‘এ মাসের মধ্যে নির্বাচন ঘোষণা করা যাবে’

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৩, ২২:১০
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বিকল্প ভেন্যু ফতুল্লাহ খান সাহেব ওসমানী স্টেডিয়াম পরিদর্শনে গতকাল নারায়ণগঞ্জ গিয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে নির্বাচন ও প্রিমিয়ার লিগ নিয়েও কথা বললেন তিনি— ফতুল্লাহ স্টেডিয়াম কেমন দেখলেন? খেলার জন্য কী প্রস্তুত বলে মনে হল? এই মাঠ তো এটা পরীক্ষিত। এখানে অস্ট্রেলিয়া খেলে গেছে ২০০৬ সালে। তবে হ্যা, মাঝে অনেকদিন খেলা হয়নি বলে মাঠটাকে হয়তো আবার অনুমোদিত করতে হতে পারে। আপাতত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার জন্য আইসিসি এই মাঠ নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে গিয়েছিল, সেই অনুযায়ী কাজ করছি আমরা। তার মধ্যে ড্রেসিংরুম আছে; ওটার অবস্থা সন্তোষজনক। আমরা যে অবস্থা দেখেছি, তাতে আট-দশ দিনের মধ্যে ওটার কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। এর বাইরে একটা দোতলা বিল্ডিং উঠছে, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। এটা নিয়ে সংশয় ছিল। তবে আজ যা বুঝলাম, তাতে এটাও দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। তাহলে ফতুল্লা নিয়ে খুব একটা দুশ্চিন্তা নেই? না, আপাতত দুশ্চিন্তা আছে আউটার স্টেডিয়াম নিয়ে। এখানে প্র্যাকটিস হবে। এবার এসে দেখলাম, আউটার স্টেডিয়ামের অবস্থা খারাপ। শুনলাম, আড়াই ফুট পানির নিচে ছিল এই মাঠ; সুয়ারেজ সিস্টেমের জন্য। এটার জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন হোক, এলজিআরডি হোক বা ওয়াসা হোক; যে বিভাগই হোক, যারা এটার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এটা এনএসসিকে দায়িত্ব নিতে হবে। এই সুয়ারেজের স্থায়ী সমাধান কী হবে? এটার সমাধান তো করতেই হবে। আমরা এতো টাকা খরচ করবো এখানে স্টেডিয়াম উপলক্ষে। আর সেটা পানির তলে ডুবে থাকবে, এটা তো হতে পারে না। এটার স্থায়ী সমাধান হতে হবে। তাহলে ফতুল্লায় কী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ হচ্ছে? আমার ধারণা, নারায়ণগঞ্জবাসী এখানে খেলা দেখতে পারবেন। এটাকে আমরা বিকল্প মাঠ হিসাবে দেখাবো। প্র্যাকটিস ম্যাচ হবে এখানে। আর কোনো কারণে যদি আমাদের কোনো একটা ভেন্যু, সিলেট বা কক্সবাজারে খেলা চালাতে না পারলে এখানে বিশ্বকাপেরই খেলা হবে। ক্লাবগুলো প্রিমিয়ার লিগ আবার পেছাতে চাচ্ছে... আসলে প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে দুটো ব্যাপার হয়েছে। প্রথমত ক্লাবগুলো লিগটা কিছুদিন পেছাতে চাচ্ছে কারণ হচ্ছে, ওনারা কতোগুলো সাজেশন দিয়েছিল। প্লেয়ারদের গ্রেডিং নিয়ে ওনারা কিছু সাজেশন দিয়েছিল। সেটা তো আমরা অনেকের কাছ থেকেই সাজেশন নিয়েছি। তারপর আমরা নিজেদের থেকে একটা গ্রেডিং তৈরি করেছি। সমস্যা হল, এটা নিয়ে আর ওনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। ফলে ওনারা জানতে পারেননি, কী কী বদল হল। দ্বিতীয় আমাদের আগের দলবদলের ডেটটা হঠাত্ চেঞ্জ হয়ে গেছে। সেটা কেন হল, কিভাবে হল; এটাও তাদের নাকি জানানো হয়নি। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে বোর্ডে যাচ্ছি, সেখানে বসে নির্দিষ্ট ডেট ঘোষণা করে দেব। সেই মতোই লিগ হবে। তাহলে ২৫ জুলাই দলবদল হচ্ছে না? না, ২৫ জুলাই হচ্ছে না। আসলে এই বাইলজগুলো কী হয়েছে, আমিও দেখতে পাইনি। বোর্ডের একবার এটা দেখা দরকার। প্রিমিয়ার লিগের এই ব্যাপারটা কী তাহলে সিসিডিএম সামাল দিতে পারছে না? ব্যাপারটা এমন যে সিসিডিএম লিগ সামাল দিতে পারছে না। সত্যি কথা বলতে, এবার আসলে তো প্রিমিয়ার লিগ হওয়ার মতো পরিবেশ-পরিস্থিতি কিন্তু ছিলই না। একের পর এক টানা খেলা হচ্ছিল, খেলোয়াড়রা ইনজুরিতে ছিল, বাইরের ট্যুর ছিল; এতোকিছুর পর খেলোয়াড়দের দরকার ছিল বিশ্রাম। এরপর আবার টানা বৃষ্টি আর মাঠ নেই। গায়ের জোরে লোকেরা বলে, কেন খেলা হচ্ছে না? ভাই, এটা তো ওয়ার্ল্ড কাপ। আমাকে মাঠ ঠিক করতে হচ্ছে। এখন এই অবস্থায় খেলতে গিয়ে আমার ছেলেরা যদি ইনজ্যুরড হয়, সেটা ইমপর্টেন্ট নাকি লিগ? লোকেরা বলছে—বিশ্বকাপ হলে হবে, না হলে নাই; লিগ চালাতে হবে! এভাবে তো বোর্ড চলে না। ওনারা কি হিসাবে এসব কথা বলেন, তা ওনারা জানেন। কিন্তু কিছু খেলোয়াড়ের জন্য এটাই তো একমাত্র আয়ের উত্স... হ্যা, আমরা এই প্রিমিয়ারটা চাচ্ছি এই খেলোয়াড়দের কথাই চিন্তা করে। যদিও এখন অনেক খেলোয়াড়ের অনেক আয় করার সুযোগ হয়েছে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট থেকে। তারপরও কিছু খেলোয়াড় আছে, যারা নাকি বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত না, ওরা সব টুর্নামেন্ট খেলতেও পারে না; ওদের কথা চিন্তা করেই লিগটা করতে চাই। বিপিএলের জন্য গত বছরও সমস্যা হয়েছিল। বিপিএল আর প্রিমিয়ারের জন্য আসলে স্লটই আলাদা করা জরুরি। আমাকে বলতে বললে প্রিমিয়ার অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। নির্বাচন নিয়ে ঠিক কী অবস্থায় আছে বোর্ড? আমাদের প্রধান কাজই হল নির্বাচন দেয়া। কিন্তু নির্বাচন দিতে গেলে তো গঠনতন্ত্র লাগবে। আমার কাছে দুটো গঠনতন্ত্র আছে। হয় আমাকে ২০০৮ বা ২০১২ গঠনতন্ত্রে নির্বাচন করতে হবে। আমরা যখনই নির্বাচন করতে গেছি, ওনারা মামলা করেছেন। এরপর ওনারা কিছুদিন আগে একটা চিঠি দিয়েছেন, ২০০৮ এর গঠনতন্ত্রে নির্বাচন করতে। ২০০৮ সালের গঠনতন্ত্র আইসিসি কোনোভাবেই অনুমোদন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। একদিকে ওনারা মামলা করে নির্বাচন বন্ধ রেখেছেন। আরেকদিকে বলছেন, মামলায় ওনারা জিতে গেছেন, এখন কেন নির্বাচন দিচ্ছি না। এটাও কিন্তু অসত্য কথা। হাইকোর্টে রায়ে বলা হয়েছে, যে প্রক্রিয়ায় (গঠনতন্ত্রের) এই পরিবর্তনগুলো করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। আবার অ্যাপিলিয়েড ডিভিশন আবার এই রায় স্থগিত করেছে। কাজেই যেহেতু হাইকোর্টের রায় স্থগিত আছে, করা আছে, তাই ২০১২ সালের গঠনতন্ত্রই কিন্তু আবার বলবত্। কিন্তু আমি জানি, যেই নির্বাচন ঘোষণা হবে, আবার এটা নিয়ে তারা কোর্টে যাবে। তারপরও আমার দৃঢ় বিশ্বাস এ মাসের মধ্যে নির্বাচন ঘোষণা করা যাবে।