খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

নারকেলের খোসায় পার্টিকেল বোর্ড

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৩, ১৯:৩০
বিশ্বজুড়ে সভ্যতার ক্রমবিকাশ ঘটছে প্রতিনিয়ত। বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামুলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষে প্রাকৃতিক সম্পদের যথেচ্ছা ব্যবহার ফলে পরিবেশের উপর পড়ছে নানারকম বিরুপ প্রভাব। চারিদিকে আজ নাভিশ্বাস। জলবায়ু পরিবরতনের দির্ঘমেয়াদি প্রভাব থেকে পরিত্রানের উপায় খুজছে বিশ্ববাসী। চলছে বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সম্মেলন, টেকশই উন্নয়নের ভাবনা। আসছে সবুজ অর্থনীতির কথা। বর্তমান সময়ে আলোচিত এই সবুজ অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ভোগবিলাস ও উন্নত জীবন যাপনে অভ্যস্থ মানুষের ব্যবহার্য বর্জ্যের পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলছে। আর এই বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই পরিবেশ দুষণ অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। একটু নাগরিক সুবিধার জন্য আবিস্কার ধারন করে নতুনত্বকে যা কাজে লাগায় প্রাকৃতিক সম্পদ। বিশ্বপ্রেক্ষাপট এখন অনেকটাই এমন। চীন ভারতের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উপরের সারিতে অবস্থানের অন্যতম কারন তাদের রিসাইকেলিং প্রযুক্তি ও উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সিমীত এবং এর যথাযথ প্রয়োগ নগণ্য। আমাদের সীমিত বনজ সম্পদের উপর বর্ধিত জনসংখ্যা চাপ বাড়তেই আছে। গাছ কাটা হচ্ছ অবাধে। কাঠের গুড়িকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে পার্টিকেল বোর্ড। যা দিয়ে দৃস্টিনন্দন সব ফার্নিচারসহ ইন্টেরিয়র ডিজাইনে ব্যবহার চোখে পরার মত। কিন্তু এভাবে প্রাকৃতিক সম্পদের ধ্বংস পরিবেশ সইবে আর কতদিন। এ অবস্থায় যদি নারকেলের ছোবড়া পার্টিকেল বোর্ডের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করা যায়। মন্দ কি! হ্যাঁ, এমনই আশার কথা শোনালেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এরশাদ আহমেদ, যিনি ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজী ডিসিপ্লিনের এম.এস-১০ ব্যাচের ফাইনাল পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.৬৯ নিয়ে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। আর গবেষণার মাধ্যমে দেখিয়েছেন কিভাবে নারকেলের খোসা থেকে পার্টিকেল বোর্ড তৈরি করা যায়। কয়ের (মেট্রেস) শিল্পের কাঁচামাল কয়ের ফাইবার আর বর্জ্য হিসেবে থেকে যায় প্রায় ৭০% কয়ের পিথ। এই কয়ের পিথকে উচ্চ তাপমাত্রায় ও উচ্চ চাপে (প্রায় ১০ মেগা প্যসঃ) কোন প্রকার কেমিক্যাল ছাড়াই পার্টিকেল বোর্ড তৈরি করা যায়। এখানে কয়ের পিথে বিদ্যমান লিগনিন (প্রায় ৬০%) বাইন্ডার হিসেবে কাজ করে। এছাড়া ইউএফ-রেজিন আঠা ব্যবহার করলে বোর্ডের গুণাগুণ আরো বৃদ্ধি পায়। এই বোর্ডের উত্পাদন খরচ ও পানি শোষন ক্ষমতা কম। সুতরাং এই বোর্ড হতে পারে সস্তা, টেকসই, শক্তিশালি এক নির্মাণ ও প্যাকেজিং দ্রব্য যা কাঠের বিকল্প এক শৈল্পিক কাঠ। আর কমাতে পারে আমাদের কাঠের উপর নির্ভরতা। একটু হলেও নিশ্চয়তা দিতে পারে আমাদের সামান্য বনভূমির নিরাপত্তা এবং রক্ষা করতে পারে জলবায়ু বিপর্যের হাত থেকে বিশ্ববাসীকে।