অনুপ্রেরণার নতুন উত্স

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৩, ২১:৩৯
সেই আদিকাল থেকে অবিবাহিত মানুষের কাছে এক রহস্যের নাম—বিয়ে! কেউ বলেন, বিয়ে করাই জীবনের সেরা কাজ; আবার কেউ বলেন, বিয়ে করেছ তো মরেছ! তবে জাতীয় দলের পেসার নাজমুল হোসেনের সঙ্গে আলাপ করলে প্রথমটাকেই সত্যি বলে মনে হবে। বিয়ের প্রসঙ্গ উঠতেই শুনশান মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের একপাশ যেন আলোকিত হয়ে গেল নাজমুলের হাসিতে। ইনজুরি, দলে ঠাই না পাওয়ার সব কষ্ট একবারে ঝেড়ে ফেলে বললেন, ‘আমার কাছে তো মনে হচ্ছে, বিয়ে করাটা মানুষের জন্য খুব দরকারী একটা ব্যাপার। আগে ব্যাচেলর থাকবে আমার সব কষ্ট একা একা ভোগ করতে হতো। কারো সঙ্গে মন খুলে কথা শেয়ার করতে পারতাম না। এখন নিজের আর কোনো কষ্ট চেপে রাখতে হয় না। জীবনসঙ্গীনি তো আর এমনি এমনি বলে না।’ কষ্টের কথা ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য নাজমুলের যে একজন জীবনসঙ্গীনি দরকার ছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। নিরপেক্ষ বিচারে বাংলাদেশের সবচেয়ে দূর্ভাগা ক্রিকেটারের নাম সম্ভবত নাজমুল হোসেন। দলে সুযোগ পেলেই বলার মতো পারফরম্যান্স করেন। তারপরই হয় ইনজুরি, না হয় তারকাদের দলে ফেরা; যে কোনো এক উপলক্ষে বাদ পড়তে হয় তাকে। ফলে নাজমুলের কষ্টের সীমা-পরিসীমা থাকার কথা নয়। এবার অবশ্য নাজমুল নিজের এই ভাগ্যটাকেই বদলানোর মিশনে নেমেছেন। সর্বশেষ শ্রীলঙ্কা থেকে যে ইনজুরি নিয়ে ফিরেছেন, অস্ত্রপচারের পর সেটাকে আস্তেধীরে কাটিয়ে উঠছেন। নিজেই আশা করছেন, মাস খানেকের মধ্যে পুরোপুরি ম্যাচ ফিটনেস ফিরে আসবে তার। আর এবার একবার সুযোগ পেলে জায়গাটা আর হাতছাড়া করতে চান না কিছুতেই, ‘দূর্ভাগ্য তো আছেই। তারপরও আমি মনে করি, নিজেকে ফিট রাখতে পারলে, খুব ভালো পারফরম করতে পারলে দলে নিয়মিতই হওয়া সম্ভব। এবার আমি নিজেই এই চ্যালেঞ্জটা নিয়েছি। আশা করি, সেটা করতে পারবো।’ অবশ্য এই চ্যালেঞ্জে সফল হওয়ার পথে নাজমুল একটা ভালো সুযোগ নিতে পারছেন না। পুরোপুরি ফিট হয়ে না ওঠায় ‘এ’ দলের সঙ্গে ইংল্যান্ড যাওয়া হচ্ছে না তার। অবশ্য নির্বাচকরা খুব করে চাইছিলেন, নাজমুলসহ ইনজুরি থেকে সেরে উঠতে থাকা পেসাররা অন্তত ইংল্যান্ড সফরটা করে আসুন। তাদের ইচ্ছে ছিল ইনজুরি থেকে সেরে উঠতে থাকা মাশরাফি বিন মুর্তজা, নাজমুল হোসেন, রবিউল ইসলামদের এই সফরে পাঠানো। মাশরাফি যেতে পারছেন না বা যেতে চাইছেন না। রবিউলের পাসপোর্ট বিসিবি ভিসার জন্য নিলেও তিনিও নতুন করে ইনজুরিতে পড়েছেন। আর নাজমুল নিজেই বলছেন, তার পক্ষে যাওয়া সম্ভব হবে না, ‘আমার গেলে খুব উপকার হত। প্রিমিয়ার লিগ কোনো কারণে না হলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের আগে তো আর ম্যাচ পাওয়াই কঠিন হবে। কিন্তু চিকিত্সকরা মনে করছেন, ইংল্যান্ড ট্যুরেই ম্যাচ খেললে সেটা আমার জন্য ঝুকি হয়ে যাবে।’ এই ঝুকি না নিয়ে নিজেকে ফিট রাখাটা জরুরী মনে করছেন নাজমুল। অন্তত বারবার ইনজুরি যে তার ফেরাটাই পিছিয়ে দিচ্ছে, সেই ইনজুরিকে আরেকবার ডেকে আনতে চান না। ইনজুরি আর টিম কম্বিনেশনের এই যে গোলকধাঁধায় তার ক্যারিয়ার কাটছে, এই চক্র থেকে মুক্তি পাওয়াটাই এখন নাজমুলের মূল স্বপ্ন। সেই ২০০৪ সালে অভিষেকের পর থেকে এ পর্যন্ত এই চক্রে পড়ে মাত্র ৩৮টি ওয়ানডে খেলতে পেরেছেন নাজমুল; উইকেট পেয়েছেন ৪৫টি। তারপরও নিয়মিত হতে না পারায় নিজেই মাঝে মাঝে হতাশ হয়ে পড়েন। তবে হতাশাটা ধরে রাখতে চান না, ‘মাঝে মাঝে তো হতাশ লাগেই। মনে হয়, ভাগ্যটাই পক্ষে নেই। কখনো ইনজুরিতে পড়ে সময়মতো ফেরা হয় না, কখনো আবার টিম কম্বিনেশনের কারণে চান্স পাই না। তবে আমরা পেশাদার ক্রিকেটার। এ নিয়ে বেশিদিন হতাশ হয়ে থাকলে তো চলে না। এসবের মধ্যেও টিমে স্থায়ী হওয়ার জন্য পরিশ্রম করে যাওয়াটাই আমার কাজ।’