ইংলিশ ক্লাব ফুলহ্যামের নতুন মালিক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত শাহিদ খানকে তার শিকড়ের দিকে দৃষ্টি দিতে বলেছেন পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশনের (পিএফএফ) কর্মকর্তারা। তারা একই সঙ্গে দেশটির তরুণ প্রতিভাদের গড়ে তুলতেও এই অনাবাসী পাকিস্তানির সাহায্য কামনা করেছেন।
পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর লাহোরে জন্ম নেয়া শাহিদ গত শুক্রবার প্রায় ৩০ কোটি ডলারের বিনিময়ে কিনে নেন ফুলহ্যামের মালিকানা। ক্লাবের সাবেক মালিক মোহাম্মদ আল ফায়েদের দাঁড় করানো ভিত্তির উপর আরো ভালো কিছু করার প্রতিশ্রুতি দেন শাহিদ। আমেরিকার ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) দল জ্যাকসনভাইল জাগুয়ারসের মালিক শাহিদের ‘ফুলহ্যাম প্রীতি’তে নাকি ফায়েদ মুগ্ধ। মিশরীয় ব্যবসায়ী ফায়েদ জানিয়েছেন, তিনি নিশ্চিত শাহিদের হাত ধরে ফুলহ্যাম অনেক দূর যাবে। আর পিএফএফ’র বিপণন প্রধান সরদার নাভিদ হায়দারের আহবান ফুলহ্যামের সেই অগ্রযাত্রায় শাহিদ যেন সুযোগ দেন পাকিস্তানি খেলোয়াড়দেরও।
নাভিদ হায়দার বলেন, ‘আমরা তার সাথে যোগাযোগ করে তাকে পাকিস্তানে আনার চেষ্টা করছি। আমাদের দেশে যে উঠতি প্রতিভাগুলো আছে সেগুলো সম্পর্কে তাকে জানানোই আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা চাই আমাদের তরুণদের ফুলহ্যাম একাডেমীতে সুযোগ দিতে।’
সত্তরের দশক পর্যন্ত এশিয়ার ফুটবল খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ছিল ভাল। তবে সরকারি সাহায্যের অভাব এবং ক্রিকেটের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে পিছিয়ে দেয় ফুটবলকে।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে ১৬৭ নম্বর অবস্থানে থাকা দেশটি পিছিয়ে আছে ফিলিস্তিন, বারমুডা, সলোমন আইল্যান্ড থেকেও। তবে হায়দারের দাবি উন্নতির রেখা দেখতে পাচ্ছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই যথেষ্ট পরিমাণ তরুণ প্রতিভা আছে। আমাদের অবকাঠামোর দিকে তাকালেই বোঝা যাবে অনূর্ধ্ব -১৬ এবং অনূর্ধ্ব ১৪ দলগুলো কেমন করছে। আমরা নেপালে ২০১১ সালে দক্ষিণ এশিয়া অনূর্ধ্ব-১৬ টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছি।’
ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত পাকিস্তানি ডিফেন্ডার জেশ রেহমান ফুলহ্যামের পক্ষে বেশ কয়েকটি মৌসুম ভাল খেলেছেন । হায়দারের দাবি, জেশের মতো আরো বহু পাকিস্তানি ফুলহ্যামের পক্ষে মাঠ মাতানোর ক্ষমতা রাখেন। তিনি বলেন, ‘যদি (শাহিদ) খান পাকিস্তানে তার স্কাউট পাঠান তাহলে তারা আমাদের প্রতিভাগুলোকে পরখ করে দেখতে পারেন। এরপর তারা যদি ফুলহ্যামে অনুশীলনের কোন সুযোগ পায় তাহলে সেটা হবে দারুণ। এটা আমাদের জন্যও দারুণ একটা সুযোগ হবে। খেলোয়াড়রাও এমন সম্ভাবনার কথা ভেবে উল্লসিত।’
আমেরিকার নাগরিক শাহিদ ফোর্বস ঘোষিত সবচেয়ে ধনী আমেরিকানদের তালিকায় আছেন ১৭৯ নম্বরে। তার সম্পদের পরিমাণ ২৫০ কোটি ডলারেরও বেশি। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পাকিস্তান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো শাহিদের হাত ধরে ফুলহ্যাম সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদী হায়দার।
তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের ফুটবল ভ্রাতৃত্বের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে একজন পাকিস্তানি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের একটি বড় ক্লাবের মালিক। আমাদের বিশ্বাস তার অধীনে ফুলহ্যাম আরো সফল একটা দলে পরিণত হবে।
