ডাচ কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ এবার জাতীয় দলের জন্য গোলকিপিং কোচ চেয়েছেন। কারণ অনুশীলন ক্যাম্প চালাতে গিয়ে তার মনে হয়েছে গোলকিপারদের দুর্বলতা রয়েছে। টেকনিক ভালো জানা নেই তাদের। ‘চেজিং’ ভালো না। এ নিয়ে তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজি সালাহউদ্দিনের সাথেও কথা বলেছেন। সমস্যা হচ্ছে ক্রুইফ চান তার স্বদেশী কাউকে।
এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাফুফে সভাপতি। গত বুধবার ক্রুইফ তার সাথে কথা বলে গোলকিপিং কোচ দাবির পাশাপাশি জানিয়েছেন তিনি কাকে আনতে চান সেটাও নাকি ঠিক করে রেখেছেন। এখন সবুজ সংকেত পেলে সম্ভাব্য এই ডাচ গোলকিপিং কোচ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। ক্রুইফের এই দাবিতে এখনো সাড়া দেননি দেশীয় ফুটবলের প্রধান ব্যক্তিটি।
জাতীয় দলের জন্য কোচিং স্টাফ থাকা জরুরি। ক্রুইফের দাবি কোনো ভাবেই অযৌক্তিক না, সেটা জেনেও বাফুফে সভাপতি বাস্তবতার সাথে তাল মিলিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। কারণ অর্থের সন্ধান তাকে একাই করতে হয়। ক্রুইফকে এখনো হ্যাঁ না কোনোটাই জানাননি তিনি। তারপরও বলেন,‘ক্রুইফের চাওয়া অনুযায়ী আজকেই লাগবে গোলকিপিং কোচ। ক্রইফ নাকি বলেছেন এখানকার গোলকিপাররা টেকনিক্যাল জ্ঞান শূন্য।’
গোলকিপিং কোচ থাকলে কি সুবিধা সেটা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বর্ণনা করে সাবেক গোলকিপার সান্টু, মোতালেবকে উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘দেখি কী করা যায়।’ জাতীয় ফুটবল দলের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে এখন গোলকিপার কোচ হিসাবে রয়েছেন সাবেক গোলকিপার জাহিদুর রহমান মিলন। তিনি সেরকম ‘স্পেশালিষ্ট’ নন। সামনে আছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, তার আগে পাকিস্তান এবং থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ। অক্টোবরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট। এ কারণে গোলপোস্টে দক্ষতা বাড়াতে চান কোচ।
ডাচ কোচ ক্রুইফ এবং তার স্বদেশী সহকারী রেনে কেস্তার দায়িত্ব নেয়ার পর তারা ফিটনেস কোচ চেয়েছিলেন। খেলোয়াড়দের ফিটনেস লেভেল চাঙ্গা করতে ডাচ ফিটনেস কোচ মোহামায়েত ইয়াম আলিকে আনা হয়েছে। এখন আরেকটি চাহিদার ফর্দ দিলেন ক্রুইফ। দুই কোচ ও ফিটনেস কোচের বেতন এবং অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে মাসে প্রায় অর্ধকোটি টাকার কাছাকাছি ব্যয় হচ্ছে। এই অবস্থায় আরো একজন সহকারী আনতে গেলে ব্যয় বাড়বে। সেটাই আপাতত বাফুফে সভাপতির দুশ্চিন্তার কারণ।
