দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিভিন্ন সূচকের মধ্যেও কিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে। বিনিয়োগ ও শিল্পোত্পাদনে কিছু বাধা এবং ঝুঁকিও রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে সম্ভবত দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যাংকিং খাত। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এ কথা জানিয়েছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অর্থনৈতিক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। এমসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোতে কঠোর তদারকি প্রয়োজন। একই সঙ্গে এই খাতে শৃঙ্খলা বাস্তবায়নেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। গতকাল সোমবার এমসিসিআই ত্রৈমাসিক ওই পর্যালোচনায় প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।
গত কয়েক বছরের ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি অনেক বেশি আলোচিত। ফলে বিশাল অঙ্কের ঋণ অনাদায়ী হয়ে আছে। এসব কারণে ব্যাংকের সুদের হারও কমছে না বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে অনেকেই নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। সমস্যা সমাধানে বড় ঋণখেলাপিদের সুদের হার কমিয়ে ঋণ পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যদিও এই উদ্যোগ বড় ঋণ খেলাপিদের আরো উত্সাহিত করতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।
এমসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের অর্থনীতি এগুলেও সম্ভাবনা অনুযায়ী এগুতে পারেনি। অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার ঘাটতির কারণে নতুন বিনিয়োগ নিরুত্সাহিত হওয়া, বিদ্যুত্ ও জ্বালানির স্বল্পতা বর্তমানে অন্যতম বড় বাধা।
তবে গত দুই দশকের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে এমসিসিআই। আলোচ্য সময়ে দারিদ্র্য কমা ও মানুষের জীবনযাত্রার মানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক এ উন্নয়নের স্বীকৃতি মিলেছে। গত অর্থবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল সাত দশমিক ৮৬ শতাংশ আর চলতি অর্থবছর তা আট দশমিক ১৩ শতাংশ প্রাক্কলন করেছে সরকার। কৃষি তথা খাদ্য নিরাপত্তায় অগ্রগতি এ প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। এতসব অগ্রগতি সত্ত্বেও কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয় ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের তালিকায় যেতে হলে বিদ্যুত্ ও জ্বালানি স্বল্পতা, অবকাঠামো দুর্বলতা মোকাবিলা করে বিনিয়োগ বাড়ানোয় নজর দিতে হবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
