ঢাকা-রাজশাহী-খুলনা রেললাইনের গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থেকে টাংগাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ১৭২টি রেলক্রসিং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গত ৮ বছরে ঐ ঝুঁকিপূর্ণ রেলক্রসিংয়ে ও ট্রেনে কাটা পড়ে ২১০ জন নিহত এবং সহস্রাধিক আহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রেলক্রসিংয়ে ও গেটম্যান না থাকায় সম্প্রতি মির্জাপুর উপজেলার ডোকলাহাটি নামক স্থানে টেম্পো ও ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন নিহত এবং ৬ জন আহত হয়েছে। গত রবিবার এই রুটের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, গেটম্যান বিহীন রেলক্রসিং দিয়ে ঝুঁকির মধ্যে লোকজন ও যানবাহন পারাপার হচ্ছে।
এর আগে গত বছর মির্জাপুর উপজেলার সোহাগপাড়া-কলিমাজানি রোডের নয়াপাড়া নামক স্থানে ভটভটি ও ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে মহিলাসহ ৪ জন নিহত এবং ৮ জন আহত হয়েছে। গত ৮ বছরে ট্রেন দুর্ঘনায় নিহত ও আহতদের পরিবার পায়নি কোন ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের কোন শাস্তি হয়নি। গত রবিবার মির্জাপুর থেকে টাংগাইল পর্যন্ত বিভিন্ন রেলক্রসিং ঘুরে দেখা গেছে, ক্রসিংগুলো অরক্ষিত। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর উত্তরাঞ্চলের সংগে রাজধানী ঢাকার যাতায়াতের সুবিধার জন্য ২০০৪ সালে ১৪ এপ্রিল রাজশাহী-ঢাকা ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর কিছুদিন রেললাইন ও রেলক্রসিং ঝুঁকিমুক্ত থাকলেও কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে রেলক্রসিংগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে জয়দেবপুর থেকে রাজশাহী ও খুলনা পর্যন্ত ১৭২টি রেলক্রসিং অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
গেটম্যান না থাকায় কারণে ট্রেন যাওয়ার সময় গেট নামানো হয় না। ফলে প্রতিনিয়তই বাড়ছে দুর্ঘটনা। ইতিপূর্বে মির্জাপুরের মহেড়া, ডোকলাহাটি, কড়াইল, বহনতরী, ধেরুয়ায়, টাংগালের গারিন্দা, বাসাইলের নাটিয়াপাড়া ও এলাঙ্গায় বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনা হলেও আজ পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি এবং নিহত ও আহতদের পরিবার কোন ক্ষতিপূরণ পায়নি। জানা গেছে, ঐ রেললাইনের মৌচাক, নয়াপাড়া, বহনতুলী, করটিয়া ও এলাঙ্গা এই ৫টি ক্রসিং দেখাশুনার জন্য টাংগাইল জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে ২০০৯ সালে ১৫ জন গেটম্যান নিয়োগ দেয়া হয় ৩ হাজার টাকা মাসিক বেতনে। কিন্ত দীর্ঘদিন ধরে ঐ কর্মচারীরা বেতন-ভাতা না পাওয়ায় গত বছরের ১৫ জুলাই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ফলে ঐ রেলক্রসিংগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নয়াপাড়া রেলক্রসিংয়ের গেটম্যান বাদশা মিয়া, সফিউদ্দিন ও রোকসানা বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা না পেয়ে নিরূপায় হয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। পদত্যাগপত্র জমাদানের ২ দিনের ব্যবধানে গত বছরের নয়াপাড়ায় ভটভটি ও ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, গত ৮ বছরেও জয়দেবপুর-যমুনা সেতু পর্যন্ত রেলক্রসিংগুলোর কোন উন্নয়ন হয়নি।
এব্যাপারে রেলওয়ের পশ্চিম জোনের ইন,এন (সহকারী নির্বাহী অফিসার) সিদ্দিকুর রহমান ও পি ডাব্লিউডি আশরাফ উদ্দিন বলেন, রেলওয়ে বিভাগের নানা সমস্যার কারণে গেটম্যান নিয়োগ ও গেট দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে জনগণকে পারাপারে সচেতন হতে হবে বলে তারা দাবি করেন। এছাড়া অচিরেই বিভিন্ন রেলক্রসিংয়ে জনবলে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তারা।
