তাড়াহুড়ো করেও শেষ পর্যন্ত পারলেন না। বাস ফার্মগেটের কাছে আসতে না আসতেই ইফতারের আযান। বাসা মিরপুর। কি আর করবেন! এখানেই নামলেন কবির হোসেন। মুখেতো একটু পানি দিতে হবে। রোজা খুলতে হবে। শুধু তিনি নন, তারমতো অনেকেই এখানে বাস থামিয়ে নেমেছেন ইফতার করতে।
এই চিত্র পথচারী রোজাদারদের। শুধু কি তারাই? অনেকেই আছেন যারা সারাদিন রোজা রেখেও কাজের দায়িত্বের জন্য ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও সুযোগ হয়ে ওঠে না পরিবারের সবার সাথে বাসায় বসে ইফতার করার। ইফতারের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার। ফলে পথেই সারতে হয় ইফতার।
কাওরানবাজারে হোটেল সোনারগাঁও মোড়ে ডিউটি করছেন পুলিশ কনস্টেবল মোস্তাফিজ ও সাহিদুর। সারাদিন রোজা রেখেছেন। এদিকে ডিউটি ফেলে সরারও উপায় নেই। তাই সোনারগাঁও হোটেলের সামনের বুথে বসেই ইফতার সারছেন। কি দিয়ে ইফতার করছেন? জিজ্ঞেস করতেই মোস্তাফিজ জানালেন, মুড়ি, ছোলা আর পিঁয়াজু দিয়ে।
পরিবার ছাড়া ইফতার করতে খারাপ লাগছে না? এমন প্রশ্নে জানালেন, লাগলেও কিছু করার নেই। রাত ১১টা পর্যন্ত এখানে ডিউটি করতে হবে বলেও জানালেন তিনি। কাওরান বাজারে টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টিভির পেছনের রাস্তায় চায়ের দোকানগুলোতে বেশ ভিড়। রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে পথচলতি মানুষ, কাওরান বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে ইফতার করেছেন।
রিকশাওয়ালা হেলাল জানালেন, তেজগাঁও, মগবাজার এলাকাতেই রিক্সা চালান তিনি। ইফতারের সময় যখন যেখানে থাকেন সেখানেই ইফতার করেন। ইচ্ছে করে পরিবারের সাথে ইফতার করতে; কিন্তু তা কি আর কপালে আছে? পরিবার থাকে গ্রামের বাড়ি শেরপুরে। ঈদের সময় সবার সাথে যেন থাকতে পারি, আল্লাহর কাছে এই দোয়া করি।
এই রাস্তার পেছনেই বিটিএমসি ভবন। এই ভবনের নিচে গোল হয়ে বসে ইফতার সারছেন ফুটপাতের উপর বসে কাপড় বিক্রেতা আব্দুর রশিদসহ বেশ কয়েকজন। বড় একটা লাল গামলায় মুড়ি, ছোলা, পিঁয়াজু, বেগুনি দিয়ে ইফতার মাখিয়ে একসাথে বসে সবাই খাচ্ছেন। রশিদ জানালেন, সেই প্রথম রোজার পর থেকেই এভাবে একসাথে তারা ইফতার করেন। এর সামনেই ফুটপাতে বসে একই রকম গোল হয়ে বসে ইফতার করছেন জাহাঙ্গীর, সিকিম, মোক্তার হোসেনসহ কয়েকজন। এরাও ইফতার করছেন সেই মুড়ি-ছোলা দিয়েই।
