সা ফ অ নূ র্ধ্ব-১৬ চ্যা ম্পি য় ন শি প

নেপালে ভালো করাই বাংলাদেশের লক্ষ্য

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৩, ২১:৩৪
আগের চাইতে ভাল করার লক্ষ্যে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দল আজ নেপালে যাচ্ছে। প্রতিযোগিতার প্রথম আসরে গেলবার শেষ চারে পৌঁছেছিল বাংলাদেশের ছেলেরা। নেপাল যাওয়ার আগে গতকাল সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রস্তুতি ম্যাচে ১-০ গোলে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘকে হারিয়ে ঢাকায় অনুশীলন পর্ব শেষ করল বাংলাদেশের ছেলেরা। জুনিয়র ফুটবলারদের নিয়ে ২০ জুলাই কাঠমান্ডুতে শুরু হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ফিকশ্চার না হওয়ায় এখনো বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নির্ধারণ হয়নি। ফরম্যাট ঠিক হয়েছে, দু’-একদিনের মধ্যে ফিকশ্চার চূড়ান্ত হবে বলে জানা গেছে। ৩০ জুলাই ফাইনাল হবে দশরথ স্টেডিয়ামে। সাবেক ফুটবলার গোলাম রাব্বানী ছোটন অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল প্রাথমিক দলটাকে বাছাই করে আনলেও প্রস্তুতির শেষ দিকে এসে জাতীয় দলের সহকারী কোচ ডাচ রেনে কেস্তারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বাফুফের ডেভেলপম্যান্ট কমিটির পছন্দ রেনে বাংলাদেশের ছেলেদের তালিম দেবেন। সেভাবেই ডাচ কোচ কয়েকদিন অনুশীলন করিয়ে বড় ভুলগুলো শুধরাতে চেষ্টা করেছেন। কতটা পেরেছেন তা নিয়ে গতকাল প্রশ্ন উঠেছিল রেনের সামনে। রেনে বলেছেন অল্প সময়ে যতটুকু করা যায় সেটাই করতে চেষ্টা করেছেন তিনি। রেনে বলেন, ‘আরো আগে দায়িত্ব পেলে এখনকার চেয়ে ভিন্ন একটা দল গড়তে পারতাম। এখন তো আর বেশি কিছু করা সম্ভব না।’ খেলোয়াড়দের সম্পর্কে রেনে কেস্তার আরো বলেন, ‘কয়েকজন ভালো মানের ফুটবলার রয়েছে এই দলে। চেষ্টা করছি, দেখি কি হয়।’ রেনে কেস্তারের পরিকল্পনা যাই হোক না কেন, খেলোয়াড়দের মধ্যে একটা চেতনা কাজ করছে। অন্তত ওদের কথায় সেরকমই মনে হচ্ছে। তারা এই সফরটিকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিতে চান। তাদের কথা হচ্ছে ‘বড়দের যেমন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ হচ্ছে আমাদেরও সেটাই হচ্ছে। দেশের ফুটবল অনুরাগীরা বড়দের সাফ নিয়ে ভাবে। জুনিয়রদের সাফ নিয়ে ভাবে না।’ এজন্য চাই একটা ভালো রেজাল্ট। বিকেএসপির নবম শ্রেণির ছাত্র সাইফ সামসাদ কোনো রাখঢাক না করেই বললেন, ‘আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে খেলতে চাই।’ নারায়ণগঞ্জের ছেলে শাওন হোসেন অনূর্ধ্ব-১৩ ফুটবল দলের হয়ে ইরানে গিয়েছিলেন। অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবল দলের হয়ে জাপানে গিয়েছিলেন। তার মতে-‘আমাদের দলে কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড় রয়েছেন যারা ভালো খেললে আমরা রেজাল্ট পেতে পারি।’ খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বলে মনে হচ্ছে। সবার কথায় মনোবল আছে। আতিকুজ্জামান মোহামেডানের জুনিয়র দলের ডিফেন্ডার। তিনি বলেন,‘ কোচ ছোটন ভাই যেভাবে অনুশীলন করিয়েছেন ডাচ কোচও সেভাবেই করাচ্ছেন। তাদের দু’জনের অনুশীলনের ধরন একই।’ পারফরম্যান্স নিয়ে যেমন সব চেষ্টা হয়েছে তেমনি বয়স নিয়েও বাফুফে খুব সাবধান ছিল। বয়স নিয়ে প্রতিবারই সমালোচনা হয়। বাংলাদেশ এব্যাপারে খুব সতর্ক থাকলেও অন্য দেশগুলো বয়স চুরি করে। নিজেরা সতর্ক থাকলেও বিদেশের মাটিতে খেলতে গিয়ে দেখা গেছে প্রতিপক্ষ দলে খুঁজে পাওয়া যায় বেশি বয়সের খেলোয়াড়। বাংলাদেশের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে বয়স নির্ধারণের জন্য মেডিক্যাল টেষ্ট করানো হয়েছে। এবার নিয়ে দ্বিতীয় বার সাফ খেলছে বাংলাদেশের ছেলেরা। ২০১১ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত প্রথম আসরে বাংলাদেশ সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয়। পাকিস্তানের কাছে ২-০ গোলে হেরে ছিল বাংলাদেশের ছেলেরা। গ্রুপ ম্যাচ বাংলাদেশ ৬-২ গোলে শ্রীলংকাকে হারিয়েছিল। নেপালের সাথে গোল শূন্য ড্র করে। তৃতীয় নির্ধারণী ম্যাচে নেপালের কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দল। খেলোয়াড় :পাপ্পু হোসেন, ইয়াসিন আলী রাসেল, সাইদুর রহমান, জাহাঙ্গির আলম সজিব, বিশ্বনাথ ঘোষ, টুটুল বাদশা, আতিকুজ্জামান, রহমত মিয়া, শাওন হোসেন, রকিব হাসান, তরিকুল ইসলাম, আলামিন, মোজাফফর হোসেন বাবু, মিঠুন সরকার, লেমন আক্তার, রবিউল হাসান, অভি চন্দ্র দাস, অনিক হোসেন, আলামিন তুষার, সাইফ সামসুদ সানসু, আরিফুর রহমান, জুয়েল এবং মিনহাজ আহমেদ রায়হান। কোচ : রেনে কেস্তার, গোলাম রাব্বানী ছোটন। সহকারি কোচ :পারভেজ বাবু।