্ব ২১ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা খেলোয়াড়টির বার্সেলোনা মূল দলেও অভিষেক ঘটে গার্দিওলার হাত ধরেই। সুতরাং, পুরনো শিষ্যের প্রতি গার্দিওলার এই ভালবাসায় অবাক হবার কিছু নেই। এদিকে কোচের আবদার মেটাতে পেরে খুশি বায়ার্ন সভাপতি কার্ল হেইঞ্জ রুমনিগেও। জার্মান কিংবদন্তি বলেন, ‘থিয়েগো আলকানতারা ছিলেন আমাদের নতুন কোচ পেপ গার্দিওলার সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত খেলোয়াড়। বড় ধরনের এই ট্রান্সফার চুক্তিটি সম্পন্ন করতে পেরে আমরা আনন্দিত।’