প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে যোগ দেয়ার পর ক্লাবের হয়ে গত মঙ্গলবার নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনেও অংশ নেন এই মুহূর্তে ফ্রেঞ্চ লিগের সবচেয়ে দামি তারকা এডিনসন কাভানি। নতুন ক্লাবে আরেক স্ট্রাইকার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের সঙ্গে দুর্দান্ত এক ফরোয়ার্ড লাইন আপ গড়ে তোলারই স্বপ্ন দেখছেন তিনি। পিএসজিতে আসার কারণসহ এমন বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন ফরাসি লিগের নতুন ট্রান্সফার রেকর্ড গড়ে নাপোলি থেকে লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে যোগ দেয়া কাভানি।
পজিশন, শারীরিক আকৃতি, চুলের স্টাইল প্রভৃতি বিষয়ে মিল আছে দুজনের। তবে এই মুহূর্তে কাভানি আর ইব্রাহিমোভিচের মধ্যে সবচেয়ে বড় মিল হচ্ছে দুজনেই খেলছেন একই ক্লাবে। আর সুইডিশ এই তারকার সঙ্গে দারুণ এক জুটিই গড়ার সম্ভাবনায় রোমাঞ্চিত কাভানি। পার্ক দেস প্রিন্সেসে গত মঙ্গলবার পাঁচ বছরের আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই উরুগুইয়ান বলেন, ‘আমি জানি সে (ইব্রাহিমোভিচ) একজন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। তার সঙ্গে খেলাটা হবে দারুণ একটা ব্যাপার। সে আমাদের সাথে আছে এটা ভাবতেই ভালো লাগছে। আশাকরি তার সাথে আমার জুটিটা দারুণ জমবে।’
তবে কাভানিকে কেনার অর্থই হচ্ছে ক্লাব ইব্রাহিমোভিচকে ছেড়ে দেবে। দলবদলের বাজারে চলছে এমন গুঞ্জনও। পিএসজি ছেড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অথবা রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিতে পারেন এমন সম্ভাবনাও ভাসছে বাজারে। তবে ক্লাব সভাপতি নাসির আল খেলাফি কিন্তু কাভানির আশার পালেই হাওয়া যোগালেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জ্লাতানের সঙ্গে খেলানোর জন্যই কাভানিকে কিনেছি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা কোচের হাতে। আমরা আমাদের লক্ষ্য থেকে মোটেই সরছি না। আগামী চার বছরের মধ্যে আমরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে চাই।’
কাভানির ছয় কোটি চল্লিশ লাখ ইউরোর ট্রান্সফার ফির অঙ্কটা মোটেই চমক হয়ে আসেনি কারো কাছেই। কারণ, ২৯ গোল করে গত মৌসুমে সিরিএ’র সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া কাভানির দিকে নজর রাখছিল ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলো। ২৬ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে শোনা যাচ্ছিল স্পেন এবং ইংল্যান্ডের নামও। শেষ পর্যন্ত অবশ্য রেকর্ড গড়েই ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের সাথে যোগ দিলেন ঝাকড়া চুলের এই তারকা।
কাভানির আগে লিগ ওয়ানের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়ের রেকর্ডটি ছিল র্যাদামেল ফ্যালকাওয়ের দখলে। মাত্র দিনকয়েক আগেই অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ থেকে ছয় কোটি ইউরোর বিনিময়ে মোনাকোতে যোগ দেন এই কলাম্বিয়ান স্ট্রাইকার। শুধু ফরাসি লিগই নয়, সর্বকালের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়দের তালিকায়ও কাভানির অবস্থান এখন চার নম্বরে। তার ওপরে আছেন শুধু তিন রিয়াল মাদ্রিদ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, জিনেদিন জিদান এবং কাকা।
‘দ্য ম্যাটাডোর’ ডাকনামে পরিচিত উচ্ছ্বসিত কাভানি সংবাদ সম্মেলনে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এই ট্রান্সফারের পেছনে যারা কাজ করেছে তাদের সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই। এটি ছিল বিশাল একটি ব্যাপার।’
২০০৭ সালে মাত্র পঞ্চাশ লাখ ইউরোর বিনিময়ে পালেরমোতে যোগ দেয়ার মাধ্যমে ইউরোপ অভিযান শুরু করা কাভানির উচ্ছ্বাস যেন বাঁধ মানছিল না। তিনি বলেন, ‘অনেক আনন্দ, আত্মবিশ্বাস, গোল ক্ষুধা আর শিরোপা জেতার তাড়না নিয়েই আমি এখানে এসেছি। এই শহরের মানুষ এবং (পিএসজি) সমর্থকদের উদ্দেশে আমার বার্তা হচ্ছে, এই লক্ষ্যগুলো পূরণের তীব্র ইচ্ছা নিয়েই আমি এখানে এসেছি।’
পিএসজিতে যোগ দেয়ার কারণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে কাভানি আরো বলেন, ‘এটা (ট্রান্সফার) ছিল অনেক ব্যয়বহুল এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী একটা বিষয়। আমিও নিজেকে তেমনটাই ভাবতে পছন্দ করি। আমার বিশ্বাস একজন খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে আরো ভালোভাবে গড়ে তুলতে এই বিষয়টি আমাকে সাহায্য করবে।’
কাভানিকে দলে টানতে পেরে উচ্ছ্বসিত ক্লাব সভাপতি নাসের আল খেলাফিও। তিনি বলেন, ‘সবাই তাকে চায়, কিন্তু সে চুক্তি করেছে আমাদের সাথে। সে ইটালিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিল। আমার আশাবাদ, এই মৌসুমে আমাদের হয়ে সে আরো ভাল কিছু করবে।’
এদিকে কাভানিকে চুক্তিবদ্ধ করানোর মধ্য দিয়েই পিএসজির স্পোর্টিং ডিরেক্টরের ভূমিকায় দুই বছরের ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন সাবেক ব্রাজিলিয়ান তারকা লিওনার্দো। এ বছরের মে মাসে ভালেনসাইনেসের বিরুদ্ধে ক্লাবের একটি ম্যাচে রেফারিকে ধাক্কা মারার দায়ে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় লিওনার্দোকে। তাই পিএসজি থেকেও অব্যাহতি নিচ্ছেন তিনি। তবে বিদায় বেলায় তার সঙ্গী হলো খেলাফির শুভাশিষ। ইউরোপের বেশ কয়েকজন শীর্ষ তারকাকে পিএসজিতে আনার নেপথ্য নায়ক হিসেবে কাজ করা লিওনার্দোকে ধন্যবাদ জানিয়ে খেলাফি বলেন, ‘লিও’কে বিশাল একটা ধন্যবাদ জানাতেই হয়। গত দুই বছর ক্লাবের হয়ে সে দারুণ কাজ দেখিয়েছে।’
