কথা ছিল জাতীয় দল ও ‘এ’ দলের খেলোয়াড়রা মিলে খেলবেন অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত খেলাটা ‘মিরপুরবাসী জাতীয় ক্রিকেটার’ বনাম অনূর্ধ্ব-২৩ দল হয়ে গেল! হরতালের কারণে জাতীয় দলের বাকী ক্রিকেটাররা আসতে পারবেন কি না, এই অনিশ্চয়তায় মিরপুর ও তার আশপাশে যারা থাকেন; তাদের ভেতর থেকেই একটা দল করে নামিয়ে দেয়া হল। অবশ্য সেই উত্তরা থেকে সাত সকালে এসে ‘মিরপুরবাসী’র সঙ্গে যোগ দিয়ে ফেললেন জাতীয় দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।
কিন্তু মুশফিকুর রহিম দলে যোগ দিয়ে, নিজে সামনে থেকে একটা চোখ ধাঁধানো ইনিংস খেলেও শীর্ষ ক্রিকেটারদের হার এড়াতে পারলেন না। যুব দলের দুই ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাস ও সাব্বির রহমান রুম্মন অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে এনে দিলেন ৩ উইকেটের জয়। সেঞ্চুরি করে বড়দের বিপক্ষে জয়ের পথে নেতৃত্ব দিয়ে লিটন রইলেন দিনের আলোচনায়।
ম্যাচটা অবশ্য এই জয়-পরাজয়ের জন্য খুব আলোচনায় থাকার ম্যাচ নয়। এটা মূলত ছিল তিনটি জাতীয় দলের সফরের আগে খেলোয়াড়দের ঝালিয়ে দেখার একটা সুযোগ। সে সুযোগের জন্য নির্বাচকরা যাদের চাইছিলেন, তাদের সবাইকেই অবশ্য পেয়ে গেলেন। ‘এ’ দলের হয়ে জাতীয় ক্রিকেটারদের যাদের পাঠাতে চান; তারা মোটামুটি সবাইই মাঠে নামলেন। আর সিঙ্গাপুরগামী অনূর্ধ্ব-২৩ দল তো থাকলই। এরপর আরো দুটি ম্যাচ হওয়ার কথা। সেখানে অনূর্ধ্ব-২৩ ও ‘এ’ দলের প্রতিপক্ষ হবে অনূর্ধ্ব-১৯ দল। গতকাল অবশ্য প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা সব ক্রিকেটারকেই অল্প সময়ের জন্য হলেও ম্যাচে পরখ করে দেখা। টানা ক্যাম্পে কতোটা উন্নতি হচ্ছে, সেটা বোঝা। কিন্তু হরতালের কারণে শাহরিয়ার নাফীস, আব্দুর রাজ্জাক, ইলিয়াস সানীদের ছাড়াই নামতে হল মুশফিকের দলকে। এদিকে চোটের কারণে খেলতে পারলেন না ‘এ’ দলের জন্য বিবেচনায় থাকা রবিউল ইসলামরা। আবার চোখে ভাইরাস আক্রমণ করায় নাসির হোসেনও দর্শক হয়ে রইলেন। এরা সবাই অবশ্য অ্যাকাডেমি মাঠে অনুশীলন করে পুষিয়ে নিলেন দুপুর থেকে।
আর সকাল থেকে আকরাম খান, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও হাবিবুল বাশার; তিন নির্বাচক তীক্ষ দৃষ্টিতে চেয়ে রইলেন তিন সফরের সম্ভাব্য খেলোয়াড়দের দিকে।
মুশফিকের দল থেকে নির্বাচকরা খুব আশার কিছু পেলেন, তা বলা যাবে না। দুই ওপেনার জহুরুল ইসলাম অমি (১৮) ও এনামুল হক বিজয় (২৫) ৪৩ রানের একটা উদ্বোধনী জুটি করে ভালো শুরু এনে দিয়েছিলেন তাদের। কিন্তু ৩ রানের ব্যবধানে দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দিয়ে অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে খেলায় ফিরিয়ে আনেন সৌম্য সরকার। এরপরই মূল দলের সবচেয়ে বড় জুটিটা আসে অধিনায়ক মুশফিক ও রকিবুলের কাছ থেকে। এই জুটিতে ৭৪ রান যোগ হওয়ার পর আউট হন ৩৫ রান করা রকিবুল। আর মুশফিক ৬৭ বলে ৭টি চারে সাজানো ৬০ রান করে আউট হন পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে; দল তখন ৫ উইকেটে ১৬৮। এখান থেকে দলকে ২৪৮ রানে পৌঁছে দেয়ার আসল কৃতিত্বটা জিয়াউর রহমান ও নাঈম ইসলামে। এই দু’জন সপ্তম উইকেটে ৫৬ রান যোগ করেন। নাঈম ২৭ বলে ২ চারে সাজানো ২৭ রান এবং জিয়া ৩০ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় সাজানো ৩২ রান করে আউট হন। ফলে ৯ বল বাকী থাকতেই ২৪৮ রানে অলআউট হয় মুশফিকের দল।
অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সৌম্য, আলাউদ্দিন বাবু ও তাইজুল ইসলাম ২টি করে উইকেট নেন।
জবাব দিতে নেমে ছোটদের শুরুটা যাচ্ছেতাই হয়েছিল। জাতীয় দলের দুই পেসার সাজিদুল ইসলাম ও রুবেল হোসেন দাপুটে শুরু করেন। ফলে ১৯ রান তুলতেই ৩ উইকেট এবং ৫৮ রান তুলতে ৪ উইকেট খুইয়ে বসে অনূর্ধ্ব-২৩ দল। এখান থেকেই অসামান্য এক জুটি করে দলকে বের করে আনেন সাব্বির ও লিটন। সাব্বির ৫৫ বলে স্বভাবসুলভ মারকুটে ৫৬ রানের এক ইনিংস খেলে ফিরে আসেন; ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ২টি ছক্কা। অন্য প্রান্তে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে ১০৩ বলে সেঞ্চুরি করে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত আউট হওয়ার আগে ১০৯ বলে ১৬টি চারে সাজানো ১১০ রান করেন লিটন। এরপর নুরুলের ৩৩ রানে নিরাপদে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অনূর্ধ্ব-২৩ দল।
