মেঘনা নদীতে জেলেদের নিকট থেকে জোরপূর্বক মাছ আনতে গিয়ে নাজেহাল হয়েছে কামরুল ইসলাম, আব্দুল কাদির, আলামিন, মো. নজরুল ইসলাম ও আবু কালাম নামে ৫ পুলিশ কনস্টেবল। গত শনিবার বিকেলে রায়পুরা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের নিলক্ষা ইউনিয়নের দড়িগাঁও গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। জানা গেছে রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়ন একটি দাঙ্গাপ্রবণ এলাকা। ঘন ঘন দাঙ্গা বন্ধ করার জন্য জেলা পুলিশ কর্তৃপক্ষ স্থানীয় দড়িগাঁও গ্রামে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করে।
এই ক্যাম্পের কর্তৃত্বে ছিলেন এসআই জাহিদ ও এএসআই আমিরুল। ক্যাম্প স্থাপনের পর থেকে ক্যাম্পের পুুলিশ এলাকার নিরীহ জেলেদের উপর অত্যাচার নিপীড়ন শুরু করে। প্রায় প্রতিদিনই পুলিশ মেঘনার পাড়ে গিয়ে জেলেদেরকে ডেকে কিনারায় এনে তাদের নৌকা থেকে জোরপূর্বক মাছ নিয়ে যায়। এভাবে প্রতিদিন জোরপূর্বক মাছ নেয়ার ঘটনায় এলাকায় জেলেদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। গত শনিবার উল্লেখিত ৫ জন কনস্টেবল নদীর ঘাটে গিয়ে জোরপূর্বক মাছ নেয়ার চেষ্টা করলে নদীতে মাছ শিকাররত জেলেদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে জেলেরা পুলিশের উপর চড়াও হয়। প্রায় অর্ধশত জেলে ও জনতা মিলে ৫ পুলিশ কনস্টেবলকে গণপিটুিন দিয়ে আটকে রাখে। পরে খবর পেয়ে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম ও নরসিংদীর সহকারী পুলিশ সুপার সার্কেল জহিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে জেলেদের বিচারের আশ্বাস দিয়ে কনস্টেবলদেরকে ছাড়িয়ে আনে। এ ব্যাপারে রায়পুরা থানার ওসি মাহমুদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান- পুলিশ মাছ কিনতে গেলে জেলেদের সাথে কিছুটা ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।
